বেফাক ও হাইয়ার নামে একাধিক ফেসবুক পেজ : ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি

প্রকাশিত: ৬:১৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ৮, ২০২০

বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসাসমূহের সর্ববৃহৎ শিক্ষা বোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ-এর নামে ফেসবুকে একাধিক ভুয়া পেজের মাধ্যমে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।

পাবলিক ভয়েসের অনুসন্ধানে দেখা গেছে ‘বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ‘ নামে ফেসবুকে মোট ৬ টি পেজ সচল রয়েছে। একই সাথে দুটি আইডিও পরিচালিত হয়ে আসছে। যার মধ্যে সবগুলোই একই নামের। এর একটি পেজ বেফাকের অফিস থেকে পরিচালিত হয়ে থাকে বলে পাবলিক ভয়েসকে নিশ্চিত করেছে বেফাকের একাধিক সূত্র। বাকি কোন পেজই অফিসিয়াল ভাবে পরিচালিত হয়ে থাকে না বলে জানা গেছে।

একই ভাবে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার সম্মিলিত বোর্ড আল হাইয়াতুল উলিয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়ার নামেও প্রায় চারটি পেজ সচল রয়েছে যার মধ্যে একটি পেজ অফিসিয়াল ভাবে পরিচালিত হয়ে থাকে বলে বলা হলেও পাবলিক ভয়েস-এর পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পেজে দেওয়া তাদের অফিসিয়াল নাম্বারে ফোন করা হলে নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

পাবলিক ভয়েসের অনুসন্ধান মতে পাওয়া বেফাকের পক্ষ থেকে অফিসিয়ালভাবে পরিচালিত পেজের লিংক –

https://www.facebook.com/wifaqbd/

একই সাথে হাইয়াতুল উলিয়ার অফিসিয়ালভাবে পরিচালিত পেজের লিংক –

https://www.facebook.com/Alhaiatululya/

তবে এসব ভুয়া এবং একই নামের পেজ থেকে বিভিন্ন সময় ভুল তথ্যসহ বিভ্রান্তিকর বিভিন্ন ঘোষণা প্রকাশ করা হয়ে থাকে। যা কওমি মাদ্রাসা ছাত্রদের মধ্যে প্রচুর বিভ্রান্তি তৈরি করে থাকে। যেমন আজকে বেফাকের একটি ভূয়া পেজ থেকে হাইয়াতুল উলয়ার নামে পেড থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে যে, করোনার কারণে স্থগিত হওয়া দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল) এর পরীক্ষা আগামী ৭ সেপ্টেম্বর হাইআতুল উলয়ার অধীনে অনুষ্ঠিত হবে। এমনকি এই ঘোষণায় হাইয়াতুল উলইয়ার কো-চেয়ারম্যান আল্লামা আব্দুল কুদ্দুস এর স্বাক্ষর সংযুক্ত করা হয়েছে।

বেফাকের নামে দেওয়া ভূয়া ঘোষণা :

পরবর্তিতে বিষয়টি নিয়ে পাবলিক ভয়েস এর পক্ষ থেকে আল্লামা আব্দুল কুদ্দুস-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তার পক্ষ থেকে বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানিয়েছে, দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল) এর পরীক্ষা বিষয়ে হাইয়াতুল উলিয়া এখনো কোনো বৈঠক এবং আলোচনা করেনি তবে যেহেতু সরকারের পক্ষ থেকে কওমি মাদ্রাসা সমূহের হিফজ বিভাগ খুলে দেওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে তাই কওমি মাদ্রাসা খোলার ব্যাপারে বেফাক ও হাইয়াতুল উলিয়া কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ করবে এবং আলোচনা করবে। পরবর্তিতে স্থগিত থাকা দাওরায়ে হাদিস-এর পরীক্ষার বিষয়ে জানানো হবে।

এভাবেই কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন ঘোষণার ক্ষেত্রে এসব ভূয়া পেজ থেকে নিয়মিত বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও কয়েকটি পেজ থেকে বেফাক এবং হাইয়াতুল উলইয়ার নামে কওমী মাদ্রাসা সমূহের অনুদানের বিষয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছিল।

তবে বেফাক বা হাইয়া কর্তৃপক্ষের এসব বিষয়ে যেন কোন মাথাব্যাথাই নেই। এমনকি বিভিন্ন বিভ্রান্তি বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে যথেষ্ট স্পষ্ট ঘোষণাও নিয়মিত পাওয়া যায় না। এছাড়াও তাদের সাথে মিডিয়া যোগাযোগের ক্ষেত্রেও রয়েছে বিভিন্ন সমস্যা। বেশিরভাগ সময়ই তাদের অফিসিয়াল নাম্বারগুলো বন্ধ পাওয়া যায় এবং ওয়েবসাইটে তেমন কোনো নির্দিষ্ট আপডেট পাওয়া যায় না।

এবং ফেসবুকে একাধিক ফেসবুক পেজ হওয়ার কারণে অনেকেই বিভ্রান্তি হন কোনটা আসল এবং নকল পেজ। তাছাড়া ভূয়া পেজ এবং মূল পেজসহ বেশিরভাগেরই লাইক এবং ফলোয়ার সংখ্যা কাছাকাছি হওয়াতেও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয় এবং সাধারন ফেসবুক ইউজাররা বিষয়টি ধরতে পারেন না যে কোনটি আসল পেজ এবং কোনটি ভূয়া পেজ।

তাই সকলেই মনে করেন এসব বিষয়ে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ এবং আল হাইয়াতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া কর্তৃপক্ষ যথাযোগ্য এবং ফলপ্রসূ ভূমিকা গ্রহণ করবে নয়তো ধরনের বিভ্রান্তি ছড়াতেই থাকবে নিয়মিত।

তবো উপরে উল্লেখিত দুটি পেজ ছাড়া অন্য কোন পেজ থেকে ফেসবুকে বেফাক এবং হাইয়ার কোন তথ্য না নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন বেফাকের একাধিক সূত্র।

এইচআরআর/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন