রাজনীতি হোক বিশুদ্ধতায় || মতামত

প্রকাশিত: ৫:২৩ অপরাহ্ণ, জুন ২৫, ২০২০

রাজনীতি মানব সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রাচীন গ্রীক থেকে প্রতিটি সমাজেই রাজনীতি বিদ্যমান। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এর প্রভাব অপরিসীম। একটি দেশ ও রাষ্ট্র গঠনে রাজনীতির গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না। দেশের বহিঃশত্রুর আক্রমণ ও সফলতার পশ্চাতে রয়েছে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক তৎপরতা। একটি দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, ধর্ম,বানিজ্য, অর্থনীতি ও সংস্কৃতিসহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই রয়েছে রাজনীতির পদচারণ। বুৎপত্তিগত অর্থে রাজনীতি মানে ক্ষমতার চরম মতদ্বৈধতার লড়াই।

ষাট ও সত্তরের দশকের রাজনীতির মতো বর্তমান বিশ্বের রাজনীতি অতোটা বিশুদ্ধ নয়। গণতান্ত্রিক রাজনীতির নামে চলছে স্বার্থপরতা, শাসন,শোষণ আর উৎপীড়নের অপরাজনীতি। এতে জন্ম নিচ্ছে অপ্রাপ্তি আর বেদনার ক্ষোভ। জনমনে অসন্তোষ আর তীব্র বিশৃঙ্খলা। জনগণের অধিকার আদায়ের নামে দেশে রাজনৈতিক দল প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে।

যতদূর জানা যায় এ অব্দি বাংলাদেশে ৪৪ টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে। এতো রাজনৈতিক দল থাকা সত্ত্বেও জনগণের অধিকার আদায় হচ্ছে না কেন এটাই ভাবার বিষয়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদ দল (বি.এন.পি) ব্যতীত উল্যেখ করার মত দল হচ্ছে জাতীয় পার্টি ও কয়েকটি ইসলামী রাজনৈতিক দল। যদি আনুপাতিক ও পরিসংখ্যানিক ভাবে হিসাব করা হয় তবে দেখা যাবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থক রয়েছে। এদের উভয়ের সম্পর্ক হলো এরকম পান থেকে চুন খসে পড়া মাত্রই হাঙ্গামা শুরু করা।

আজকে সরকার দলীয় কেউ মৃত্যুবরণ করলে প্রধান বিরোধী দল উল্লাসে ফেটে পড়ে তদ্রূপ বিরোধী দলের কেউ মৃত্যুবরণ করলে সরকার দলীয়রা উল্লাসে ফেটে পড়ে। এটাকে অবশ্য কোন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন শিক্ষিত লোক রাজনীতি বলবে না। এটা খুবই হীন, স্বার্থপরতা,প্রতিহিংসা আর অপসংস্কৃতির রাজনীতি। এর ফলে দেশে দেখা দিচ্ছে হানাহানি, মারামারি, টেন্ডারবাজি,চাঁদাবাজি, জেল জুলুম, গুম, খুন, গুপ্তহত্যা, দূর্নীতি, লুটপাট, বোমা হামলার মতো নিকৃষ্ট কার্যকলাপ। ফলশ্রুতিতে এ দেশ এ সমাজ এ তরুণ প্রজন্ম শিক্ষা পেল রাজনীতির নামে অপরাজনীতি ও স্বার্থপরতার রাজনীতি। ফলে নষ্ট হচ্ছে সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ।

আতংক আর অনিশ্চয়তাই যেন রাজনীতির ভবিষ্যৎ। যা একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রে কখনোই কাম্য নয়। অথচ রাজনীতি হওয়ার কথা দেশের কল্যাণের জন্য জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের শিক্ষা স্বাস্থ্য চিকিৎসাসহ মৌলিক অধিকার নিশ্চয়তার নিরাপত্তা দান করা।

ক্ষমতা কখনোই দীর্ঘস্থায়ী বা চিরস্থায়ী নয় প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী এর পট পরিবর্তন ঘটবে এটাই ধ্রুব সত্য ভেবে রাজনীতির ক্ষন গননা করা উচিত। ক্ষমতায় থাকলে নিন্দা আর সমালোচনা গ্রহণের মন মানসিকতাও থাকতে হবে। দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও জনমনে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারে এরকম উস্কানীমূলক কার্যকলাপ থেকে সকলকেই বেড়িয়ে আসতে হবে। রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার রাজনীতি পরিত্যাগ করতে হবে।

কালোবাজারি, চোরাচালানি আর দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার,খাদ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা, ব্যাংকের শত শত কোটি টাকা আত্নসাৎ করা, দরিদ্র অসহায় মানুষের সম্পদ লুটে খাওয়া এগুলো কি রাজনীতি? রাজনীতি হতে হবে বঙ্গবন্ধু, নেলসন ম্যান্ডেলা, মহাত্না গান্ধী, আব্রাহাম লিংকনের মতো জনগণের আস্থা বিশ্বাস আর সম্প্রীতির। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের থাকতে হবে পরম প্রজ্ঞা এবং রাজনৈতিক দুরদর্শিতা। থাকতে হবে সহনশীলতা, সহমর্মিতা,ভেদাভেদ বৈষম্যের উর্ধ্বে। এভাবেই হোক রাজনীতির বিশুদ্ধ চর্চা।

লেখক : এইচ’টি ইমাম। ইতিহাস বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

মন্তব্য করুন