অপরাধ দমনে প্রশংসা কুড়িয়েছেন করোনাজয়ী ওসি জামাল উদ্দীন মীর

জনসেবায় পুলিশ

প্রকাশিত: ৩:১৯ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০২০

ডিএমপির কদমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি জামাল উদ্দীন মীর করোনায় আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ একমাস পর আবার কাজে ফিরেছেন নব উদ্যোমে।

ওসি জামাল উদ্দীন বলেন— করোনায় একমাস অফিস করতে না পেরে খুব খারাপ লেগেছে। জনগণের সুখ-দুঃখে পাশে থাকতে পারলেই নিজেকে সফল মনে হয়। কদমতলীর মানুষ আমাকে আপন মনে করে। বন্ধুর মতো তাদের সঙ্গে মিশি। আমি যেখানেই যাই, সেখানের পুরো এলাকা আমার পরিবার বানিয়ে নিই। তারাও আমাকে দোয়া ও ভালোবাসার সঙ্গে বরণ করেন। এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া।

  • মাদক নির্মূল, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বন্ধ-সহ সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে জনগণের বন্ধুরূপে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন রাজধানী ঢাকার কদমতলী থানার অফিসার ইন-চার্জ মোহাম্মাদ জামাল উদ্দীন মীর।

২০১৯ সালের ২০ জানুয়ারি ডিএমপি সদর দফতরের এক অফিস আদেশের মাধ্যমে মোহাম্মদপুর থানা থেকে কদমতলী থানায় আসেন জামাল উদ্দীন। তিনি মোহাম্মদপুরে থাকাকালীন সময়েও প্রসংশা কুড়িয়েছিলেন জনগণের কাছে। কদমতলী থানায় আসার পরও তাঁর সুনামের ধারা অব্যাহত রেখেছেন।

[নিজ কার্যালয়ে কর্মব্যাস্ত জামাল উদ্দিন মীর। ছবি : পাবলিক ভয়েস]

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন অন্তর্গত ১০.১৬ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই থানায় প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের বসবাস। থানাটি নিবিড়ভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।

কিশোরগঞ্জের সন্তান ওসি জামাল উদ্দিন মীরের প্রশংসনীয় কাজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— মাদক নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাস ও ইভটিজিং নির্মূলে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং বিভিন্ন সামাজিকসেবা।

এছাড়াও কদমতলী থানায় নিয়মতান্ত্রিক অভিযান পরিচালনা করা, মাদক নির্মূলে কঠোর ভূমিকায় ওসি জামাল উদ্দিন মীর ব্যক্তিগতভাবেও একজন সজ্জন ব্যক্তি। জনগণের সঙ্গে উদার ব্যবহার করা, সবার অভিযোগ-আবেদন মনোযোগ-সহকারে শোনা এবং জনগণকে খুব কাছ থেকে বিবেচনা করার ক্ষেত্রে তার জুড়ি মেলা ভার। মানুষের বিপদে আইনগত সহায়তা দেওয়ার জন্য তিনি একজন উপকারী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। পুলিশ জনগণের বন্ধু কথাটি যেন তার কর্মপরিচালনারই প্রতিচ্ছবি।

মাদক ও জঙ্গীবিরোধী অভিযানে তিনি বরাবরই প্রশংসিত হয়ে আছেন। মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী এক সমাবেশে তিনি বলেছিলেন, কদমতলী থানায় কোনো মাদক ব্যবসায়ী, জঙ্গি, ইভটিজিং থাকবে না। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। মাদক সংশ্লিষ্ট কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

[মাদক ও জঙ্গিবাদ বিরোধী এক সচেতনতামূলক কর্মশালায় বক্তব্য রাখছেন জামাল উদ্দিন মীর]

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের এই সময়ে এসে জনসাধারণের মাঝে করোনা বিষয়ক সচেতনতা তৈরীর লক্ষ্যে তিনি একাধিকবার বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। নিজে রাস্তায় নেমে মানুষের মাঝে করোনা সতর্কতার লিফলেট, মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করেছেন।

[সচেতনতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে রাস্তায় মানুষজনকে মাস্ক পরিয়ে দিচ্ছেন জামাল উদ্দিন মীর]

এছাড়াও কদমতলীতে অসহায় ও ছিন্নমূল শিশুদের জন্যও তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। অসহায় শিশুদের নিয়ে কাজ করা কদমতলীতে যেকোনো সামাজিক সেবামূলক সংগঠনের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কাজ করেন এবং নিজে উপস্থিত থেকে অসহায় শিশুদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করেন।

[স্বপ্ন পূরণ পাঠশালার উদ্যোগে আয়োজিত অসহায় শিশুদের মাঝে খাবার বিতরণ করছেন জামাল উদ্দীন মীর]

জামাল উদ্দীন মীর তাঁর কর্মজীবনে শুরু থেকেই প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে আসছেন। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৭ সালে আইজিপি ব্যাজ (IGP’s Exemplary Good Services Badge) পেয়েছেন। এছাড়াও পুলিশ প্রশাসনের সর্বোচ্চ সম্মানিত পুরস্কার হিসেবে বিবেচিত রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হিসেবে পুলিশ বাহিনীর সম্মানসূচক পুরস্কার প্রেসিডেন্ট পুলিশ মেডেল (পিপিএম-সেবা) পদকও পেয়েছেন তিনি।

[প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ‘পিপিএম-সেবা’ পদক গ্রহণ করছেন জামাল উদ্দিন মীর]

২০১৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের প্যারেড গ্রাউন্ডে পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে ‘পিপিএম-সেবা’ পদক পরিয়ে দেন। ২০১৮ সালে সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ, গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণে মাধ্যমে প্রশংসনীয় ভুমিকা রাখায় সেবামূলক কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ তাকে এই পদক প্রদান করা হয়।

এর আগেও রাজধানী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ থানাগুলোর মাঝে অন্যতম মোহাম্মদপুর থানায় ছিলেন। এর আগে ছিলেন ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে। মোহাম্মদপুরে থাকাকালীন সময়ে তিনি তার কাজের কারণে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছিলেন। তিনি একাধিকবার বলেছেন – “আমি জনগণের সেবা করার জন্যই পুলিশে জয়েন করেছি, জনগণের সেবা করেই যাব”।

হাছিব আর রহমান/পাবলিক ভয়েস/ সম্পাদনা

মন্তব্য করুন