মুফতী মিজানুর রহমান সাঈদের অনলাইন দরস : উপকৃত হচ্ছে কওমী ছাত্ররা

প্রকাশিত: ৬:১৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ৭, ২০২০
মুফতী মিজানুর রহমান সাঈদের অনলাইন দরস

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বন্ধ হয়ে আছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। স্কুল-কলেজ থেকে নিয়ে সবকিছু বন্ধ প্রায় ৪ মাস হতে চললো। এর মধ্যে সবচেয়ে বিপাকে পড়ে আছে ধর্মীয় শিক্ষাচর্চার মাধ্যম কওমী মাদরাসাগুলো।

বাংলাদেশে বিভিন্ন শিক্ষা কারিকুলাম এর পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষার জন্য রয়েছে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা। সাধারণত কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষাবর্ষ হলো হয় প্রতি বছর রমজানের শেষে ঈদের পর থেকে নিয়ে পরবর্তী রমজান পর্যন্ত অর্থাৎ আরবি মাসের হিসাবে ১ শাওয়াল থেকে ৩০ শাবান পর্যন্ত হয়ে থাকে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবর্ষ। কিন্তু এবছর মরণঘাতী করোনা ভাইরাসের কারণে খোলেনি কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। খোলা হয়নি কওমী মাদরাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও।

চার মাসের দীর্ঘ সময়ের এই লকডাউনের মধ্যে কওমী মাদরাসায় অনলাইন দরস (ক্লাশ) হবে কি হবে না তা নিয়ে শুরু থেকেই বিভিন্নজন কথা বলার চেষ্টা করেছেন। অনেকই তাঁকিয়েছিলেন কওমী মাদরাসার সর্ববৃহৎ শিক্ষাবোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ অথবা কওমী মাদ্রাসা সম্মিলিত শিক্ষা বোর্ড আল হাইয়াতুল উলিয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের।

কিন্তু দীর্ঘ এই সময়ে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোন সিদ্ধান্ত না হলেও দেশের একাধিক প্রথম সারির ওলামায়ে কেরামগণ অনলাইনে ভিডিওর মাধ্যমে হাদিসের দরস সহ বিভিন্ন তাফসিরগ্রন্থের দরস দিয়ে আসছেন।

এর মধ্যে শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশের সর্বপরিচিত মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ ধারাবাহিকভাবে অনলাইনে ভিডিওর মাধ্যমে ফেসবুক লাইভে হাদিসের দরস দিয়ে যাচ্ছেন।

এর মধ্যে তিনি ধারাবাহিকভাবে উসুলে ইফতার ১৭ টি এবং বুখারী শরীফের ১৪টি দরস সম্পন্ন করেছেন। যেগুলো হাজার হাজার ছাত্ররা দেখেছে এবং তাদের মতামত জানিয়েছেন যে – তারা এই লকডাউনের মধ্যে প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পর এই অনলাইন ক্লাশের মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছেন।

এ বিষয়ে মুফতি মিযানুর রহমান সাঈদ পাবলিক ভয়েসকে একান্ত আলাপে বলেন- মূলত অনলাইনের এই দরসের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে অসংখ্য মানুষ হাদিসের এবং উসূলে ইফতার দরস নিতে পারছে। এবং অনেক ছাত্ররাই আমাকে ফোন করে এবং ফেসবুকে তাদের মতামতের মাধ্যমে দরসে উপকৃত হওয়ার বিষয়টি জানিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন- যেহেতু বর্তমানে মাদ্রাসা বন্ধ রয়েছে এবং সবাই যার যার ঘরে অবস্থান করছে তাই কিতাব এবং এলেমের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখতে প্রযুক্তির এইটুকু সাহায্য নেওয়া উচিত। অনলাইনে দরস দিয়ে ছাত্রদেরকে কিতাবের সাথে সম্পর্কিত রাখা উচিত। তিনি বলেন- অন্তত যারা আমার হাদিসের দরসে বসছে তারা কিছুটা হলেও পড়াশোনার মধ্যে থাকার চেষ্টা করবে বলে আমি মনে করি। তাই তিনি এই অনলাইন দরসের কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন।

একই সাথে দরসে বুখারী এবং দরসে উসূলে ইফতার সাথে সাথে কওমি মাদরাসার শিক্ষা সিলেবাস এর আর একটি হাদিসগ্রন্থ মিশকাত শরীফের দরস শুরু করার ব্যাপারেও তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। এবং এ ব্যাপারে তিনি সবার মতামত জানতে চেয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট করার পরে অনেক ছাত্ররাই তাকে দাবি জানিয়েছেন মিশকাতের দরস শুরু করার জন্য। এবং তিনি অতি শীঘ্রই মেশকাতের শুরু করবেন বলেও জানিয়েছেন।

  • মুফতী মিজানুর রহমান সাঈদের দরস (ক্লাশ) ফেসবুকে পেতে নিচে সংযুক্ত ভিডিও লিংকটিতে ঢুকে পেজটি ফলো বা লাইক করে রাখলে প্রতিদিন নিয়মিত দরস পাওয়া যাবে।

মুফতী মিজানুর রহমান সাঈদ সংশ্লিষ্ট কিছু সংবাদ :

মসজিদ ও জামাত নিয়ে আল্লামা মিজানুর রহমান সাঈদ এর লিখিত বক্তব্য

তারাবীহ: মুফতী মিজানুর রহমান এর বিশেষ প্রস্তাবনা ও জরুরি পরামর্শ

মসজিদের গেট খুলে দিন, নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে সরকার: মুফতী মিজান

ঘরে জুম্মা নয়, জোহর নামাজ পড়তে হবে : মুফতী তকি উসমানী

রুজু সংক্রান্ত খবর গুজব: মর্মাহত আল্লামা তাকী উসমানী

মন্তব্য করুন