আজই ডাকসুর পদ ছাড়ছেন জিএস রাব্বানী, থাকতে চান ভিপি নুরুল হক

প্রকাশিত: ৮:১১ অপরাহ্ণ, জুন ২২, ২০২০

ডাকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাংবিধানিক মেয়াদ শেষ হয়েছে গত শনিবার। এরপর বর্ধিত মেয়াদ শেষ হয়েছে আজ সোমবার।

এর মধ্যে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) গোলাম রাব্বানী ঘোষণা দিয়েছেন – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ায় আজ মধ্যরাতে নিজের পদ ছেড়ে দিচ্ছেন তিনি। যদিও শুরুর দিকে ভিপি নুরুল হকের সাথে তিনি জানিয়েছিলেন ডাকসুর আগামী নির্বাচন পর্যন্ত থাকতে চান তারা।

ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নূরসহ কমিটির একটি অংশ পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে চান বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ডাকসুর সহ সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সাদ্দাম হোসেন মনে করেন মেয়াদ শেষেও পদে থাকাটা হবে ‘অনৈতিক’ ও ‘অগণতান্ত্রিক’। খবর ডেইলি স্টারের।

এ বিষয়ে আজ সোমবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফাইড আইডিতে এক স্ট্যাটাসে গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘ডাকসুর বিষয়ে আমার বক্তব্য একদম স্পষ্ট। নির্ধারিত মেয়াদের অতিরিক্ত ১ মিনিটও পদে থাকতে চাই না। আজ রাত ১২.০০ ঘটিকায় পদ ছেড়ে দেবো।’

এবং ডাকসু ভিপি নুরুল হকের বক্তব্য ছিলো – ‘বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে থেকেই পরবর্তী নির্বাচনের দাবি আমরা জানিয়েছিলাম, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেদিকে কর্ণপাত করেনি।’

গত ১৮ মার্চ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় পরবর্তী ৯০ দিনের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেননি উল্লেখ করে নুর বলেন, ‘এ সময়ে যদি আমরা দায়িত্ব ছেড়ে দিই তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরবর্তী নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে উদ্যোগী হবে না। তাই আমাদের দাবি থাকবে, বর্তমান করোনাকালীন পরিস্থিতি বিবেচনা করে সংসদের মেয়াদ শেষ হলেও পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আমরা যাতে দায়িত্ব পালন করতে পারি। এ বিষয়ে শিগগিরই ডাকসুর সভাপতির সঙ্গে আমরা আলোচনায় বসব। তবে অবশ্যই ডাকসু নির্বাচনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার দাবি জানাচ্ছি। দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এ প্রত্যাশা থাকবে।’

তবে ভিপি নুরুল হকের এ বক্তব্যের সময় জিএস গোলাম রব্বানীর ধরনের মতামতই ছিল। তবে গোলাম রাব্বানীর মত পরিবর্তনের পর নুরুল হক নুরের নতুন কোন বক্তব্য এ বিষয়ে এখনও পাওয়া যায়নি।

ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানী এ বিষয়ে তাঁর ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘করোনা দুর্যোগকালীন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যেহেতু আমাদের ৩৬৫ দিনের বৈধ মেয়াদের আগেই অর্থাৎ ১৮ মার্চ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম বন্ধ। তাই আমাদের অসমাপ্ত কাজ, বিশেষ করে, মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে সহায়তা এবং ডাকসুর শিক্ষার্থী সহায়তা ফান্ডে আমার ব্যক্তিগত কন্টিনজেন্সি ফান্ডের অর্থসহ ডাকসুর অব্যবহৃত বাজেটের টাকা হস্তান্তরের মাধ্যমে অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থীকে মানবিক সহায়তা প্রদান করতে চাই।’

‘আর অবশ্যই চাই, ডাকসু নির্বাচনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক। সেক্ষেত্রে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ামাত্র বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে পরবর্তী নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করতে হবে। ২৮ বছরের অচলায়তন ভেঙে সচল হওয়া ডাকসুকে আর অচল দেখতে চাই না।’

গোলাম রাব্বানী আশা করেছেন, ‘করোনা দুর্যোগের জন্য যে সাড়ে তিন মাস আমরা কাজ করতে পারিনি, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সেই সময়টুকু আমাদের প্রাপ্য, আর সেই সময়ের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরবর্তী নির্বাচনও আয়োজন করে ফেলতে পারবে। তাহলে ডাকসুর গঠনতন্ত্র (৬ এর গ ধারা) মেনেই আমরা নতুন নেতৃত্বের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে পারবো। এটুকু শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আমাদের যৌক্তিক দাবি। আর সম্মানিত উপাচার্য মহোদয় ডাকসুর কমিটি ভেঙে দিয়েও যদি উক্ত দাবি মেনে নেন, আমার কোনো আপত্তি নেই।’

প্রসঙ্গত : দীর্ঘ ২৮ বছর বন্ধ থাকার পর নানা নাটকীয়তা ও শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে গত বছরের (২০১৯ সালের) ১১ ফেব্রুয়ারি ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। তার ঠিক একমাস পরে ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় ডাকসু নির্বাচন।

সেখানে নানা বিতর্কের মাধ্যমে জিএস-এজিএসসহ ২৫টি পদে জয়লাভ করে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। ভিপি ও সমাজসেবা পদে কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্লার্টফর্ম বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ জয়লাভ করে। একই বছরের ২৩ মার্চ অভিষেক হয় ডাকসু ও হল সংসদের নেতৃবৃন্দের।

ডাকসুর গঠনতন্ত্রের ৬-এর (গ) ধারায় বলা আছে, সংসদে নির্বাচিত কার্যনির্বাহী পদাধিকারীগণ ৩৬৫ দিনের জন্য কার্যালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন না করা যায়, তাহলে কার্যনির্বাহী পদাধিকারীরা অতিরিক্ত ৯০ দিন দায়িত্ব পালন করবেন। ওই ৯০ দিনের আগে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পূর্ব পর্যন্ত তারা দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া মাত্র পূর্বতন সংসদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে যাবে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বর্ধিত ৯০ দিন সময় পার হয়ে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই সংসদ ভেঙে যাবে।

সে হিসেবে শনিবার (২০ জুন) ডাকসুর বর্ধিত ৯০ দিন সময় পার হয়ে গেছে এবং সংবিধান অনুযায়ী এই সংসদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে গেছে।

#আরআর/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন