৭ দফা দাবিতে ফেনী বেসরকারী মাদরাসা এসোসিয়েশনের সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত: ৬:৫৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ৬, ২০২০

দেশে প্রাইভেট মাদ্রাসা বন্ধ হলে শিক্ষাব্যবস্থার অপূরণীয় ক্ষতি হবে বলে জানিয়েছেন ফেনী জেলা বেসরকারী (প্রাইভেট) মাদরাসা এসোসিয়েশন।

আজ ৬জুলাই সোমবার ফেনী জেলা বেসরকারী (প্রাইভেট) মাদরাসা এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এসোসিয়েশনের সভাপতি মাওলানা নূরুল করীম।

সাংবাদকিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন,  করোনাকালীন মহাসংকটময় সময়ে সর্বদিক থেকে জনজীবন বিপর্যস্ত। মানুষ চরম হতাশা উদ্বেগ উৎকন্ঠার মধ্য দিয়ে দিননিপাত করছে। আর্থিক সংকট দিন দিন দূর্বিষহ পরিস্থিতি তৈরী করছে। করোনা প্রাদুর্ভাব কবে নাগাদ নিয়ন্ত্রণ হবে তারও কোনো সঠিক সীমারেখা নির্ণয় সম্ভব নয়। প্রতিদিন আক্রান্ত আর মৃত্যু হিসেব উর্ধ্বমূখী রয়েছে। মোটকথা অনিশ্চিত এক ভবিষ্যতের দিকে আমরা পথচলছি সঙ্গী হিসেবে রয়েছে শুধুই ভয়,কষ্ট আর সীমাহীন যন্ত্রনা।

তিনি বলেন, উপরোক্ত পরিস্থিতি আমাদের চেয়ে আপনারাই বেশি অবগত,আপনারা জানেন বাস্তব পরিস্থিতি কতটুকু ভয়াবহ,আপনাদের মাধ্যমেই জনগন এর সার্বিক খবরাখবর পেয়ে থাকে। এক্ষেত্রে আপনাদের অবদান অপরিসীম, তাই ফেনী জেলা বেসরকারী (প্রাইভেট) মাদরাসা এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে আপনাদের প্রতি রইল শ্রদ্ধা ভালবাসা। আল্লাহ তায়ালা আপনাদেরকে এই মহামারী থেকে রক্ষা করুন। আমিন।

করোনা সংক্রমণ বাংলাদেশে আজ প্রায় চারটি মাস পূর্ণ হওয়ার পথে।করোনা থেকে মানুষদের বাঁচাতে সতর্কতার অংশ হিসেবে বর্তমান সরকার লকডাউন সহ সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে বিভিন্ন উপায়ে চেষ্টা করছে,আমরা এ জন্য আপনাদের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

করোনা মহামারী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত আয়ের মানুষদের। অনেকের দৈনন্দিন জীবন পরিচালনা করা খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে, আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে আমরা এখনো পৃথিবীতে বসবাস করছি।আলহামদুলিল্লাহ। সব সেক্টরের ন্যায় শিক্ষা ব্যাবস্থার উপর করোনার থাবা মারাত্মকভাবে আঘাত করেছে,বরং বলতে গেলে সবচেয়ে বেশি আঘাত শিক্ষার উপরেই করেছে করোনা।

গত ১৬মার্চ থেকে সারাদেশের সর্বস্তরের সরকারী বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে,এবং কবে খুলবে তার নির্দিষ্ট সময়ও আমরা জানিনা। এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে ভাড়া বাসায় পরিচালিত বেসরকারী (প্রাইভেট) মাদ্রাসা সমূহ।

তিনি আরো বলেন, আজকে আমরা ফেনী জেলা বেসরকারী (প্রাইভেট) মাদ্রাসা এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ফেনী জেলায় ভাড়া বাসায় পরিচালিত মাদ্রাসা সমূহের দূরাবস্থা তুলে ধরার জন্য আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি।

ফেনী জেলা বেসরকারী (প্রাইভেট) মাদ্রাসা এসোসিয়েশনে ইবতেদায়ী, দাখিল সহ দাওরা হাদীস পর্যন্ত প্রায় পঞ্চাশটির অধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে,যেগুলোর সবগুলোই বিভিন্ন ভবনে ভাড়ায় পরিচালিত হয়ে আসছে। এই সমস্ত প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৮হাজার শিক্ষার্থী পড়াশুনা করছে, যেগুলোর শিক্ষক সংখ্যা প্রায় ৫০০’রও অধিক।ফেনী জেলাসহ বাংলাদেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থায় এই সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবদান অপরীসিম।সবসময় এই সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শতভাগ পাশ সহ দাখিল ও বোর্ড পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে আসছে। হেফ্জ বিভাগের শিক্ষার্থীরা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে দেশের সুনাম বরাবর বয়ে আনছে,এবং কওমী মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকেও সবসময় ভালো ফলাফল করছে। গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য এই প্রতিষ্ঠানগুলো সবসময় সঠিক প্লাটফর্ম হিসেবে পরিচালিত হয়ে আসছে।

কিন্তু করোনা মহামারীর ভয়াবহ পরিস্থিতিতে এই সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো আজ হুমকির মুখে।দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার ফলে আর্থিক সংকটে প্রায় প্রতিষ্ঠান বন্ধের পথে, পাঁচশতাধিক শিক্ষক পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে,হাজার হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন হুমকিতে। সরকার বিভিন্ন সেক্টরে প্রণোদনা বা সহযোগিতা করলেও প্রাইভেট মাদ্রাসা বা তার শিক্ষকদের জন্য কিছুই করেনি, বরং বারবার দাবী জানিয়েও কোন উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছেনা। যার দরুন আজ এই মাদ্রাসা সমূহ বন্ধের পথে। এবং যদি বেসরকারী (প্রাইভেট) মাদ্রাসাগুলো বন্ধ হয়ে যায় তবে শিক্ষাব্যাবস্থার অপূরনীয় ক্ষতি হবে। কারন এর সাথে জড়িত হাজারও শিক্ষক শিক্ষার্থী এবং অসংখ্য দিনের লালিত স্বপ্ন। প্রাইভেট মাদ্রাসাগুলো বন্ধ হলে শুধু মাদ্রাসা বন্ধ হবেনা বরং অনেকের স্বপ্নের অপমৃত্যু ঘটবে।

প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফেনী জেলার বেসরকারী(প্রাইভেট) মাদ্রাসা এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে তিনি কিছু দাবী উত্থাপন করেন।

। যতদিন করোনা প্রাদুর্ভাব দূর হয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয় ততদিন পর্যন্ত মাদ্রাসা সমূহের ভাড়া বাতিল করা (অর্থাৎ ভাড়া পরিবর্তিতেও যেন পরিশোধ করা না লাগে)

২। সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষকদের জন্য মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করা।

৩। শিক্ষকদের জন্য সরকারী তত্বাবধানে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে শিক্ষকতার পাশাপাশি বিকল্প পেশার ব্যবস্থা করা।

৪।শিক্ষা-কার্যক্রম পরিস্থিতি বুঝে যথাসম্ভব দ্রুত চালু করার অনুমতি দেয়া।

৫। প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানে সরকারের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে হ্যান্ড সেনিটাইজার সহ সুরক্ষা সামগ্রী বিতরন করা।

৬। সরকারী বরাদ্দে প্রাইভেট মাদ্রাসা সমূহের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ দেয়া।

৭। মহামারী থেকে রক্ষা পেতে সকল হেফ্জ বিভাগগুলো খোলার অনুমতি প্রদান করে কুরআন তেলাওয়াত চালুর ব্যবস্থা করে দেয়ার জোর দাবী জানাচ্ছি।

দাবি গুলো বাস্তবায়নের জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহবান জানান।

ওয়াইপি/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন