বিদ্যুতের ভুতরে বিল ও মূল্যবৃদ্ধির পায়তারা জনস্বার্থ পরিপন্থি : ন্যাপ

সংসদে বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধির প্রস্তাব

প্রকাশিত: ২:১৬ অপরাহ্ণ, জুন ২৫, ২০২০

সারাদেশে বিভিন্ন বিদ্যুত সরবরাহকারী কোম্পানীসমূহ কর্তৃক গ্রাহকদের উপর মনগড়া ভুতড়ে বিল চাপিয়ে দেয়ায় মধ্য দিয়ে জনগনকে দু:সহ কষ্টের মধ্যে নিপতিত করে আবারো বিদ্যুত ও জ্বালানির মূল্য বছরে একাধিকবার বৃদ্ধির জন্য সংসদে বিল উত্থাপনের মধ্য দিয়ে সরকার মূলত জনগনের বিরুদ্ধেই অবস্থান গ্রহন করছেন বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে পার্টির চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া এ অভিযোগ করেন।

তারা বলেন, ঢাকাসহ সারাদেশে বিদ্যুত গ্রাহকরা ৩০ জুনের মধ্যে পরিশোধের জন্য যে বিল কোম্পানীসমূহের কাছ থেকে পেয়েছেন তার সাথে মিটার রিডিংয়ের কোন সম্পর্ক নেই এবং পূর্ববর্তী মাসের সাথে তা পরিপেূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণ। একেবারেই মনগড়া বিল গ্রাহকদের পরিশোধের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। যা জনগনের সাথে প্রতরানার শামিল।

নেতৃদ্বয় বলেন, করোনাকালে গত তিন মাস যাবৎ মানুষ প্রায় আয়হীন। অনেক চাকুরীজীবী তাদের কর্ম হারিয়েছেন নতুবা পূর্বের তুলনায় প্রায় অর্ধেক বেতনে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। অধিকাংশ মানুষের সাধারণ জীবনযাপনেও নাভিশ্বাস উঠে গেছে। এমতাবস্থায় বিদ্যুত কোম্পানীগুলোর এ আচরণ অগ্রহনযোগ্য ও নিন্দনীয়। অবিলম্বে মনগড়া ভুতড়ে বিল প্রত্যাহার করে মিটার রিডিং অর্থাৎ ব্যবহার উপর ভিত্তিক বিল প্রদানের আহবান জানান। সেই সাথে ৩০ জুনের মধ্যে বিল পরিশোধের বাধ্য বাধকতা প্রত্যাহার তথা বিলম্ব সুদ গ্রহণ থেকে বিরত থাকার জন্য সরকারকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের আহবান জানান।

ন্যাপ নেতৃদ্বয় এই করোনাকালে বিদ্যুত ও জ্বালানির মূল্য বছরে একাধিকবার বৃদ্ধির জন্য সংসদে যে বিল উত্থাপিত হয়েছে তাকে সম্পূর্ণ জনস্বার্থ বিরোধী হিসাবে আখ্যা দিয়ে বলেন, ২০০৩ সালে পাশ হওয়া বিদ্যমান আইনে কোনো অর্থবছরে একবারের বেশি পরিবর্তন করা যাবে না, কিন্তু মঙ্গলবার সংসদে উত্থাপিত আইন কার্যকর হলে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বছরে এক বা একাধিকবার বিদ্যুত, গ্যাস, ডিজেল, পেট্রোলসহ জ্বালানির মূল্য পরিবর্তন করতে পারবে। বছরে বারবার বিদ্যুত ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির বিল পাশ মানে গরিবদের সলিল সমাধি রচনা করারই নামান্তর।

তারা এই মহাদুর্যোগ কালে লুটেরাগোষ্টির স্বার্থ রক্ষা, জনস্বার্থ বিরোধী ও জনগনের পকেট কাটার এই বিল প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারের একের পর এক জনস্বার্থ বিরোধী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে সকল দেশপ্রেমিক শক্তির ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কোন বিকল্প পথ খোলা থাকবে না।

#আরআর/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন