আলেমদের সমন্বয়ে সিদ্ধান্ত : ঈদুল আযহার নামাজ মসজিদে পড়ার আহবান

প্রকাশিত: ৬:৩৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০২০
  • আলেমদের সমন্বয়ে পবিত্র ঈদুল-উল-আযহা উদযাপন উপলক্ষে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত।
  • আলোচিত কোরবানির পশুর হাট নিয়ে কোন মতামত বা সিদ্ধান্ত জানায়নি ধর্ম মন্ত্রণালয়।

করোনা ভাইরাস সংংক্রমণজনিত কারণে জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহার নামাজের জামাত ঈদগাহ, উন্মুক্ত স্থানের পরিবর্তে নিকটস্থ মসজিদে আদায়ের জন্য ধর্মপ্রাণ মুসুল্লীদের অনুরোধ করা হয়েছে।

আজ দুপুর ১২.টায় আসন্ন ঈদ-উল- আযহা (১৪৪১হিজরি/২০২০ খ্রি.) উদযাপন উপলক্ষে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত আন্তঃমন্ত্রণালয় ভার্চুয়াল (অনলাইন) সভায় দেশের ধর্ম প্রাণ মুসুল্লীদের এ অনুরোধ জানানো হয়। আন্তঃ মন্ত্রণালয় সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ নুরুল ইসলাম।

সভায় যে সব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে –

সভায় যথাযোগ্য মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য এবং আনন্দমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি প্রণয়ন ও সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এ বছর করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক ঈদের প্রধান জামাত জাতীয় ঈদগাহ এর পরিবর্তে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত হবে।

[স্বাস্থ্যবিধি মেনে নামাজ আদায়]

ঈদুল আযহা উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশ্যে বাণী প্রদান করবেন। এ উপলক্ষে সরকারি/ বেসরকারি ভবন এবং বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং “ঈদ মোবারক” খচিত ব্যানার ঢাকা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক আইল্যান্ড সমূহে প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ঈদুল আযহা দিবাগত রাত্রিতে নির্দিষ্ট সরকারি ভবনসমূহ এবং সামরিক গুরুত্বপূর্ণ ভবনসমূহ আলোকসজ্জা করা হবে।

সভায় সিদ্ধান্ত হয় সারাদেশের বিভাগ, জেলা, উপজেলা, সিটি কর্পোরেশন,  পৌরসভা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ,  বেসরকারী সংস্থাসমূহের প্রধানগণ জাতীয় কর্মসূচির আলোকে নিজ নিজও কর্মসূচি প্রণয়ন পূর্বক পবিত্র ঈদুল আজহ উদযাপন করবেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও বেসরকারি গণমাধ্যমসমূহ যথাযথ গুরুত্ব সহকারে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে এবং সংবাদপত্রসমূহে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করা হবে।

বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনসমূহে যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপন করা হবে। এ উপলক্ষে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রক্ষার্থে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কোরবানি পরবর্তীতে কোরবানিকৃত পশুর রক্ত/বর্জ্য পদার্থ দ্বারা যাতে পরিবেশ দুর্গন্ধময় না হয় সে বিষয়ে সকল প্রকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঈদুল আযহার পূর্ববর্তী জুমার খুতবায় এবিষয়ে মুসল্লিদের সচেতন করা হবে। এছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বিষয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা ও বিজ্ঞাপন প্রচার করা হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আনিস মাহমুদ এর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাস্ট্র, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়, তথ্য, জনপ্রশাসন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় , ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর সংস্থার প্রতিনিধিগণ এ ভার্চুয়াল সভায় অংশ গ্রহণ করেন।

সভায় দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম এর পক্ষে আল্লামা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ, মাওলানা মাহফুজুল হক, আল্লামা মুফতি রুহুল আমিন, মাওলানা আনাস মাদানী, মুফতি দিলাওয়ার হোসাইন, মাওলা নুরুল আমিন, হাফেজ মাওলানা আব্দুল আলিম রিজভী, মুফতি মাওলানা সাজিদুর রহমান, মাওলানা ড. কাফিলুদ্দীন সরকার সালেহী, মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, মাওলানা মোসাদ্দিক বিল্লাহ আল মাদানী প্রমুখ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এ ভার্চুয়াল সভায় অংশ গ্রহণ করে তাঁদের মতামত প্রদান করেন।

আরআর/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন