কাশ্মীরে থানার পাশেই বিজেপি নেতাকে খুন করেছে বন্দুকধারীরা

প্রকাশিত: ৪:১৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ৯, ২০২০

কাশ্মীরের বিজেপি নেতা শেখ ওয়াসিম, তাঁর বাবা ও ভাইকে গুলি করে হত্যা অজ্ঞাত একটি বন্দুকধারীদের দল। বান্দিপোর থানার ১০ মিটারের মধ্যেই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তবে ধারণা করা হচ্ছে এই হত্যা কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামীরা করেছে। কিন্তু এখনও কেহ এই খুনের দায় স্বীকার করেনি।

বান্দিপোর থানার পাশেই একটি দোকানের সামনে রাতে বসেছিলেন বিজেপি নেতা শেখ ওয়াসিম বারি, তাঁর বাবা বশির আহমেদ এবং ভাই উমর বশির। সেই সময় অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা মোটরসাইকেলে করে এসে তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। বন্দুকধারীরা খুব কাছ থেকে তাকে গুলি চালিয়েছিল। তিনজনেরই মাথায় গুলি লাগে। তিনজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁরা মারা যান। গতকাল বুধবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।

অপরদিকে ওয়াসিমেরর সুরক্ষায় অবহেলার অভিযোগে ৮ পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কাশ্মীর পুলিশের আইজি জানিয়েছেন, ”আমরা এই আটজনের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিচ্ছি।”

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ফোন করে বিজেপি নেতার হত্যার তথ্য নিয়েছেন এবং তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্রনাথ সিং এই তথ্য জানিয়েছেন। জিতেন্দ্রনাথ সিং টুইট করে লিখেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদীর ফোনে ওয়াসিম বারী হত্যার তথ্য পেয়েছেন। তিনি ওয়াসিমের পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জানিয়েছেন।

জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহও সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা ও ওয়াসিমের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। ওমর টুইট করেছেন, ‘বান্দিপোরায় বিজেপি আধিকারিকদের ও তার বাবার উপর মারাত্মক সন্ত্রাসী হামলার কথা শুনে খুব দুঃখ পেয়েছি। আমি এই আক্রমণটির তীব্র নিন্দা জানাই। এই দুঃসময়ে তাঁর পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রয়েছে।

অপরদিকে বিজেপি নেতারা ওয়াসিম বারী হত্যার ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। বিজেপি সভাপতি জে পি নদ্দা বলেছেন যে ওয়াসিম বারীর আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না।

যেভাবে মারা হয়েছে ওয়াসিমকে:

জম্মু ও কাশ্মীরের পুলিশ মহাপরিচালক দিলবাগ সিং বলেছেন যে বন্দুকধারীরা তাকে রাত ৯ টার দিকে ওয়াসিম আহমেদ বারির দোকানের বাইরে গুলি করে এবং এতে তিনি মারা যান। বারী ছাড়াও তার ভাই ওমর ও বাবা বশির আহমেদও এই ঘটনায় নিহত হয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে যে সন্ত্রাসীরা একটি সাইলেন্সার লাগানো রিভলবার দিয়ে গুলি চালায়। যে জায়গাটিতে এই ঘটনাটি করা হয়েছিল তা মূল থানা থেকে মাত্র ১০ মিটার দূরে। সাতজন নিরাপত্তাকর্মী তাঁর সুরক্ষায় রয়েছেন, তবে দুর্ভাগ্যক্রমে এই ঘটনাটি ঘটলে কোনও কর্মী সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। জাম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ আইনের কয়েকটি ধারার অধীনে এ বিষয়ে একটি মামলা করেছেন, যেখানে তদন্ত চলছে।

আরআর/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন