মাদরাসা শিক্ষকের ঝুলন্ত লাশ : আত্মহত্যা নয় শ্বাসরোধে হত্যা

প্রকাশিত: ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৩, ২০২০

সাইফু্ল্লাহ সা’দ : আত্মহত্যা করেননি সখিপুরের মাওলানা শেখ ফরিদ – তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এ মামলায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

টাঙ্গাইলের সখীপুরে বোয়ালী হামিউস সুন্নাহ নূরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাওলানা শেখ ফরিদ (৪৫) ফাঁসিতে আত্মহত্যা করেননি তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে চেয়েছিল ঘাতকরা।

মাদরাসার বিশ্রাম কক্ষ থেকে প্রধান শিক্ষকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

নিহতের ১ মাস পর গত ৭ জুলাই নিহত শেখ ফরিদের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন সখীপুর থানায় আসলে এ লোমহর্ষক তথ্য বেড়িয়ে আসে।

এর আগে গত ৬ জুলাই হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে বোয়ালী বাজার এলাকার মৃত শামসুল হক মুন্সীর ছেলে, সবুজ বাংলা দাখিল মাদরাসার এবতেদায়ী প্রধান ফরিদ উদ্দিনকে (৪০) আটক করে সখিপুর থানা পুলিশ।

৭ জুলাই নিহতের ভাগ্নে মেহেদী হাসান বাদী হয়ে ফরিদ উদ্দিনসহ চারজনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করলে পুলিশ ফরিদ উদ্দিনকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠায়।

উল্লেখ: গত ৬ জুন শনিবার সকাল ৯টার দিকে মাওলানা শেখ ফরিদ বাড়ি থেকে নিজ কর্মস্থল বোয়ালী হামিউস্ সুন্নাহ নূরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসায় যান। দুপুর ২টার দিকে স্থানীয় এক দোকানদার ওই মাদরাসার সামনে পানি আনতে গেলে দরজার ফাঁক দিয়ে শিক্ষককে অফিসরুমে শেখ ফরিদকে ফাঁসিতে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে সখীপুর থানা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় ওইদিনই থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়।

নিহতের পরিবার ও মামলার বাদী মেহেদী হাসান এ হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িতদের অভিলম্বে গ্রেফতার ও তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (এসআই ) আজিজুল ইসলাম বলেন, মাওলানা শেখ ফরিদ আত্মহত্যা করেননি। তাকে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। এ ঘটনায় বোয়ালী গ্রামের ফরিদ উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর আসামীদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য করুন