কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ইশা ছাত্র আন্দোলন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের মানবনন্ধন

প্রকাশিত: ৬:২৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ৫, ২০২০

সীমান্তে অব্যাহত বাংলাদেশী হত্যা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার চরম অব্যবস্থাপনা ফ্যাসিবাদী সরকারের অযোগ্যতার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দেলন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ।

গতকাল ০৪ জুলাই শনিবার বিকাল ৩ ঘটিকায় ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এর আয়োজনে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে “করোনা টেস্ট ফি বাতিল, স্বাস্থ্যখাতে চরম অব্যবস্থাপনা এবং সীমান্তে নির্বিচারে বাংলাদেশী হত্যার প্রতিবাদে” মানববন্ধন থেকে বক্তারা এ মন্তাব্য করেন।

নগর সভাপতি ইমরান হোসাইন নূর এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এইচ এম কাওসার মাহমুদ এর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য আল-আমিন সিদ্দিকী বলেন,করোনা কালীন মহামারীতে যখন মানুষ দু-মুঠো আহার পেটে দিতে হিমশিম খাচ্ছে সেখানে করোনা টেস্ট ফি আরোপ করা এ সরকারের নাগরিক অধিকার হরণের বহিঃপ্রকাশ। অন্যদিকে গত কয়েকদিন যাবত বাংলাদেশের সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফ কতৃক নির্বিচারে বাংলাদেশী হত্যার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি মাহমুদুল হাসান তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা তথা চিকিৎসা এ দেশের জনগনের মৌলিক অধিকার। এ মৌলিক অধিকার পূরণের দায়িত্ব সরকারের। অথচ জনগণ এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটে ও চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না।রাস্তায় ও হাসপাতালের বারান্দায় চিকিৎসার অভাবে জনগন নির্মম মৃত্যুর শিকার হচ্ছে। এর প্রধান কারণ স্বাস্থ্যব্যবস্হার অব্যবস্থাপনা ও চরম লুটপাট। বিগত দিন গুলোতে এ খাতে চরম লুটপাট সৃষ্টি হওয়ায় আজ এ অবস্থার শিকার হচ্ছি আমরা।

নগর সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন সীমাহীন দূর্নীতি এ সরকারের সকল মন্ত্রণালয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। করোনা মহামারী স্বাস্থ্যখাতের দূর্নীতির চিত্র আমাদের সামনে আজ দৃশ্যমান। কতিপয় সিন্ডিকেটধারীর দূর্নীতির কারণে আজ হাসপাতাল গুলোতে বেড, অক্সিজেন, ভেন্টিলেটর সংকট সৃষ্টি হয়েছে। চরম লুটপাটের দরুন জনগন আজ চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে না।

করোনাকালীন সময় মানুষ চরম দুঃসহ জীবন অতিবাহিত করতেছে সে সময় করোনা টেস্ট এর ফী নির্ধারণ করে সরকার একদিকে জনগনকে মড়ার উপর খাড়ার ঘা এর দিকে পর্যবসিত করতেছে অন্যদিকে দূর্নীতিবাজদের লুটপাট এর সুযোগ দিচ্ছে, তিনি অনতিবিলম্ব করোনা টেষ্ট ফি বাতিলের জোর দাবি জানান।

অন্যদিকে সীমান্তে নির্বিচারে বাংলাদেশী হত্যার বিষয়ে তিনি বলেন বারংবার সীমান্তে বাংলাদেশী হত্যার শিকার এ সরকারের নতজানু পররাষ্ট্র নীতির বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেন বিবিসি বাংলার এক জরিপে জানা যায় প্রতি গড়ে প্রতি ১২ দিনে সীমান্তে ১ জন বাংলাদেশী বিএসএফ কতৃক হত্যার শিকার হোন। এক জরিপে জানা যায় গত ২০১১ থেকে মার্চ ২০২০ পর্যন্ত সীমান্তে ৩৪৮ জন বাংলাদেশী হত্যার শিকার হয়েছে। বিগত জুন মাসে সীমান্তে নির্বিচারে ৮ জন বাংলাদেশী হত্যার শিকার হয়েছে ।

তিনি বলেন এ সরকার এর সীমান্ত হত্যার বিষয়ে নীরবতা তার অযোগ্যতার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ মাত্র। তিনি এ বিষয়ে সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সরকার বাহাদুর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবী জানান।

মানববন্ধনে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নগর সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক জামিলুল ইসলাম, প্রশিক্ষণ সম্পাদক আবদুর রহমান, বিশ্ববিদ্যালয় সম্পাদক শিহাব মোহাম্মদ প্রমূখ নেতৃবৃন্দ।

ওয়াইপি/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন