কুমিল্লায় দিনদুপুরে ঘরে ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ শেষে হত্যা

প্রকাশিত: ৭:১৫ পূর্বাহ্ণ, জুন ৩০, ২০২০

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে দিনদুপুরে ঘরে ঢুকে রাবেয়া আক্তার (২১) নামে একজন প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলার মান্দ্রা গ্রামে ওই নারীর পিতার বাড়িতে মোটরসাইকেলযোগে অজ্ঞাত তিন ব্যক্তি এসে তাকে ধর্ষণ শেষে হত্যা করে কৌশলে পালিয়ে যায় বলে স্বজনদের অভিযোগ।

ওই নারীর পিতা বাদী হয়ে এজহার নামায় ৪ জনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩/৪জনকে আসামী করে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ মোটরসাইকেলে আসা তিন ব্যক্তিকে খুঁজছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জোড্ডা পশ্চিম ইউনিয়নের মান্দ্রা গ্রামের আলী মিয়ার স্ত্রী জাহানারা বেগম রবিবার (২৮) সকাল ১১টার দিকে প্রয়োজনের তাগিদে স্থাণীয় মান্দ্রা বাজারে যান। এসময় বাড়িতে রাবেয়া আক্তার ও তার নানী জামিলা খাতুন (৭২) ছাড়া অন্য কেউ ছিলেন না। সুযোগ বুঝে মোটরসাইকেলযোগে তিনজন অজ্ঞাত লোক তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে।

এসময় দুই যুবক ঘরে প্রবেশ করে এবং মধ্যবয়সী অন্য ব্যক্তি ঘরে বসে পাহারা দেন। রাবেয়ার নানী ব্যাংকের লোক মনে করে আপন মনে তরকারি কাটছিল।

বেশ কিছুক্ষণ পর রাবেয়ার মা জাহানারা বেগম বাজার থেকে ফিরে মায়ের কাছে মেয়ে কোথায় জানতে চান। সে ঘরে ব্যাংকের লোকদের সাথে কথা বলছে এমনটি জানালে তিনি এগিয়ে গিয়ে মেঝেতে লাশ দেখতে পায়।

খবর পেয়ে রাতে পুলিশের চৌদ্দগ্রাম সার্কেল সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম, সি আইডি, পিবিআই এর স্পেশাল ক্রাইমসিন ম্যানেজমেন্ট টিম, ডিবির এলআই টিম এবং নাঙ্গলকোট থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা নারীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেন।

রাবেয়াকে ধর্ষণ শেষে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে তার স্বজন ও এলাকাবাসীর অভিযোগ।

স্থানীয়রা জানান, গত দুই বছর আগে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে ১৮নং ওয়ার্ডের নুরপুর গ্রামের মাসুদ মজুমদারের ছেলে কাতার প্রবাসী মেহেদী হাছানের সাথে রাবেয়ার বিয়ে হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো রাবেয়াকে শশুড় বাড়িতে তুলে না নেয়ায় সে পিতার বাড়িতে অবস্থান করেন।

রাবেয়ার মা জাহানারা বেগম বলেন, আমার মেয়ের সাথে একই গ্রামের আবুল কালাম ও তার ভাই লিটনের বিরোধ চলে আসছিল। তারা বিভিন্ন সময়ে মেয়েকে হত্যার হুমকি দেয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিশ বৈঠক হয়। আমার মেয়ের হত্যার সাথে তারা জড়িত থাকতে পারে।

এদিকে, পিতা বাদী হয়ে এজহারনামীয় ৪ জনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩/৪জনকে আসামী করে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ মোটরসাইকেলে আসা তিন ব্যক্তিকে খুঁজছে। তবে অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে থাকায় পুলিশ এখনো তাদের গ্রেফতার করতে পারেনি।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওই নারীর ময়নাতদন্ত শেষে নাঙ্গলকোট থানা পুলিশ পরিবারের নিকট শাশ হস্তান্তর করেছে। সোমবার (২৯ জুন) বিকাল ৩টার দিকে তার মরদেহ দাফন করা হয়েছে।
বিকেলে পাশ্ববর্তী বাড়ির আনুমানিক ২০ বছর বয়সী সোহেল নামক এক তরুণকে গ্রেফতারের বিষয়টি স্থানীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করলেও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নাঙ্গলকোট থানা পুলিশ পরিদর্শক আশ্রাফুল ইসলাম অস্বীকার করেছে।

তিনি জানান, লাশ উদ্ধারের সময় রাবেয়ার গলায় আঘাতের চিহৃ ছিল। মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। রিপোর্ট আসলে বিস্তারিত জানা যাবে। মোটরসাইকেলযোগে ওই নারীদের বাড়িতে আসা ব্যক্তিদের গ্রেফতার করে হত্যার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান। সূত্র : কুমিল্লার কাগজ

#আরআর/পাবলিক ভয়েস।

মন্তব্য করুন