সোলাইমানিকে হত্যার কারণ নিয়ে ট্রাম্পের দাবি ছিল মিথ্যা: জাতিসংঘের ঘোষণা

প্রকাশিত: ১০:০৪ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৮, ২০২০

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে গত ৩ জানুয়ারি ড্রোন হামলা চালিয়ে ইরানের কুদস বাহিনীর সাবেক কমান্ডার লে. জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে নির্মমভাবে শহীদ করা হয়। ইরাকের রাজধানী বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে মার্কিন ওই হামলায় সোলাইমানি ছাড়াও ইরাকের জনপ্রিয় গণবাহিনী ‘হাশদ আশ-শাবি’র উপপ্রধান মাহদি আল মুহান্দিসসহ আরো কয়েকজন সেনা জওয়ান শহীদ হন। আমেরিকার ওই বেআইনি ও বর্বর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়।

এ ব্যাপারে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক অ্যাগনেস ক্যালামার্ড এক প্রতিবেদনে বলেছেন, সোলাইমানি হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ ঘোষণার লঙ্ঘন। তিনি তার তদন্ত প্রতিবেদনে বলেছেন, জেনারেল সোলাইমানি মার্কিন স্বার্থে আঘাত হানতে চেয়েছিলেন বলে তাকে হত্যা করার যে অজুহাত ওয়াশিংটন দাঁড় করিয়েছিল তা প্রমাণ করা যায়নি। তিনি পরিকল্পিত এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জবাবদিহিতা করারও আহ্বান জানান। জাতিসংঘের এই বিশেষ প্রতিবেদক বলেন, আমেরিকার এ বেআইনি কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি এবং সবকিছু জেনেশুনেও আন্তর্জাতিক সমাজও নীরব রয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের এই প্রতিবেদক তার প্রতিবেদন নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপন করবেন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ে আলোচনা করার জন্য।

মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেনারেল সোলাইমানি ও তার সহযোগীদেরকে হত্যার নির্দেশে দিয়েছিলেন। এ নির্দেশের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পরিকল্পনা করার জন্যই সোলাইমানি ইরাকে প্রবেশ করেছিলেন। আর এ জন্যই তাকে আগেভাগে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে ইরাকের কর্মকর্তারা ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। ইরাকের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আদেল আব্দুল মাহদি সংসদের জরুরি অধিবেশন ডেকে জানিয়েছিলেন, ইরানের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের জন্য বিশেষ বার্তা নিয়ে সোলাইমানি বাগদাদে এসেছিলেন এবং এটা ছিল কূটনৈতিক সফর। ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের ফলে মার্কিন স্বার্থে আঘাত হানাই সোলাইমানির উদ্দেশ্য ছিল বলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে দাবি করেছিলেন তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়।

যাইহোক, প্রাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণ এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, ওয়াশিংটন কয়েক মাস আগে থেকেই সোলাইমানিকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল এবং শুধুমাত্র তারা সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। মার্কিন টিভি চ্যানেল এনবিসি ১৩ জানুয়ারি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল ২০১৯ সালের জুনে অর্থাৎ প্রায় সাত মাস আগে সোলাইমানিকে হত্যার নির্দেশ জারি করা হয়েছিল।

মার্কিন গ্লোবাল হক ড্রোন অবৈধভাবে ইরানের পানি সীমায় প্রবেশ করায় ইরান সেটিকে ভূপাতিত করে। এরপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্দেশ দিয়েছিলেন, ইরানের সেনাবাহিনী বা কোনো গ্রুপ যদি মার্কিন স্বার্থে আঘাত হানে তাহলে সোলাইমানিকে যেন হত্যা করা হয়। এ কারণেই ওই হত্যাকাণ্ডের পরপরই ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, মার্কিন স্বার্থে আঘাত হানার জন্যই সোলাইমানি ইরাকে এসেছিলেন। যাইহোক, জাতিসংঘের প্রতিবেদনের মাধ্যমে সত্য বেরিয়ে এসেছে। এখন আন্তর্জাতিক সমাজ কি পদক্ষেপ নেয় সেটাই দেখার বিষয়।

এমএম/পাবলিকভয়েস

মন্তব্য করুন