ভ্রমনপিপাসুদের পিপাসা মেটাবে বাংলাদেশের যে কয়টি স্থান

ঘুরে দেখুন প্রিয় স্বদেশ

প্রকাশিত: ১১:১৩ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২, ২০২০

ভ্রমন করতে ভালোবাসে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুস্কর। প্রত্যেক মানুষই ভালোবাসে ভ্রমন করতে এবং দৃষ্টিনন্দন স্থানসমূহ ঘুরতে। বাংলাদেশ একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমিপূর্ণ দেশ। বন, পাহাড়, নদী, সাগর, দ্বীপ কী নেই এই দেশে? একদিকে যেমন পাহাড়-পর্বত, অন্যদিকে সবুজের সমারোহ। দক্ষিণে আছে বঙ্গোপসাগর। অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি বাংলাদেশে রয়েছে অসংখ্য প্রাচীন নিদর্শন ও বিখ্যাত দর্শনীয় স্থান। প্রতি বছর প্রচুর পর্যটক দেশ ও দেশের বাইরে থেকে আসেন এগুলো দেখার জন্য।

বাংলাদেশে সব বয়সী মানুষের ভ্রমণের হার দিন দিন বাড়ছে। সেই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকারও নানান উদ্যোগ নিচ্ছে। পর্যটনকে আরও এগিয়ে এই খাতে যুক্ত হচ্ছে নানান ব্যবস্থা।

বাংলাদেশের প্রসিদ্ধ কিছু ভ্রমণস্পটের নাম ও কিভাবে সেসব স্থানে যাওয়া যাবে তা লেখা হলো এখানে।

সুন্দরবন :

ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্বের সপ্ত আশ্চর্যের একটি হলো সুন্দরবন। বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী অঞ্চল খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট জেলা এবং ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনা ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জুড়ে এ প্রাকৃতিক বনভূমি বিস্তৃত। গঙ্গা, মেঘনা এবং ব্রহ্মপুত্র নদীত্রয়ের অববাহিকা বিশ্বের সর্ববৃহৎ এই ম্যানগ্রোভ বনের ঠিকানা। আয়তন প্রায় ১০,০০০ বর্গ কিলোমিটার। যার মধ্যে ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটারের মালিক বাংলাদেশ। সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে রয়েছে সুন্দরী, কেওড়া, গরান, গেওয়াসহ প্রায় ৩৫০ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। ১২০ প্রজাতির মাছ, ২৭০ প্রজাতির পাখি, ৫০০ বাঘ এবং ১৫০০০ চিত্রা হরিণ থাকার খবরও জরিপে প্রকাশ পেয়েছে।

শীতকাল সুন্দরবন ভ্রমণের উপযুক্ত সময়। বনের ভেতরে যাবার একমাত্র উপায় হলো নৌকা। উল্লেখযোগ্য কতগুলো পয়েন্ট হচ্ছে জামতলা সৈকত, মান্দারবাড়িয়া সৈকত, হীরণ পয়েন্ট, দুবলার চর এবং কটকা বিচ।

যেভাবে যাবেন সুন্দরবন : ঢাকা থেকে আপনাকে প্রথমে যেতে হবে খুলনা। সরাসরি খুলনা যাওয়ার জন্য বাস, ট্রেন এবং লঞ্চের ব্যবস্থা রয়েছে। ঢাকা থেকে সোহাগ, হানিফ ও ঈগল পরিবহনের বাস ভোর ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত খুলনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে খুলনা যাবার জন্য বিভিন্ন কোম্পানির লঞ্চ রয়েছে।তবে একা না গিয়ে কোন গ্রুপ গেলে সুন্দরবন ভ্রমণ নিরাপদ, আনন্দদায়ক এবং কম খরচে হবে। কিছু ট্যুর কোম্পানি রয়েছে যারা নিজস্ব তত্ত্বাবধানে সুন্দরবন ট্যুর সম্পন্ন করে থাকে।

কক্সবাজার :

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১২২ কি. মি.। এখানে বিভিন্ন উপজাতি এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস। কক্সবাজারে জনপ্রিয় স্থানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো লাবনী বীচ, সুগন্ধা বীচ, কলাতলি বীচ, ইনানী বীচ, হিমছড়ি, মেরিন রোড, সেন্টমার্টিন, রামু বৌদ্ধবিহার, মহেশখালী, সোনাদিয়া দ্বীপ, কুতুবদিয়া দ্বীপ ইত্যাদি। সম্প্রতি কক্সবাজারে যুক্ত হচ্ছে দীর্ঘ ৯ দশমিক ৫ কিলোমিটার কেবল কার। কক্সবাজারে হতে যাচ্ছে ৩টি টুরিজম পার্ক। সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্য পুরোপুরি অবলোকনের জন্য টেকনাফ পর্যন্ত তৈরি করা হয়েছে মেরিন ড্রাইভ। এ ছাড়া নিঝুম দ্বীপ, শাহ পরীর দ্বীপসহ নতুন নতুন পর্যটনকেন্দ্রের হাতছানি পর্যটকদের মধ্যে চিত্তবিনোদনের ভিন্ন মাত্রা যোগ করছে।

এ সৈকতের নামকরণ নিয়ে রয়েছে এক বর্ণিল ইতিহাস। প্রথমে এর নাম ছিল পালঙ্গী। এরপর ব্রিটিশ অফিসার হিরাম কক্সের অবদান স্মরণীয় করে রাখতে কক্স সাহেবের বাজার নামে একটি বাজার প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৮৬৯ সালে এ বাজার পৌরসভার মর্যাদা লাভ করে।

যেভাবে যাবেন কক্সবাজার: আকাশপথ, রেলপথ এবং সড়কপথ যেকোন পথেই যেতে পারেন কক্সবাজার। বিভিন্ন কোম্পানীর বাস যেমন, এস আলম মার্সিডিজ বেঞ্জ, সৌদিয়া, হানিফ, গ্রীন লাইন পরিবহন, মর্ডান লাইন পরিবহন, স্টার লাইন পরিবহন ইত্যাদি। আকাশ পথে বাংলাদেশ বিমান, ইউএস বাংলা এবং নভোএয়ার ঢাকা-কক্সবাজার নিয়মিত ছেড়ে যাচ্ছে। ঢাকার কমলাপুর এবং বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে সোনার বাংলা, মহানগর এক্সপ্রেস, মহানগর প্রভাতি, তূর্ণা, নিশীথা, চট্টগ্রাম মেইল আলাদা আলাদ সময় ছেড়ে যায়।

এছাড়াও যাতায়াতব্যবস্থাকে সময়সাশ্রয়ী করতে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার নতুন রেললাইন ভ্রমণপিপাসুদের এক স্বস্তির ভ্রমণ উপহার দেবে। দেশের সর্ববৃহৎ পদ্মা সেতু, যা দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে এক সুদূর প্রসারী বন্ধন সৃষ্টি করবে। জাতীয় ৬টি হাইওয়ে চার লেনে উন্নীতকরণ ভ্রমণ পিপাসুদের নির্বিঘ্ন ভ্রমণে সহায়তা করবে।

সেন্টমার্টিন :

বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। যার আর এক নাম নারিকেল জিঞ্জিরা। কক্সবাজার থেকে ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণে এই দ্বীপ অবস্থিত। এর আয়তন ১৭ বর্গকিলোমিটার। সুবিশাল জলরাশির বুকে সুনীল আকাশ; চারদিকে সারি সারি নারকেল গাছ; প্রাণি ও প্রকৃতির এই গভীর মিতালী ভ্রমণ পিয়াসী যে কাউকে দুর্নিবার আকর্ষণ করে। টেকনাফ উপজেলার বিচ্ছিন্ন একটি ইউনিয়ন হলো সেন্টমার্টিন। যারা পূর্বে রয়েছে মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশ। নৌপথই সেখানে যাবার একমাত্র পথ।

যেভাবে যাবেন সেন্টমার্টিন: ঢাকা থেকে সরাসরি সেন্টমার্টিন যাওয়ার কোন ব্যবস্থা নাই। আপনাকে যেতে হবে টেকনাফ। সেখান থেকে জাহাজ বা ট্রলারে চরে সেন্টমার্টিন। ঢাকা থেকে সরাসরি টেকনাফ যায় এমন অনেক বাস রয়েছে। যেগুলো ফকিরাপুল, আরামবাগ এবং সায়দাবাদ থেকে নিয়মিত ছেড়ে যায়। ভাড়া ৯০০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে। টেকনাফ থেকে সকাল ৯টার মধ্যে জাহাজ ছেড়ে যায়। তাই সময়টা অবশ্যই মনে রাখতে হবে। যারা কক্সবাজার যাবেন তারাও একদিন সময় নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন অপরূপ সুন্দর এই দ্বীপ। বছরে পাঁচ মাস টেকনাফ থেকে জাহাজ চলাচল করে। অন্য সময় ট্রলার বা স্পীডবোটে চরে যেতে পারবেন।

বান্দরবান :

বান্দরবান বাংলাদেশের পার্বত্য জেলা গুলোর একটি। পাহাড়ি আঁকা বাঁকা পথ, মেঘ পাহাড়ের খেলা আর সবুজের সমারোহ দেখতে যারা ইচ্ছুক, তাদের জন্য ভালো একটা গন্তব্য হতে পারে পাহাড়ি কন্যা বান্দরবান। বছরের যেকোনো সময়ই যেতে পারেন বান্দরবানে। ভিন্ন ভিন্ন ঋতুতে পাহাড়ি কন্যা ভিন্ন রূপে সেজে থাকে। বর্ষায় এক রূপ, শীতে অন্য রূপ, শরতে বা হেমন্তে আবার ভিন্ন রূপ বান্দরবানের। শীতের সময় অর্থাৎ নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্যুরিস্ট স্পটগুলোতে প্রচুর ট্যুরিস্ট হয়। যদি নিরিবিলিতে প্রকৃতির সাথে সময় কাটাতে চান, তবে এই সময়ে সেটা সম্ভব নয়।

বান্দরবান এর অন্যান্য স্পটগুলো শীতে ভালো লাগলেও মেঘের রাজ্য নীলগিরিতে মেঘের খেলা দেখতে হলে বর্ষার সময়টা বেস্ট। এ সময় পাহাড়ও সবুজে সেজে থাকে। যেদিকে চোখ যায় শুধু সবুজের সমারোহ আর মেঘের খেলা। তবে বর্ষায় আবার পাহাড়ি এলাকায় ভূমি ধস হয়ে থাকে। তাই বেড়াতে যাওয়ার আগে একটু খোঁজ খবর নিয়ে যাওয়া ভালো।

যেভাবে যাবেন বান্দরবান: ঢাকা থেকে বাসে সরাসরি বান্দরবান যেতে পারেন, সময় লাগবে প্রায় ৭ ঘন্টা । শ্যামলি, দেশ ট্রাভেলস, সৌদিয়া, ডলফিন, সেন্টমার্টিন পরিবহন এবং আরো কয়েকটি বাস আছে। নন এসি বাসের ভাড়া, জনপ্রতি ৬২০ থেকে ৬৫০ টাকা। সেন্টমার্টিন পরিবহন, হানিফ, দেশ ট্রাভেলস, শ্যামলি এসি বাসের ভাড়া বাস ভেদে ৯৫০/১৪০০/১৫০০ টাকা। ঝামেলা এড়াতে ঘরে বসেই বাসের টিকেট অনলাইনে বুক করতে পারেন। এছাড়া যারা চট্টগ্রাম হয়ে বান্দরবান যেতে চান, তারা চট্টগ্রামের বদ্দারহাট বাস টার্মিনাল থেকে বান্দরবান যাবার বাস পাবেন। নন এসি বাস, ভাড়া ১২০ টাকা। লোকাল বাসের ঝামেলা এড়াতে চাইলে যেতে পারেন সিএনজি নিয়েও। আবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ট্রেনে যেয়ে সেখান থেকে বাসে বান্দরবান যেতে পারেন।

সাজেক ভ্যালি :

বাংলাদেশের অন্যতম দর্শনীয় স্থান সাজেক ভ্যালি। যার অবস্থান চট্টগ্রাম বিভাগের রাঙ্গামটি জেলার বাঘাইছড়ি ইউনিয়নে। এর অবস্থান রাঙামাটিতে হলেও খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা থেকে খুবই কাছে। মাত্র ৪০ কিলোমিটার। সাজেক বাংলদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন হিসেবে খ্যাত। এর আয়তন ৭০২ বর্গমাইল। ভারতের ত্রিপুরা-মিজোরাম সীমান্তবর্তী এলাকা হলো সাজেক। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ১৮০০ ফুট।

সাজেক ভ্যালিকে আপনি বলতে পারেন মেঘের রাজ্য। এখানে এসে নিজেকে মনে হতে পারে মেঘের রাজ্যের বাসিন্দা।
যেভাবে যাবেন : ঢাকা থেকে সরাসরি খাগড়াছড়ি দীঘিনালা পর্যন্ত যায় শান্তি পরিবহন। এছাড়া খাগড়াছরি পর্যন্ত যেতে পারেন শ্যামলী, সৌদিয়া, এস আলম, ঈগল, বিআরটিসি গাড়িতে। খাগড়াছরি বা দীঘিনালা থেকে চান্দের গাড়ি করে সাজেক যাওয়া যাবে।

কুয়াকাটা :

অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি সাগর কন্যা কুয়াকটা (Kuakata Sea Beach) যা পটুয়াখালী জেলায় অবস্থিত। কুয়াকাটা দক্ষিণ এশিয়ায় একটি মাত্র সমুদ্র সৈকত যেখানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত অবলোকন করা যায়। সমুদ্রের পেট চিরে সূর্য উদয় হওয়া এবং সমুদ্রের বক্ষে সূর্যকে হারিয়া যাওয়ার দৃশ্য অবলোকন করা নিঃসন্দেহে দারুন ব্যপার।

কুয়াকাটা বেরী বাঁধ পেরিয়ে সমুদ্র সৈকতের দিকে যেতেই বাম দিকে ব্যক্তিগত উদ্দ্যোগে মিউজিয়াম স্থাপন করা হয়েছে। এরপরই কয়েক গজ দক্ষিণে “ফার্মস এন্ড ফার্মস” এর রয়েছে বিশাল নারিকেল বাগানসহ ফল ও ফুলের বাগান। এ বাগানের মধ্যে স্থাপন করা হয়েছে বেশ কয়েকটি পিকনিক স্পট, এ পিকনিক স্পট পরিদর্শনের পরেই রয়েছে কাংখিত ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বিশাল সমুদ্র সৈকত। এ সৈকতের পূর্ব দিকে এগুলোই প্রথমে দেখা যাবে নারিকেল বাগান, সুন্দর আকৃতির ঝাউ বাগান। বন বিভাগের উদ্দ্যোগে বিভিন্ন প্রজাতির ঝাউগাছ লাগিয়ে সমুদ্র সৈকতের শোভা বর্ধন করা হয়েছে। এ নারিকেল ও ঝাউবাগানের মধ্যেও রয়েছে পিকনিক স্পট যেখানে পর্যটকরা দল বেঁধে বনভোজনের অনাবিল আনন্দে নিজেদের একাকার করে তোলে।

যেভাবে যাবেন কুয়াকাটা: ঢাকা থেকে সড়কপথে এর দূরত্ব ৩৮০ কিলোমিটার, বরিশাল থেকে ১০৮ কিলোমিটার। ঢাকা থেকে বেশ কয়েকটি বাস এখন সরাসরি কুয়াকাটা যায়। ঢাকা থেকে সরাসরি দ্রুতি পরিবহন, সাকুরা পরিবহনসহ একাধিক পরিবহনের গাড়ীতে গাবতলী কিংবা সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে কুয়াকাটায় যেতে পারবেন। আপনি এসব বাসে গেলে আপনাকে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে ২০০ মিটার দূরে নামিয়ে দিবে। ভাড়া ৫০০-৫৫০। ঢাকা থেকে কুয়াকাটা বাসে যেতে মোট সময় লাগে প্রায় ১২/১৩ ঘন্টা। খুলনা থেকে কুয়াকাটার উদ্দেশ্যে সকাল ৭ টায় একটি বিআরটিসি বাস ছাড়ে। খুলনা থেকে যেতে সময় লাগে প্রায় ৭/৮ ঘন্টা। আর উত্তরবঙ্গ থেকে আসতে চাইলে সৈয়দপুর থেকে খুলনা পর্যন্ত রূপসা অথবা সীমান্ত আন্তঃনগর ট্রেনে করে আসতে পারবেন। রাত্রের টেনে আসলে সকাল ৭ টার বিআরটিসি বাসে করে কুয়াকাটা যেতে পারবেন।

ঢাকা সদরঘাট থেকে বিলাস বহুল ডাবল ডেকার এম.ভি পারাবত, এম.ভি সৈকত, এম.ভি সুন্দরবন, এম.ভি সম্পদ, এম.ভি প্রিন্স অব বরিশাল, এম.ভি পাতারহাট, এম.ভি উপকূল লঞ্চের কেবীনে উঠে সকালের মধ্যে পটুয়াখালী কিংবা কলাপাড়া নেমে রেন্ট-এ-কার যোগে/কুয়াকাটার বাসযোগে কুয়াকাটা পৌঁছাতে পারেন। ঢাকা থেকে উল্লেখিত রুট সমূহের লঞ্চগুলো বিকাল ৫ থেকে সন্ধ্যা ৭ টার মধ্যে লঞ্চ ঘাট ত্যাগ করে থাকে। লঞ্চে সিঙ্গেল কেবিন ভাড়া ১০০০ টাকা এবং ডাবল কেবিনের ভাড়া ১৮০০ টাকা।

জাফলং :

জাফলং বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন স্পট। সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ভারতের মেঘালয়-ডাওকি সীমান্তবর্তী এলাকায় এটি অবস্থিত। মেঘালয় পাহাড়ের সৌন্দর্য যেকোন লোককেই মোহিত করবে। পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ জলরাশি, ডাওকি বন্দরের ঝুলন্ত ব্রিজ, বর্ষা-শীতের আলাদা আলাদা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য জাফলংকে অনন্যতা দান করেছে। সিলেট মূল শহর থেকে জাফলঙের দূরত্ব ৬২ কিলোমিটার। জাফলং যাওয়ার পথেই দেখা যাবে তামাবিল।

কিভাবে যাবেন : ঢাকা থেকে খুব সহজেই গাড়িতে করে যেতে পারেন সিলেট। সায়েদাবাদ, ফকিরাপুল, মহাখালী, শ্যামলী এবং আব্দুল্লাপুর থেকে গ্রীন লাইন, এনা, শ্যামলী, ইউনিক, হানিফ ইত্যাদি বাস নিয়মিত সিলেটের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। রেল ভ্রমণের আনন্দও উপভোগ করতে পারেন। ঢাকার কমলাপুর এবং বিমানবন্দর থেকে উপবন, জয়ন্তিকা, পারাবত এবং কালনী এক্সপ্রেস নিয়মিত ছেড়ে যায়। আবার আকাশ পথে বিমানযোগেও যেতে পারেন সিলেট। নিয়মিতভাবে ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশে বাংলাদেশ বিমান, রিজেন্ট এয়ার, ইউনাইটেড এয়ার, ইউএস বাংলা ফ্লাইট ছেড়ে যায়।

চর কুকরি মুকরি :

