সার্টিফিকেট ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া সেই মালিকের রিমান্ড চায় পুলিশ

প্রকাশিত: ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৪, ২০২০

শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল ময়লার ভাগাড়ে ফেলে দেওয়া সেই ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়ককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার খোরশেদ আলম নামের ওই তত্ত্বাবধায়ককে গ্রেপ্তারের পর শুক্রবার এক শিক্ষার্থীর দায়ের করা মামলায় তাকে আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড চাওয়া হয়।

গ্রেপ্তার হোস্টেলে তত্ত্বাবধায়ক খোরশেদ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে রাজধানীর কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিতোষ কুমার বলেন, পূর্ব রাজাবাজার এলাকায় অবস্থিতি আলিফ হোস্টেলের তত্ত্বাবধায়ক খোরশেদ আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বাসা থেকে হোস্টেলের শিক্ষার্থীদের বেশ কিছু মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, কয়েকজন সহযোগীসহ খোরশেদ হোস্টেল থেকে শিক্ষার্থীদের মালামাল চুরি করে এবং বেশ কিছু মালামাল ডাস্টবিনে ফেলে দেয়।

এ ঘটনায় সোয়ান মিয়া নামের এক শিক্ষার্থীর দায়ের করা মামলায় খোরশেদ আলমকে আজ আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে তার রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। মামলার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, পূর্ব রাজাবাজারের ওই হোস্টেলে ১৩০ জন শিক্ষার্থী ভাড়া থাকতেন। দেশে নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ শুরুর পর শিক্ষার্থীরা বাড়িতে চলে যান। সম্প্রতি তারা ফিরে এসে দেখেন, হোস্টেলের তত্ত্বাবধায়ক তাদের সার্টিফিকেটসহ মূল্যবান মালামাল ময়লার ভাগাড়ে ফেলে দিয়েছেন।এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন সোহান মিয়া নামের এক শিক্ষার্থী।

আরো পড়ুন: করোনা: মেস ভাড়া না পেয়ে শিক্ষার্থীদের আসবাপত্র ডাস্টবিনে ফেললো মালিক

ভাড়া না পেয়ে ময়লার ভাড়াগে ফেলে দেওয়া হয় শিক্ষার্থীদের জিনিসপত্র। একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে রাজধানীর কলাবাগানে অবস্থিত ওয়েস্ট অ্যান্ড স্ট্রিটের রুবি ভবনেও। ওই ভবনের নিচতলায় ভাড়া থাকতেন ৮ জন শিক্ষার্থী। করোনা পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর তারা বাড়ি চলে যান। গতকাল বৃহস্পতিবার ফিরে এসে দেখেন, তাদের সার্টিফিকেটসহ জিনিসপত্র ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় বাড়ির মালিক মুজিবুল হকের নামে মামলা দায়ের করেছেন সজিব মিয়া নামের এক ভুক্তোভোগী শিক্ষার্থী।

উল্লেখ্য, করোনা প্রকোপে মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। করোনা সংক্রমন বৃদ্ধি পাওয়ায় বার বার ছুটি বৃদ্ধি পাচ্ছিল দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর। অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

দীর্ঘদিন ছুটির পর শিক্ষার্থীরা ঢাকায় ফিরে দেখতে পান রুমে তাদের বই খাতা, জামাকাপড়সহ অন্যান্য আসবাপত্র কিছুই নেই। আরো বড় দুঃসংবাদ হলো তাদের শিক্ষাজীবনে অর্জিত সার্টিফিকেটগুলোও নেই।

দু- তিন মাসের ভাড়া বকেয়া থাকার কারনে বাড়িওয়ালা সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়িতে শিক্ষার্থীদের সব জিনিসপত্র তুলে দিয়েছেন।

তাদের সকল মালামাল ময়লার ভাগাড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে শুনে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় ছুটে আসেন তারা। এসে জানতে পারেন সত্যি সত্যিই তাদের সকল মালামাল সিটি কর্পোরেশনের ময়লার গাড়িতে তুলে দেওয়া হয়েছে। সজিব বলেন, বাসায় তার সকল একাডেমিক সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ও বই খাতা ছিল। কিন্তু সব কিছুই ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এখন তিনি কী করবেন তা বুঝতে পারছেন না।

বাড়ির মালিক মুজিবুল হককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান ওসি পরিতোষ কুমার।

ওয়াইপি/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন