সু-স্বাস্থ্যের নিশ্চয়তা দিতে কাজ করে যাচ্ছে ‘ইয়ুথ ক্যারিয়ার ইন্সটিটিউট’

প্রকাশিত: ৩:৫৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ৪, ২০২০

মোঃ আরিফুল ইসলাম

কথায় বলে মানুষ নাকি তার স্বপ্নের চেয়েও বড়। আর সেই স্বপ্নকে পুঁজি করেই মানুষ খুঁজে পায় বেঁচে থাকার খোরাক। তেমনি আমরা কয়েকজন মিলে স্বপ্ন দেখি। স্বপ্ন দেখি এক অন্য রকম বাংলাদেশের। এগিয়ে চলি স্বপ্নের পথে। সেই স্বপ্নের পথে ন্যূনতম সাফল্যেও যেন খুঁজে পাই আকাশ জয় করার শক্তি।

বর্তমানে পুরো বিশ্বজুড়েই চলছে এক ঘরবন্দি অবস্থা।তাই অনেক কিছু করার পরিকল্পনা থাকলেও করা হয়ে ওঠে নি কিছুই। বলতে গেলে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে চলমান পরিস্থিতি করতে দেয় নি কিছুই। কিন্তু তাই বলে তো ঘরে একদম অলস বসে থাকা যায় না।

বয়সে আমরা এখন তরুণ। তাই সমাজে আর ৫ টা মানুষের থেকে তরুণরা একটু আলাদাই বটে। কারণ তরুণদের থাকে এক অন্য রকম স্পৃহা সেই সাথে দেশের জন্য কিছু করার প্রচেষ্টা অথবা সমাজে ভিন্ন রকম ভাবে নিজেকে প্রকাশ করার ইচ্ছা। তেমনি আমাদের মত তরুণদের নিয়েই গঠিত একটি সংগঠন “ইয়ুথ ক্যারিয়ার ইন্সটিটিউট।” এই সংগঠনের উদ্যোগেই আমরা হাতে নিয়েছি জং ধরা অর্থাৎ যেটা থেকেও মরিচা পরে যাওয়া একটি প্রজেক্ট।যেটা নিয়ে ভাবা হয় নি কখনো। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের বুঝিয়ে দিয়ে গেলে এ বিষয়টির গুরুত্ব।

আমাদের প্রজেক্টের বিষয়টি হচ্ছে “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মমুখী শিক্ষার পাশাপাশি জীবনমুখী স্বাস্থ্যসেবার ব্যবহারিক প্রয়োগ।”

এক সময় হতদরিদ্র এই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল একদম নাজুক। বৈদেশিক সহায়তাই যেন ছিল আমাদের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। সেই অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় হিসেবে সরকার ভেবেছিল আমাদের বিশাল এই জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রুপান্তর করা।

তারই ধারাবাহিকতায় শিক্ষাক্ষেত্রে যুক্ত করা হয় কর্মমুখী শিক্ষা এবং গড়ে তোলা হয় বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।যার ফলাফল স্বরূপ আজ বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক পরাক্রমশালী এক দেশ।

মাথাপিছু উপার্জনে ছাড়িয়ে গেছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতকেও।আর এক সময়ের পাকিস্তানের অংশ বাংলাদেশ সেই পাকিস্তানের অর্থনীতিকে ছাড়িয়েছে তো বহুবছর আগেই।

বর্তমানে বাংলাদেশের জিডিপি’র পরিমাণ প্রায় ৩৪৮ বিলিয়ন ইউএস ডলার। হতদরিদ্র সেই বাংলাদেশ আজ বিশ্বে পরিচয় পেয়েছে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে।সময়ের পরিক্রমায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থার বেশ পরিবর্তন হলেও তেমন একটা পরিবর্তন হয় নি এদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায়।

বর্তমানে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দূর অবস্থার কথা চোখে তুলে দেখিয়ে দিয়ে গেল আরো একবার।ভঙ্গুর এই স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে পরিবর্তন করতে চাই আমরা।আর তারই অংশ হিসেবে আমাদের এই প্রজেক্ট।
কারণ আমরা মনে করি –‘শিক্ষা মেরুদণ্ড আর স্বাস্থ্য জীবন কিন্তু স্বাস্থ্য বিহীন শিক্ষা, দেহ বিহীন মেরুদন্ডের ন্যায়’।

আমাদের এই প্রজেক্টের অংশ হিসেবে আমরা শুরুতেই নিজেদের মতামত প্রকাশ করেছি এবং এ সম্পর্কে ফেসবুকে পোস্ট এবং ভিডিও শেয়ার করেছি। আমাদের এই কাজ আমরা শুধু আমাদের মাঝেই সীমাবদ্ধ রাখতে চাই নি তাই আমরা চেষ্টা করেছিলাম সমাজের অন্য সকলের কাছে পৌছে গিয়ে তাঁদের মতামত নেয়ার।তারই ধারাবাহিকতায় আমরা একটি সমীক্ষা করি যেখানে অংশ নিয়েছিলেন প্রায় ৪০০’র মত মানুষ। যাদের মধ্যে ৯৫ শতাংশের মতামতই ছিল শিক্ষাক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসেবা নামক বিষয়টি যুক্তকরণ।

এখানেই শেষ হয়নি আমাদের কাজ। আমরা আমাদের প্রজেক্ট নিয়ে মতামত নিয়েছিলাম একজন পুষ্টিবীদের, যা আমরা প্রকাশ করেছি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে। আর এরপর আমরা করতে যাচ্ছি আমাদের প্রজেক্ট সম্পর্কে দেশের সর্বপ্রথম ভার্চুয়াল লাইভ প্রেজেন্টেশন।

কর্মমুখী শিক্ষা আমাদেরকে করেছে আত্মনির্ভরশীল।দেশের অর্থনীতিকে নিয়ে গেছে এক অনন্য উচ্চতায়।কিন্তু আত্মনির্ভরশীলতা এবং শক্তিশালী অর্থনৈতিক অবস্থাই সব নয়।জীবনের জন্য স্বাস্থ্য সেবাটাও জরুরী।আমরা চাই একটি সুস্থ জাতি এবং সুন্দর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা।যেখানে দেশের প্রতিটি মানুষ পাবে সু-স্বাস্থ্যের স্বাদ।
সমস্যা হচ্ছে আমরা জানি অনেক কিছুই কিন্তু প্রয়োজন বুঝে ব্যবহারিক ভাবে সেটা কাজে লাগাতে জানি না।কারণ আমাদের সেই সম্পর্কে নেই কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা।আর যেহেতু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাটাকেই আমরা প্রধান শিক্ষা হিসেবে মানি তাই আমরা চাই শিক্ষাক্ষেত্রে ‘জীবনমুখী স্বাস্থ্যসেবা বিষয়টি ব্যবহারিক ভাবে প্রয়োগ করা হোক। আর আমাদের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার সুযোগ করে দিয়েছে ‘ইয়ুথ ক্যারিয়ার ইন্সটিটিউট’।

আমরা আমাদের এই স্বপ্নটাকে শুধু আমাদের মধ্যেই নয় ছড়িয়ে দিতে চাই পুরো বিশ্বের কাছে। আর সেটা স্বপ্ন হিসেবেই নয় দেখতে চাই বাস্তব হিসেবেও। প্রতিটি পরিবারকে দিতে চাই সু-স্বাস্থ্যের নিশ্চয়তা, গড়ে যেতে চাই একটি সুস্থ জাতি।

লেখক : সমাজকর্মী, শিক্ষার্থী – মার্কেটিং বিভাগ, সরকারি বাঙলা কলেজ, ঢাকা।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য করুন