চীনের দখলে নেয়া লাদাখের ১৮ কি.মি. আর কি ফেরাতে পারবে ভারত ?

প্রকাশিত: ৪:৪৮ অপরাহ্ণ, জুন ২৯, ২০২০

দিল্লির সামরিক নীতি হলো, নিজে থেকে আগ্রাসী পদক্ষেপ নয়। কিন্তু খারাপ পরিস্থিতিতে সাজসরঞ্জামে যাতে ঘাটতি না হয়, তার ব্যবস্থা করে রাখা।

পূর্ব লাদাখে সব রকম খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। পৌঁছে গিয়েছে ৪৫ হাজার সেনা, টি-৯০ ভীষ্ম ট্যাঙ্ক, জমি থেকে আকাশমুখী ক্ষেপণাস্ত্র। বসেছে এয়ার সার্ভেল্যান্স সিস্টেম। এরই মধ্যে গালওয়ান উপত্যকায় নতুন করে চিনের আরও ১৬টি সেনা ছাউনির ছবি ধরা পড়েছে সাম্প্রতিক উপগ্রহচিত্রে।

গত ২২ জুনের উপগ্রহচিত্রে গালওয়ানে চীনের তৈরি পাকা পরিকাঠামোর হদিস মিলেছিল। এবার খবরে বলা হয়েছে, ২৫ ও ২৬ তারিখের ছবিতে আরও ১৬টি কালো ত্রিপলে ঢাকা সেনাছাউনি দেখা যাচ্ছে, যা আগের ছবিতে ছিল না।

অর্থাৎ চীন সেনা মোতায়েন বাড়িয়েই চলেছে। এমতাবস্থায় দিল্লির সামরিক নীতি হল, নিজে থেকে আগ্রাসী পদক্ষেপ নয়। কিন্তু খারাপ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সাজসরঞ্জামে যাতে ঘাটতি না হয়, তার ব্যবস্থা করে রাখা।

আরও পড়ুন: ‘এলএসি’-কে ‘এলওসি’ বানানোই লক্ষ্য চীনের, আনন্দবাজারের প্রতিবেদন

দেশটির বিরোধী রাজনৈতিক শিবির প্রশ্ন তুলছে, সে না হয় হল। কিন্তু চীনা সেনা যে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে ১৮ কিলোমিটার ভিতরে ঢুকে তাঁবু গেড়ে রয়েছে, তাদের ফেরত পাঠানোর কোনও উপায় কি আদৌ রয়েছে? সেটা না থাকলে সেনা-প্রস্তুতির ফিরিস্তি দিয়ে অতি-জাতীয়তাবাদী দেখনদারির অর্থ কী?

বিরোধীদের মতে, ভারত এখন যে সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে, তার লক্ষ্য মূলত, চীন যাতে নতুন করে আর জমি দখল করতে না পারে। ফিঙ্গার চার থেকে আট এবং গালওয়ান উপত্যকার মতো এলাকা যাতে হাতছাড়া না হয়। কিন্তু গালওয়ানে দখল হওয়া কয়েকশো বর্গ কিলোমিটার জমির কী হবে?

চীনা শিবির গুড়িয়ে দিতে ক্ষেপণাস্ত্রসহ ৪৫ হাজার সেনা পাঠাল ভারত

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে নীরব। তারা সেনা ও সরঞ্জাম মোতায়েন, পৌঁছনো, লাদাখের দৌলত বেগ ওল্ডি, ফুকচে, নায়োমা এয়ারস্ট্রিপ সক্রিয় করা ৬৫টি পেট্রোলিং পয়েন্টে বাড়তি সেনা মোতায়েন নিয়ে কথা বলছে। কিন্তু বেহাত হওয়া জমির পুনরুদ্ধারে কী করা হবে তা নিয়ে জবাব নেই।

কূটনৈতিক স্তরে নানাভাবে চীনকে ফিরে যাওয়ার কথা বলা হচ্ছে। তবে এত সহজে যে তারা ফিরবে না, তা ঘরোয়াভাবে স্বীকার করছেন সরকারি কর্তারাই। দু’দিন আগে চীনের সঙ্গে যুগ্মসচিব স্তরের বৈঠকের পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রেও জানানো হয়, এই প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদি, দ্রুত মেটার নয়।

সৌজন্য: মিলিটারি ডিফেন্স ফোরাম (এমডিএফ)

এমএম/পাবলিকভয়েস

মন্তব্য করুন