স্বাস্থ্যবিধী মেনে খুলছে দেশের কওমী মাদরাসার হিফজ বিভাগগুলো

প্রকাশিত: ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৮, ২০২০

করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নিমিত্তে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরামর্শক্রমে কওমি মাদ্রাসার সমন্বিত বোর্ড আল হাইয়াতুল উলয়া লিল জামিআতিল কওমিয়ার সিদ্ধান্তক্রমে প্রায় তিন মাসের অধিক সময় (প্রায় ১০০ দিন) বন্ধ থাকা দেশের কওমী মাদরাসাসমূহের হেফজ বিভাগগুলো খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর মৌখিক সম্মতি পাওয়া গেছে বলেও জানা গেছে। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের পক্ষ থেকে লিখিত প্রজ্ঞাপন জারির কথাও রয়েছে।

৭ জুলাই দিবাগত রাত ১০ টার দিকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এর ‘উপ-পরিচালক’ ড. মুহাম্মদ মুশতাক আহমদ ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট থেকে বিষয়টি প্রথমে জানা যায়।

  • এরপর কিছু সময় পর রাতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও একটি জাতীয় গণমাধ্যমের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে ঈদুল ফিতরের পর থেকেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে কওমি মাদ্রাসা খুলে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন আলেমরা। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় এতদিন সে অনুমতি পাওয়া যায় নি। তবে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির সুবিধার্থে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কওমি মাদ্রাসার অফিস খোলার অনুমতি দেয়া হয়েছিল।

সূত্র জানায়, গত কয়েকদিন আগে এ বিষয়ে জাতীয় দ্বীনি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের একটি প্রতিনিধি দল সরকারের সংশ্লিষ্ঠ ব্যাক্তিদের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করেন। এ সময় আসন্ন কোরবানির ঈদের আগেই সীমিত পরিসরে হলেও কওমি মাদ্রাসা খু্লে দিতে অনুরোধ জানান তারা।

জাতীয় দ্বীনি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সহ-সভাপতি ড. মাওলানা মুশতাকের নেতৃত্বে ওই প্রতিনিধি দলে ছিলেন মাওলানা ইয়াহয়া মাহমুদ, বোর্ডের মহাসচিব মুফতি মোহাম্মদ আলী ও মাওলানা মুজিবুর রহমান।

এ বিষয়ে ড. মুশতাক আহমদ বলেন, কওমি মাদ্রাসার নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হয় রমজান মাস থেকে। কিন্তু আমরা বিগত শিক্ষাবর্ষটিও শেষ করতে পারিনি। এছাড়া কোরবানির ঈদে মাদ্রাসা ছাত্ররা পশু জবাইসহ বিভিন্ন সেবামূলক কাজ করে থাকেন। আমরা বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এখন শুধুমাত্র হিফজবিভাগগুলো খুলে দেয়ার মৌখিক অনুমতি দিয়েছেন। বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদেরকে নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে তিনি ১০ টা ১০ মিনিটে দেওয়া একটি ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, আলহামদুলিল্লাহ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী থেকে কাওমী মাদ্রাসার হিফজখানাসমূহ খুলে দেওয়ার অনুমতি পাইলাম। ৫ মিনিট পূর্বে মাননীয় স্বরাস্ট্রমন্ত্রী মহোদয় টেলিফোনের মাধ্যমে আমাকে জানিয়েছেন।

তিনি আরও লিখেছেন, স্বাস্থবিধি রক্ষিত রাখার শর্তে খুলতে বলা হয়েছে। (হেফজ মাদরাসা)

তিনি জানান, জু্লাই মাসের ২ তারিখে তিনিসহ মুফতী মোহাম্মদ আলী, মাওলানা ইয়াহয়া মাহমূদ ও মাও. মজিবুর রহমান মাননীয় স্বরাস্ট্রমন্ত্রীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর এই আবেদন পেশ করেছিলাম। ( যার পরিপ্রেক্ষিতে আজকে নির্দেশনা এলো) তিনি মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত : করোনা মহামারি প্রকট আকার ধারণ করায় দেশের সব কওমি মাদ্রাসা গত ১৭-ই মার্চ বন্ধ করা হয়েছিলো। কওমি মাদ্রাসার সমন্বিত বোর্ড আল হাইয়াতুল উলয়া লিল জামিআতিল কওমিয়া এ ঘোষণা দিয়েছিলো। এই বন্ধের আওতায় হেফজখানা সহ কওমি মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানে ছিল এরপর কর্ণ পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে গেলে কওমী মাদ্রাসা সহ কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খুলে দেওয়ার অনুমতি দেয়া হয়নি দীর্ঘ প্রায় ১০০ দিনের কাছাকাছি সময়ের পরে সরকারের পক্ষ থেকে আজ কওমী মাদরাসার শুধুমাত্র হিফজ বিভাগগুলো খুলে দেওয়ার অনুমতি দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

আরআর/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন