গাণিতিক হারে বাড়ছে সীমান্ত হত্যা, বিএসএফ বলছে ভিন্ন কথা

প্রকাশিত: ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২, ২০২০

চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে সীমান্তে বিএসএফের গুলি ও নির্যাতনে বাংলাদেশিদের মৃত্যুর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সংগ্রহ করা তথ্য থেকে বিষয়টি জানা গেছে।

বেসরকারি সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য বলছে, এ বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) সীমান্তে ২৫ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২১ জনই নিহত হয়েছেন বিএসএফের গুলিতে।

সংগঠনটি বলছে, দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তারা এই রিপোর্ট তৈরি করেছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৯ সালের প্রথম ছয় মাসে বিএসএফের গুলিতে ১৮ জন বাংলাদেশি নিহত হন। এ ছাড়া ভারতীয় সীমান্তরক্ষীদের নির্যাতনে দুই জনের মৃত্যু হয়। ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে সীমান্ত হত্যার সংখ্যা তিনগুণ বেড়েছিল।

আসকের তথ্যমতে, ২০১৯ সালে বিএসএফের হাতে ৪৩ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছিলেন। এর মধ্যে ৩৭ জনই গুলিতে প্রাণ হারান। বাকি ৬ জন নির্যাতনে মারা যান। অথচ আগের বছর (২০১৮) এ সংখ্যা ছিল ১৪ জন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি ২০২০ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত যারা সীমান্তে মারা গেছেন, তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিহত হয়েছেন রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন সীমান্তে।

জানা যায়, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ২০০৯ সালে বিএসএফের গুলি ও নির্যাতনে ৬৬ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়। এ ছাড়া ২০১০ সালে ৫৫ জন, ২০১১ ও ২০১২ সালে ২৪ জন করে, ২০১৩ সালে ১৮ জন, ২০১৪ সালে ২৪ জন, ২০১৫ সালে ৩৮ জন, ২০১৬ সালে ২৫ জন, ২০১৭ সালে ১৭ জন নিহত হন।

তবে বেসরকারি সংস্থাগুলো মনে করে, সীমান্তে হত্যার সংখ্যা আরো অনেক বেশি। যা অনেক সময় মিডিয়া পর্যন্ত আসেই না।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্কে অনেক উন্নতি হয়েছে। কিন্তু এর প্রতিফলন দুই দেশের সীমান্তে চোখে পড়েনি।

অবশ্য ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কর্মকর্তারা বলছেন, বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িতরা সীমান্তে ভারতীয় রক্ষীদের ওপর আক্রমণ করলেই কেবল প্রাণ বাঁচানোর স্বার্থে গুলি চালানো হয়।

এমএম/পাবলিকভয়েস

মন্তব্য করুন