ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান লতিফুর রহমানের মৃত্যু

নাতী ফায়াজের মৃত্যুদিনেই মারা গেলেন তিনি

প্রকাশিত: ২:৪০ অপরাহ্ণ, জুলাই ১, ২০২০

বহুল প্রচারিত গণমাধ্যম প্রথম আলোসহ দেশের একাধিক প্রথম সারীর ব্যবসা-বাণিজ্যের মালিকানা প্রতিষ্ঠান ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী লতিফুর রহমান মারা গেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ বুধবার কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন।

লতিফুর রহমান বেশিরভাগ সময়ই কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের বাড়িতে থাকতেন। সেখানেই আজ বুধবার সকালে তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান বলে জানা গেছে। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন। যার মধ্যে তার এক মেয়ে শাজনীন রহমান ১৯৮৮ সালে গুলশানের বাড়িতে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন।

লতিফুর রহমান এমন দিনে মারা গেলেন, যেদিন তাঁর নাতি ফারাজ আইয়াজ হোসেনের মৃত্যুবার্ষিকী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারাজ হোসেন ২০১৬ সালের ১ জুলাই ঢাকার হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় আলোচিত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় নিহত হন।

লতিফুর রহমান প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার পত্রিকার অন্যতম মালিক। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক ফুড চেইন পিৎজা হাট ও কেএফসি, পেপসি এবং ফিলিপসের বাংলাদেশে ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক ছিলেন তিনি।

ব্যবসায়ে নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০১২ সালে বিজনেস ফর পিস অ্যাওয়ার্ড পুরস্কার পান। ২০০৯ সাল থেকে ব্যবসাখাতে স্বীকৃতিস্বরূপ এ পদক দেয়া হচ্ছে।

লতিফুর রহমান পড়াশোনা শুরু করেন সেন্ট ফ্রান্সিস স্কুলে। সেখান থেকে চলে যান হলিক্রস স্কুলে। সে সময় হলিক্রসে ছেলেরাও পড়ত। ১৯৫৬ সালে যান শিলংয়ে এবং সেন্ট এডমন্ডস স্কুলে ক্লাস থ্রিতে ভর্তি হন। সেখান থেকে কলকাতা সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে যান।

১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ, হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা—এসব কারণে ঢাকায় ফিরে আসেন লতিফুর রহমান। এসে পাটের ব্যবসায় ঢুকে যান। তার বাবা তখন চাঁদপুরে গড়ে তুলেছেন ডব্লিউ রহমান জুট মিল। ১৯৬৩ সালে কাজ শুরু হলেও উৎপাদন শুরু হয় ১৯৬৬ সালে।

সেখানে ট্রেইনি হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি ১৯৬৬ সালে। দেড় বছর কাজ শেখার পর একজন নির্বাহী হিসেবে যোগ দেন। লতিফুর রহমান ১৯৭২ সালে যখন সবকিছু নতুন করে শুরু করেছিলেন, তখন তার সঙ্গে কাজ করতেন মাত্র পাঁচজন।

লতিফুর রহমানের ট্রান্সকম গ্রুপের উৎপত্তি হয়েছিল চা চাষের মাধ্যমে, এখন বাংলাদেশের অন্যতম একটি বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান এটি; যার রয়েছে ১৬টি কোম্পানি। ১০ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান করেছে এ গ্রুপ। শুরুতে ৫০ লাখ টাকা ব্যাংকঋণ নিয়ে নতুন করে শুরু করেছিলেন তিনি। এখন এই গ্রুপের বার্ষিক লেনদেনের পরিমাণ সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার বেশি।

লতিফুর রহমান নেসলে বাংলাদেশ, হোলসিম বাংলাদেশ এবং ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স ও ইনভেস্টমেন্টের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি লিন্ডে বাংলাদেশ এবং ব্র্যাকের গভর্নিং বোর্ডের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি আইসিসি বাংলাদেশের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

#আরআর/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন