করোনা: মৃতদের ভারতে এনে কবর দিচ্ছে নেপাল!

প্রকাশিত: ৬:৫৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ২, ২০২০

ভারত-নেপাল সীমান্ত সংঘাতের জেরে কি এবার অন্যভাবে ভারতকে জব্দ করার চেষ্ট করছে নেপাল? সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের নেপাল সীমান্ত এলাকা লখিমপুর খেরি থেকে পাওয়া খবর এমনই সন্দেহ তৈরি করেছে। নেপালে করোনাভাইরাসে মৃতদের লাশ ভারতে এনে কবর দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নজরে পড়ায় এই ঘটনা আটকে দেয়া যায়।

উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেরির কাছে গৌরিফ্যান্টা এলাকায় দুধওয়া ব্যাঘ্র সংরক্ষণ প্রকল্পের কাছ দিয়ে বয়ে গেছে মোহনা নদী। এই নদী সম্প্রতি তার গতিপথ পরিবর্তন করেছে। তার ফলে এই নদীর পাড় আগে নেপাল সীমান্তের অন্তর্ভুক্ত হলেও বর্তমানে তা ভারতের অংশে পড়ছে। কিছুদিন আগেও কয়েকজন নেপালি সে দেশে করোনায় মৃত এক ব্যক্তির লাশ ভারতে কবর দিতে নিয়ে আসে। তাদের আটকানো হলে জানায় যে মোহনা নদী যে গতিপথ পরিবর্তন করেছে তা তাদের জানা ছিল না। তাই ওই এলাকাকে নেপালের অংশ ভেবেই সেখানে লাশ কবর দিতে নিয়ে আসেন তারা।

সেই সময় তাদের নেপালে ফেরত পাঠিয়ে দেয় ভারতের সীমান্ত সুররক্ষা বাহিনী। কিন্তু পাঁচদিন পরে ফের সেই এক ঘটনা। এবার সে দেশে করোনায় মৃত ১১ বছরের একটি ছেলের লাশ এ ভারতে কবর দিতে নিয়ে আসা হয়। এবারও তাদের আটকানো হলে এই কাজের সেই একই ব্যাখ্যা দেয় নেপালিরা। তাদের দাবি ওই এলাকা নেপালের সীমানার অন্তর্ভুক্ত ভেবেই সেখানে লাশ কবর দিতে নিয়ে আসে তারা।

কিন্তু পর পর দু-বার একই ঘটনা ঘটনায় সন্দেহ বাড়িয়েছে। আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল যে সাধারণ গ্রামবাসী নন, নেপালের কয়েকজন স্বাস্থ্য কর্মকার্তা ভারতে ওই লাশগুলি কবর দিতে নিয়ে এসেছিলেন। পরপর দুবার এই ধরনের ঘটনার পর এই সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নেপালি কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেই তাদের ফেরত পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন দুধওয়া ব্যাঘ্র সংরক্ষণ প্রকল্পের ডেপুটি ডিরেক্টর মনোজ সোনকার।

যেহেতু করোনা রোগীর লাশ কবর দিতে ভারতে নিয়ে আসা হচ্ছে, তাই শুধুমাত্র সীমান্ত সমস্যা ছাড়াও বিষয়টির দিকে নজর রাখছে প্রশাসন। সীমান্ত এলাকার গ্রামের বাসিন্দারা দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে জটিলতার বিষয়ে অনেক সময়ে অন্ধকারে থাকেন। সেই কারণেই মোহনা নদী যে গতিপথ পরিবর্তন করায় তার পাড় এখন ভারতের অন্তর্গত তা অনেক গ্রামবাসীই জানেন না বলে মনে করছেন সশস্ত্র সীমা বলের ৩৯তম ব্যাটেলিয়নের কম্যান্ডান্ট মুন্না সিং। সশস্ত্র সীমা বলের তরফে সীমান্তে সাইন বোর্ড লাগানো হয়েছে।এইসময়।

এমএম/পাবলিকভয়েস

মন্তব্য করুন