চর কুকরি মুকরি (Char Kukri Mukri) এর অবস্থান ভোলা শহর থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপাসাগরের কোল ঘেষা মেঘনা নদীর মোহনায়। যা বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসাবে পরিচিত। এক সময় এই চরে অধিক কুকুর ও ইঁদুর (এখানে মেকুর নামে পরিচিত) পাওয়া যেত, এ কারণেই এটি চর কুকরি মুকরি নামে স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত হয়ে উঠে। ১৯৮৯ সালের ১৪ মে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার একর জমিতে সংরক্ষিত শ্বাসমূলীয় ম্যানগ্রোভ জাতীয় বৃক্ষের বনায়ন শুরু হয়। চর কুকরি মুকরির বনভূমিতে স্থান পেয়েছে সুন্দরী, গেওয়া, পশুর, কেওড়া, নারিকেল, বাঁশ ও বেত। বর্তমানে কুকুরি মুকুরি চরে বনভূমির পরিমাণ ৮৫৬৫ হেক্টর, যার মধ্যে ২১৭ হেক্টর জমি বন্য প্রাণীর অভয়াশ্রম এবং বসতি ও কৃষি আবাদর জন্য প্রায় ৪ হাজার ৮১০ হেক্টর জমি রয়েছে। মাছ ধরা ও কৃষিকাজ চর কুকরি মুকরিতে বসবাসকারী মানুষের প্রধান পেশা।

চর কুকরি মুকরির অভয়াশ্রমে প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে চিত্রা হরিণ, বানর, শিয়াল, উদবিড়াল, বন্য মহিষ-গরু, বন মোরগ, বন-বিড়াল প্রভৃতি। এছাড়া বক, শঙ্খচিল, মথুরা, বন মোরগ, কাঠময়ূর, কোয়েল ইত্যাদি নানান প্রজাতির পাখি ও সরিসৃপ রয়েছে। শীতকালের এই চর কুকরি মুকরিতে বিপুল পরিমানে অথিতি পাখির আগমন ঘটে। এছাড়া কুকরি মুকরি চরের সমুদ্র সৈকত নিরিবিলি ও পরিছন্ন। এর বনভূমিতে প্রায় ৯ কোটিরও বেশি জীবন্ত গাছ রয়েছে। চর কুকরিমুকরি বুক চিঁড়ে বয়ে যাওয়া ভাড়ানি খাল মেঘনা নদী হয়ে আছড়ে পড়েছে বঙ্গোপসাগরে। চরের বালিয়াড়ির ধরে ঢাল চর অতিক্রম করে সামনে এগোলেই বঙ্গোপসাগর। এখানেও কক্সবাজার কিংবা কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের আবহ খুঁজে পাবেন। স্থানীরা এই জায়গাটিকে বালুর ধুম নামে চেনে। কুকরিমুকরির সাগরপাড় থেকেও সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্থের অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করা যায়।
শীতকালে চর কুকরি মুকরির আসল সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। আবার এখানে ক্যাম্পিং করার জন্য শীতকালেই উপযুক্ত সময়। বর্ষায় চরের সিঙ্ঘভাগই ডুবন্ত থাকে তাই বর্ষাকালে চর কুকরি মুকরি ভ্রমণে না যাওয়াই ভালো। চর কুকরি মুকরি ভ্রমণের জন্য জানুয়ারী থেকে মার্চ মাস সবচেয়ে আদর্শ সময়।

যেভাবে যাবেন : চর কুকরি মুকরিতে যেতে নদী পথ হচ্ছে সবচেয়ে সহজ উপায়। নদী পথে যাতায়াতে খরচ ও শারীরিক কষ্ট কম হয়। নদী পথে চর কুকরি মুকরিতে যাওয়ার দুইটি উপায় আছে। ঢাকার সদঘাট থেকে ভোলাগামী লঞ্চে চড়ে ঘোষের হাট লঞ্চ টার্মিনাল নেমে সরাসরি লেগুনা ভাড়া করে চর কচ্ছপিয়া ঘাট আসতে পারেন। আর অন্য পথে ঘোষের হাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে চরফ্যাশন হয়ে দক্ষিন আইচা গিয়ে চর কচ্ছপিয়া ঘাট আসতে হয়। তবে ঘোষের হাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে সরাসরি লেগুনায় চর কচ্ছপিয়া যাওয়াই উত্তম।

সূত্র : আদার ব্যাপারী ওয়েবসাই, ভ্রমণগাইড।

এইচআরআর/পাবলিক ভয়েস।

মন্তব্য করুন