যে কারণে আল্লাহর কাছে দোয়া কবুল হয় না

দুআ কবু্ল হচ্ছে না দেখার পরও দুআ করে যেতে হবে

প্রকাশিত: ৩:২০ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০২০

দুআ কবুল হওয়ার জন্যে আল্লাহ অনেক উপায় দান করেছেন। সময় দিয়েছেন। আমল দিয়েছেন। ব্যক্তি দিয়েছেন। অর্থাৎ নির্দিষ্টভাবে বলে দিয়েছেন, অমুক সময় দুআ কবুল হয়। অমুক স্থানে দুআ কবুল হয়। অমুক ব্যক্তির দুআ কবুল হয়। অমুক অমুক আমলের পর দুআ কবুল হয়। রোযাদারের দুআ কবুল হয়। মুসাফিরের দুআ কবুল হয়। সমত্মানের জন্যে মা-বাবার দুআ কবুল হয়। দুআ কবুল হওয়ার কত ঘোষণা আল্লাহ কতভাবে দিয়েছেন।

  • দুআ কবুল হওয়ার যেমন অনেক উপায় রয়েছে তেমনি দুআ কবুল না হওয়ারও অনেক কারণ রয়েছে। সেগুলো থেকেও আমাদেরকে বাঁচতে হবে।

আরেকটা বিষয় হল, আমি যেভাবে চেয়েছি আমার দুআ জানা বা অজানা কোনো কারণে সেভাবে কবুল হয়নি, তখন আমাকে দুটি কথা মনে রাখতে হবে-

এক. আমি দেখিনি তাই বলে একথা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি না যে, আমার দুআ কবুল হয়নি। দুআ কবুল হওয়ার অনেক পদ্ধতি আছে। কোন পদ্ধতিতে দুআ কবুল হয়েছে তা আমি জানি না। আল্লাহই ভাল জানেন।

দুই. আমি দুআ কবুল হতে দেখিওনি, আবার আমার কিছু ত্রুটির কারণে দুআ কবুল হয়েছে বলেও মনে হয় না, তখনও আমার করণীয়, দুআ করা। একেতো আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি না যে দুআ কবুল হয়নি। দ্বিতীয়ত যদি বাসত্মবিকই দুআ কবুল না হয়ে থাকে তাহলেও আমি দুআ বাদ দিতে পারি না।

কী কী কারণে দুআ কবুল হয় না

দুআ কবুল না হওয়ার অর্থ একেবারে কবুল হবে না এটা নয়। কবুল না হওয়ার অর্থ হল, কবুল হওয়ার কোনো ওয়াদা নেই। নিশ্চয়তা নেই। নয়ত আল্লাহ তাআলার কুদরত আছে, আল্লাহ চাইলে যে কোনো সময় যে কারো দুআ কবুল করতে পারেন।

দুআ কবুল না হওয়ার প্রথম কারণ হলো – রিজিক হালাল না হওয়া। হাদীস শরীফে এসেছে,

إن الله أمر المؤمنين ما أمر المرسلين… يا أيها الذِيْنَ آمَنُوْا كُلُوْا مِنَ الطَّيِّبَاتِ و اعْمَلُوْا صَالِحًا …

আল্লাহ তাআলা মুমিনদেরকে সে জিনিসের আদেশ করেছেন যে জিনিসের আদেশ তিনি নবীদেরকে করেছেন। তা হল, হালাল খাও এবং সৎকাজ কর। রাসূলদেরকেও আল্লাহ সম্বোধন করে বলেছেন, তোমরা হালাল রিযিক গ্রহণ কর এবং আল্লাহর ইবাদত কর।

দুআ কবুল না হওয়ার আরেকটা কারণ হলো, ব্যাপকভাবে যখন সমাজে নাহী আনিল মুনকার অর্থাৎ অন্যায় কাজের নিষেধ করা বন্ধ হয়ে যাবে, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা যখন একেবারেই ছেড়ে দেয়া হবে, অপকর্ম এবং অশ্লীলতা যখন মহামারির রূপ ধারণ করবে তখনও দুআ কবুল হবে না। এ সকল বিষয়ে কুরআন মাজীদে সতর্ক করা হয়েছে।

وَاتَّقُوا فِتْنَةً لَا تُصِيبَنَّ الَّذِينَ ظَلَمُوا مِنْكُمْ خَاصَّةً وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ

(অর্থ) তোমরা ঐ বিপর্যয়কে ভয় কর, যা বিশেষভাবে তোমাদের মধ্যে যারা যুলুম করে কেবল তাদেরকেই আক্রান্ত করে না। -সূরা আনফাল ৮ : ২৫

তবে দুআর ফলাফল চোখে দেখি বা না দেখি আমাদেরকে দুআ করে যেতে হবে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দুআর ফলাফল একেবারেই কম দেখা যায়, বলতে গেলে দেখাই যায় না। এমন একটি ক্ষেত্র হল, যখন মুসলমান মযলুম হতে থাকে, তাদের উপর বিভিন্ন জায়গায় নির্যাতন চলতে থাকে, তখন দুআ কান্নাকাটি করা হয়, চোখের পানি ফেলা হয়, কুনুতে নাযিলা পড়া হয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত রক্ত ঝরতেই থাকে, আগুন জ্বলতেই থাকে। একসময় আগুন জ্বলা বন্ধ হয় কিন্তু মানুষ যেভাবে দুআ করেছিল, যেভাবে কান্নাকাটি করেছিল, সেভাবে কিছুই হয় না। তাৎক্ষণিকভাবেও হয় না, কাছাকাছি সময়েও হয় না।

তো যে সব ক্ষেত্রে ফলাফল চোখে দেখা যায় না সেসব ক্ষেত্রেও আমাদেরকে দুআ করে যেতে হবে। দুআ করে একথাও বলা যাবে না যে, আমি দুআ করেছি, দুআ কবুল হয় না। একথা বলা বেয়াদবী এবং দুআর মধ্যে বেবরকতির কারণ। বেবরকতির অর্থ হল, দুআ কবুল না হওয়া।

মুফতী মাওলানা আবদুল মালেক

মন্তব্য করুন