ইস্তাম্বুলের চিঠি : আয়া সোফিয়ার আজানে ইস্তাম্বুল বিজয়ের আনন্দ

প্রকাশিত: ১১:১০ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৬, ২০২০

মাহফুজ বিন ফারুক : আয়া সোফিয়া তুরস্কের সাধারণ মুসলমানের কাছে অস্তিত্ব ও গৌরবের প্রতীক। এটাকে তারা ইস্তান্বুল বিজয়ের নিদর্শন মনে করে। আয়া সোফিয়া তুর্কি জনগণের রাজনীতিতেও প্রভাব বিস্তার করে আছে। আয়া সোফিয়ার মসজিদ হওয়া না হওয়ার প্রশ্নটি সেক্যুলার ও ইসলামপন্থীদের মধ্যে পার্থক্য করে দেয়। এটাকে এটাকে মসজিদে রূপান্তরকে সমর্থন করার অর্থ আমি সেক্যুলার নই!

মূলত আয়া সোফিয়াকে জাদুঘর করার সিদ্ধান্ত তুর্কি মুসলিমরা কখনো মেনে নেয়নি। আতাতুর্কের সময় থেকেই এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হয়ে আসছে। তুরস্কের বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিসেইপ তায়েপ এরদোয়ান ১৯৯৪ সালে ইস্তাম্বুল সিটির মেয়র থাকাবস্থায় তুরস্কের জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন-আয়া সোফিয়ায় আবার আজান হবে।

প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান শৈশব থেকেই আয়া সোফিয়ায় আজান হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। প্রতিটি তুর্কি মুসলিমের মনের আশা ছিল আয়া সোফিয়া আবার মসজিদ হবে এবং সেখানে আল্লাহর নামে সেজদা হবে।

১৯৯৪ সালে এরদোয়ান নিজের ও সাধারণ তুর্কি মুসলমানের স্বপ্নের কথা জনসম্মুখে প্রকাশ করেন। ১০ জুলাই ২০২০ আদালতের ঐতিসাহিক রায়ের মাধ্যমে সেই স্বপ্ন পূরণ হলো। তুরস্কের জনগনকে ২৬ বছর পূর্বে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করলেন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান।
১৯৩৪ সালে আয়া সোফিয়াকে মসজিদ থেকে জাদুঘরে রূপ দেয় তুরস্কের মোস্তফা কামাল পাশা। তুর্কি জনগণের মনে ৮৬ বছরে ধরে যা শূল হয়েছিল।

আয়া সোফিয়ায় আজার হওয়ার পর তুর্কি জনগণের প্রতিক্রিয়া হলো আমরা পাপ ও কলঙ্কের বোঝা থেকে মুক্ত হলাম। আমাদের অন্তর ভারমুক্ত হলো। আয়া সোফিয়াকে জাদুঘর করার পর তুর্কি মুসলমানের কষ্ট ও বেদনা উঠে এসেছে তুরস্কের ইসলামী জাগরণের অন্যতম কবি নাজিব ফাজিল কিসাকোরেকের কবিতায়।

তিনি বলেছিলেন, হে যুবকেরা! আয়া সোফিয়া আজ হোক, কাল হোক (একদিন) খুলবে! কেননা, এই দেশ টিকে থাকবে কি থাকবে না এমন সন্দেহ যারা করে তারাই আয়া সোফিয়া খুলবে কি খুলবে না এমন সন্দেহ করে! আয়া সোফিয়া খুলবেই, আর এমনভাবে খুলবে যে এই জাতির যারা ভালো চায় তারা।

গত ১০ জুলাই শুক্রবার জুমার আজান হওয়ার পর তুর্কি জনগণের উল্লাস দেখে মনে হয়েছে তারা শুধু আয়া সোফিয়া ফিরে পায়নি যেন ইস্তাম্বুল বিজয় হয়েছে মাত্র।৮৬ বছর পর আজান হওয়ার পর শত শত নারী পুরুষ এবং শিশু আয়া সুফিয়ার সামনের পার্ক এলাকায় তুরস্কের পতাকা হাতে নিয়ে আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ধ্বনিতে মুখরিত করে তুলেছে।

পরের দিনগুলোতে শত শত বিদেশি পর্যটক এবং স্থানীয় মানুষকে খোশ মেজাজে আয়া সোফিয়ার প্রাঙ্গণে। ছবি তোলা, ফেসবুক লাইভ করা এবং পারিবারিক আড্ডা কোন কিছু বাদ যায়নি। কেউ গ্রুপ সেলফি বা কেউ ফেসবুক লাইভ করছেন। মসজিদের আঙ্গিনায় যে পার্ক রয়েছে বৈশ্বিক করোনার কারনে মানুষের যাত্রা থমকে যাওয়ার চিত্র যেন যৌবনের শক্তি ফিরে পেয়েছে। কাউকে পারিবারিক আড্ডায় কাউকে আবার হাদীসের বৈঠক করতে দেখা গেছে। আজানের পর আগামীকাল আয়া সোফিয়ায় সেজদার জন্য অপেক্ষা করছে তুরস্কের মুসলিমরা।আল্লাহর দরবারে সিজদার মাধ্যমে আয়া সোফিয়ার বন্ধিত্ব চূড়ান্তভাবে ঘোঁচবে।

লেখক : গবেষণাকর্মী, ইস্তাম্বুল

আরও পড়ুন : 

যাদুঘর থেকে মসজিদে রূপান্তরিত হলো বিখ্যাত আয়া সোফিয়া

‘আয়াসোফিয়া’ তলোয়ার দিয়ে যারা জয় করেছে তারাই মালিক হবে : নুমান কর্তুলমুস

আয়াসোফিয়া নিয়ে কারও নাক গলানো মেনে নেওয়া হবে না : এরদোগান

মন্তব্য করুন