চীন ফের অশান্তির চেষ্টা করলে যোগ্য জবাবের হুঁশিয়ারি ভারতের

প্রকাশিত: ৬:২৯ অপরাহ্ণ, জুন ২৮, ২০২০

লাদাখে চীন ফের অশান্তির চেষ্টা করলে যোগ্য জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, লাদাখে ভারতীয় ভূখণ্ডে যাদের নজর পড়েছে, তাদের যোগ্য জবাব দেওয়া হয়েছে। ফের অশান্তি করলে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে বলে দেশটির পররাষষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়।

রোববার দেশটির রেডিও অনুষ্ঠান মন কি বাতে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ভারত যেমন বন্ধুত্ব করতে জানে, তেমন শত্রুদের জবাব দিতেও জানে। আমাদের সাহসী জওয়ানরা নিশ্চিত করেছে, মাতৃভূমিকে আক্রমণে কাউকে ছাড় দেবে না। যে হারে দেশের মানুষ চীনা পণ্য বয়কটের ডাক দিয়েছে, তার প্রভাব সে দেশের অর্থনীতিতেও পড়বে বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় মোদি চীনের সঙ্গে সংঘর্ষে ২০ সেনার মৃত্যুর বিষয়টিও যোগ করেন। তিনি বলেন, সাহসী জওয়ানদের আমরা প্রণাম করি। এরাই দেশকে নিরাপদ রেখেছেন। তাদের আত্মত্যাগ সবসময় স্মরণ করবে দেশ।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় যদি এখনও চীন কোনো অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করে তবে তার যোগ্য জবাব দেওয়া হবে। রীতিমতো হুশিয়ারির সুরে এ কথা বলল ভারত। শুধু তাই নয়, ভারত-চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেও এর প্রভাব পড়বে বলেও প্রতিবেশী দেশটিকে সতর্ক করা হয়।

চীনে দায়িত্বরত ভারতের রাষ্ট্রদূত বিক্রম মিশ্রি সংবাদসংস্থা পিটিআইকে বলেন, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় যে সমস্যা তৈরি হয়েছে তা আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার একমাত্র রাস্তা হল চীনের পক্ষ থেকে সেখানে নতুন অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধ করা।

তিনি বলেন, গালওয়ান উপত্যকার ওপর চীনের সার্বভৌমত্বের দাবি মোটেই যুক্তিযুক্ত নয়। চীনের এই ধরনের অতিরঞ্জিত দাবিগুলো কোনো কাজে আসবে না।

ভারতের রাষ্ট্রদূত বলেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতির জন্য সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা একটি অপরিহার্য শর্ত। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে চীনের সেনাবাহিনীর এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কোনো শর্তই মেনে চলছে না। চীনের উচিত ভারতীয় সেনার সাধারণ টহলদারিতে বাধা সৃষ্টি না করা।

এদিকে এক সপ্তাহ আগে স্যাটেলাইটের ছবিতে দেখা গেছে, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় গালওয়ান নদীর দুই পাশে তাঁবু গেড়েছে চীনা সেনাবাহিনী। ভারত-চীন উত্তেজনা নিরসনে বৈঠকের পরে এ ছবিগুলো প্রকাশ্যে আসে। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ছাড়াও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এসব ছবি প্রকাশ হয়।

ওয়াইপি/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন