পশ্চিম তীরের ৩০% গ্রাসের ইসরাইলি চক্রান্ত কি গ্যাঁড়াকলে ফাঁসছে?!

প্রকাশিত: ৭:২০ অপরাহ্ণ, জুন ২৮, ২০২০

পশ্চিম তীরের ত্রিশ শতাংশ অঞ্চলকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের ভূখণ্ড হিসেবে যুক্ত করার ইসরাইলি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া চাপ বেড়েই চলেছে। আর মাত্র তিন দিন পর তথা আগামী এক জুলাই থেকে পশ্চিম তীরের শতকরা ত্রিশ-ভাগ এলাকাকে ইসরাইলের অবিচ্ছেদ্য অংশ করার ইসরাইলি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার কথা রয়েছে।

ইসরাইলের লিকুদ দলের প্রধান নেতানিয়াহু ও নীল-সাদা বা ব্লু-হোয়াইট দলের প্রধান বেনি গান্তজ্‌ জোট-সরকার গঠনের সময় গত এপ্রিল মাসে পশ্চিম তীরের ত্রিশ শতাংশ অঞ্চলকে ইসরাইলের অংশে পরিণত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এর আগে গত ২৮ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষিত শতাব্দির লেনদেন নামক পরিকল্পনায় সিরিয়ার গোলানসহ ইসরাইলের দখলে থাকা সব আরব-ভূখণ্ডকে ইসরাইলের অংশে পরিণত করার কথা রয়েছে বলে জানা গেছে।

অবশ্য পশ্চিম তীরের এক বড় অংশকে গিলে ফেলার ইসরাইলি দানবীয় প্রচেষ্টা বড় ব্যাপক বাধার মুখে পড়েছে। এই প্রচেষ্টার ফলে ইসরাইলিদের মধ্যে গান্তজ্-এর দল নীল-সাদা বা ব্লু-হোয়াইট দলের গ্রহণযোগ্যতা বেশ কমে গেছে বলে ইসরাইলি সূত্রগুলো জানিয়েছে। এ অবস্থায় ইসরাইলের চতুর্থ দফার সংসদ নির্বাচন হলে তাতে নেতানিয়াহুর লিকুদ দলই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে এবং বেনি-গান্তজ্-এর দলকে নিয়ে কোয়ালিশন সরকার গঠনের ও গান্তজ্-এর কাছে প্রধানমন্ত্রীত্ব ছেড়ে দেয়ার সম্ভাবনাও থাকবে না বলে মনে করা হচ্ছে।

তাই গান্তজ্ পশ্চিম তীরের এক বড় অংশকে এখনই গিলে ফেলার উদ্যোগের বিরোধিতা করছে যাতে নেতানিয়াহু এই ইস্যুটিকে তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে ও কোয়ালিশন সরকারকে বাতিল করতে না পারে।

মার্কিন সরকার পশ্চিম তীরের এক বড় অংশকে হজম করার ইসরাইলি চক্রান্তের মূল বা প্রধান শরিক হওয়া সত্ত্বেও কখন তা গিলতে হবে তা নিয়ে তেলআবিবের সঙ্গে মতভেদ রয়েছে ওয়াশিংটনের। নেতানিয়াহুর মত ট্রাম্পও চাচ্ছেন এ বিষয়টিকে নির্বাচনের কাজে লাগাতে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে আগামী নভেম্বর মাসে। তাই পশ্চিম তীরের ত্রিশ শতাংশকে ঠিক মার্কিন নির্বাচনের প্রাক্কালেই কার্যকর করা হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মার্কিন নির্বাচনের পরে এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে গেলে তা হয়ত সফল হবে না বলে ভয় পাচ্ছে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান ইউসি কোহেন।

অন্যদিকে ফিলিস্তিনি দলগুলোর পক্ষ থেকেও ইসরাইলের এই রাক্ষুসে তৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেয়া হচ্ছে।

ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের রাজনৈতিক শাখার প্রধান ইসমাইল হানিয়া আরবও মুসলিম বিশ্বের রাজনৈতিক নেতাদেরকে ফিলিস্তিন ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিরাট অংশকে ইসরাইলের সঙ্গে সংযুক্ত করার ইহুদিবাদী পরিকল্পনা রুখে দেয়ার জন্য মুসলিম নেতাদের প্রতি অনুরোধ জানান।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের ১২০ জনেরও বেশী নেতাকে লেখা গতকালের (বুধবার) চিঠিতে ইসমাইল হানিয়া আরো বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি ফিলিস্তিন ইস্যুতে আরব ও মুসলিম বিশ্বের রাজনৈতিক দল এবং সংগঠনের নেতাদের ঐতিহাসিক দায়িত্ব রয়েছে। ফিলিস্তিনি জনগণের বৈধ অধিকারের প্রতি সমর্থন এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখলে ইসরাইলি পরিকল্পনা রুখে দেয়ার জন্য তাদেরকে সেই দায়িত্ব পালন করতে হবে।”

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ইসরাইলের আগ্রাসী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় জোট, রাশিয়া ও চীন ইসরাইলের এই হঠকারিতার নিন্দা জানাচ্ছে।

বেলজিয়ামের সংসদও ইসরাইলের এই সম্ভাব্য আগ্রাসী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইসরাইলের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিপি লিভিনি পশ্চিম তীরের কিছু অংশ দখল করার ইসরাইলি পদক্ষেপকে ইসরাইলের বড় ধরনের ঐতিহাসিক ভুল ও ইসরাইলের স্বার্থ বিরোধী পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছে।

তাই নেতানিয়াহু পশ্চিম তীরের ত্রিশ শতাংশ ভূমি দখলের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন আপাতত স্থগিত রাখতে বাধ্য হবেন বলেই বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এমএম/পাবলিকভয়েস

মন্তব্য করুন