সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসিসোয়েশনে দুর্নীতির অভিযোগ : ব্যারিস্টার সুমনের প্রতিবাদ

প্রকাশিত: ৫:৩২ অপরাহ্ণ, জুলাই ৫, ২০২০
সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসিসোয়েশনে দুর্নীতির অভিযোগ : ব্যারিস্টার সুমনের প্রতিবাদ

বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রায় ১০০ কোটি টাকা অর্থনৈতিক দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে কড়া প্রতিবাদমুখর হয়েছেন সারাদেশের সমাজসেবামূলক কাজ করে এবং বিভিন্ন দুর্নীতি ও সামাজিক বিষয় নিয়ে সরব থাকা সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক জনপ্রিয় ব্যাক্তি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের অফিসে দাঁড়িয়েই তার ২৫ লক্ষ ফলোয়ার সম্বলিত ফেসবুক পেইজ থেকে প্রায় ১০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত আলাপ এবং এ বিষয়ে কঠোর প্রতিবাদমূলক ফেসবুক লাইভ করেছেন।

আজ দুপুর ১২ টার দিকে তিনি এই প্রতিবাদী লাইভটি করেন। এবং এ বিষয়ে সঠিক তদন্ত করতে মাননীয় প্রধান বিচারপতি এবং এটর্নি জেনারেলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। একই সাথে তিনি সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন দুর্নীতির মূলোৎপাটন করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীরও হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে লাইভে এসে ব্যারিস্টার সুমন বলেন – প্রথমবারের মতো আমি আমাদের সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সমিতির অফিস থেকে সরাসরি লাইভে এসেছি। সারাদেশে যখন কোন দুর্নীতি হয় এবং অন্যায় হয় তখন আমরা আইনজীবীরা তার প্রতিবাদে দাড়াই। এমনকি আমরা সরকার ও বিভিন্ন সংগঠনের অনিয়মের বিষয়ে কথা বলি। এখন যদি আমাদের আইনজীবী সমিতির এখানে কোন দুর্নীতি হয় সে বিষয়ে আমাদের কথা বলাটা অবশ্যই জরুরি।

তিনি আইনজীবী সমিতির অফিস দেখিয়ে বলেন, এই যে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের অফিস। এই অফিসে এখন টাকা পয়সা নিয়ে অনেক বড় দুর্নীতি হচ্ছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন যে, সাধারনত আপনারা যদি কোন মামলার জন্য ওকালতনামা কেনেন তখন সেখানে ৯০০ টাকার মত একটি টাকা জমা দিতে হয়। এবং যে টাকার হিসেব বার অ্যাসোসিয়েশনের কম্পিউটারে সংরক্ষিত হয়। কিন্তু এগুলোর হিসাব রাখার জন্য যে সফটওয়্যারটি ব্যবহার করা হয়েছে সেখানে প্রত্যেকটি ওকালতনামার টাকা আলাদা আলাদা হিসাব থাকার কথা কিন্তু এখানে এমন ভাবে সিস্টেম করে রাখা হয়েছে আপনি যদি একজন উকিলের দশটি ওকালতনামাও কিনেন তাহলে সেখানে মাত্র একটির টাকা জমা হবে। এভাবেই এখান থেকে কোটি কোটি টাকা গায়েব হচ্ছে।

তিনি বলেন, এখানে যে দুর্নীতি হয়েছে তা সবাই স্বীকার করছে যদিও এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি যে দুর্নীতি কারা করেছে এবং তা তদন্তাধীন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন আমি দুঃখ নিয়ে বলতে চাই ১০ বছর ধরে আমাদের এখানে অনেক নেতৃবৃন্দ ছিলেন এবং অনেক টেকনিশিয়ান ছিলেন। তারপরও গত ১০ বছর ধরে এই দুর্নীতি এখানে চলে আসছে। এবং এখন পর্যন্ত ধরা পড়েনি কারা এ কাজটি করেছে।

তিনি বলেন, যখন বিষয়টি সামনে এসেছে তখন কেউ কেউ বলার চেষ্টা করছেন এই দুর্নীতির সাথে সবাই জড়িত এবং তিনি নিজেকে দেখিয়ে বলেন আমি যেহেতু একজন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য তাই এই দুর্নীতির সাথে আমারও সম্পৃক্ততা থাকতে পারে তাই আমি আশা করব বিষয়টি নিয়ে যথাযোগ্য তদন্ত হবে এবং যারা দোষী তারা সামনে বেরিয়ে আসবে।

তিনি বলেন আমরা সারা দেশে দুর্নীতি নিয়ে কথা বলি, মানুষের নৈতিকতা নিয়ে কথা বলি। সরকারের বিভিন্ন সময় আমরা সমালোচনা করি পরামর্শ দেই এখন আমরা নিজেরা যদি এত বড় একটি দুর্নীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকি এবং গত ১০ বছর ধরে লক্ষ লক্ষ টাকা নয় বরং প্রায় ১০০ কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। যা খুবই দুঃখজনক বিষয়। তিনি উল্লেখ করে বলেন, এটা নিয়ে তদন্ত চলছে। এবং আমরা আশা করবো তদন্তে যারা প্রকৃত ভাবে দোষী এবং জড়িত তাদের নাম বেরিয়ে আসবে।

তিনি অর্থ কষ্টে ভরা বিভিন্ন আইনজীবিদের বিষয় উল্লেখ করে বলেন, আমার আশ্চর্য লাগে – এই করোনাকালীন সময়ে গত পাঁচ-ছয় মাস ধরে আইনজীবীরা অর্থকষ্টে ভুগছে। কারো একটা টাকা ইনকামের কোন ব্যবস্থা নেই সারাদেশ বন্ধ। আইনজীবীরা কোথাও সহযোগিতা পাচ্ছে না অথচ এই আইনজীবী অ্যাসোসিয়েশন থেকে মাত্র ৩০ হাজার টাকার একটি অনুদান দেয়া হয়েছে যা নিতান্তই হাস্যকর ধরনের।

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, আমি জানিনা এ বিষয়টি নিয়ে কেউ কোনো কথা বলেনি কেন তবে আমি শুনেছি দু-একজন বিষয়টা নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু তাদের কথা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

একই সাথে যারা আইনজীবী সমিতির নেতৃত্ব গ্রহণ করা নিয়ে তোড়জোড় করেন তাদের সমালোচনা করে বলেন, আমি এতদিন বুঝতে পারিনি যে আইনজীবী সমিতির নেতা হওয়ার জন্য এত আগ্রহ কেন এখন এসে বুঝতে পারছি এবং আমার সন্দেহ হচ্ছে যে আইনজীবী সমিতির নেতা হওয়ার আগ্রহ শুধুমাত্র এই দুর্নীতি করার জন্যই।

তিনি বলেন, আমি আশা করবো আমাদের মাননীয় প্রধান বিচারপতি যিনি আমাদের গার্জিয়ান তিনি অবশ্যই বিষয়টি শুনতে পেয়েছেন এবং আমাদের যিনি মাননীয় অ্যাটর্নি জেনারেল তিনিও বিষয়টি জানতে পেরেছেন। আমি আশা করবো তারা এ বিষয়ে যথাযোগ্য পদক্ষেপ নিবেন। একই সাথে তিনি বলেন, আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করবো তিনি যেন এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেন এবং এমন একটি জায়গা থেকে যাতে এমন দুর্নীতির না হতে পারে এবং এখানই এই দুর্নীতির মুলোৎপাটন যেন পুরোপুরিভাবে করে দেয়া হয়। কারণ সুপ্রিমকোট যদি এভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে যায় তাহলে আমাদের বেঁচে থাকায় দেশে খুবই কষ্ট হবে।

তাই যারা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে এবং বর্তমানে যারা দায়িত্বশীল পর্যায়ে কমিটিতে রয়েছেন তাদেরকে তিনি বলেন আপনারা যদি সুপ্রিমকোর্টকে বাঁচিয়ে রাখতে চান তারা সবাই অবশ্যই এমন একটি দুর্নীতির ব্যাপারে সোচ্চার হবেন।

এ বিষয়ে বিষয়ে ব্যারিস্টার সুমনের ফেসবুক লাইভটি দেখুন :

মন্তব্য করুন