স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের কড়া সমালোচনা ব্যারিস্টার সুমনের

প্রকাশিত: ৫:২২ অপরাহ্ণ, জুন ২০, ২০২০

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক আবুল কালাম আজাদের এক বক্তব্যকে ইস্যু করে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় ও এই অধিদপ্তরের কড়া সমালোচনা করেছেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজিবী ও সমাজসেবক ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। একই সাথে সাংবাদিক কামাল লোহানীর মৃত্যুতে তিনি শোক প্রকাশ করেন।

আজ শনিবার (২০ জুন) ফেসবুক লাইভে এসে তিনি এই প্রতিবাদ জানান। বিশেষ করে তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব থাকা স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে অপসারণের পুনঃ দাবি জানান। এর আগেও তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অপসারণ দাবি করেছিলেন।

গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) হেলথ বুলেটিনে এসে মহাপরিচালক ডা. আজাদ বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতায় এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, করোনা পরিস্থিতি এক, দুই বা তিন মাসে শেষ হচ্ছে না। এটি দুই থেকে তিন বছর বা তার চেয়েও বেশিদিন স্থায়ী হবে। যদিও সংক্রমণের মাত্রা উচ্চ হারে নাও থাকতে পারে। এ বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্যক উপলব্ধি করেন।’

ফেসবুক লাইভে এসে ব্যারিস্টার সুমন স্বস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদের দেওয়া এই বক্তবের কড়া বিরোধিতা করেন।

তিনি বলেন – প্রতিদিন সকালবেলা উঠে কিছু না কিছু আপন মানুষকে হারানোর সংবাদ পাই। বাংলাদেশের সূর্য সন্তান কামাল লোহানী আজ মৃত্যুবরণ করেছেন। শুনেছি যে তিনি করোনাভাইরাসের কারণে মারা গেছেন। এমন অনেক গুনিজনকেই আমরা হারাচ্ছি এ সময়।

আর এইরকম কষ্টের মাঝেও যখন কিছু কিছু বক্তব্য শুনি বিশেষ করে আমাদের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম সাহেবের বক্তব্য শুনেছি। তিনি বলতেছেন যে, করোনা ভাইরাস নাকি আরো দুই তিন বছর থাকবে! আমি বুঝতে চাই যে, কিসের ভিত্তিতে তিনি এই ধরনের কথা বলেন। যেখানে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলছেন যে, আমরা পিক আওয়ারের কাছাকাছি চলে আসতেছি। আল্লাহর রহমত থাকলে আমরা কিছুদিনের মধ্যেই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারব। সেখানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে এমন বক্তব্য কিভাবে আসতে পারে?

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মিথ্যা আশ্বাস দিচ্ছেন : শামীম ওসমান

ব্যারিস্টার সুমন বলেন – মহাপরিচালক যদিও পরবর্তীতে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তারপরও এই বক্তব্যের ক্ষেত্রে আমরা মনে করি, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে অনেকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

তিনি বলেন – আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এই মন্ত্রণালয়ের উদাসীনতার কারণে, তাদের মাত্রাহীন দুর্নীতির কারণে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধ্বংশের পথে। এমনকি এই মহাপরিচালকের বিরুদ্ধেই এন-৯০ মাস্ক বিষয়ে কঠোর দুর্নীতির অভিযোগ আছে। তার উদাসীনতার কারণেই ডাক্তাররা ঠিকমত সুরক্ষা পায়নি এবং বিভিন্ন জায়গায় ডাক্তারের মারা যাচ্ছে।

একই সাথে ব্যারিস্টার সুমন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুরবস্থার কথা উল্ল্যেখ করে বলেন – স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যাপারে আর কি বলব এর আগেও বারবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যাপারে বলেছি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যাপারে দুঃখ রাখার জায়গা নেই তিনি নোয়াখালীর এমপির কথা উল্যেখ করে বলেন – উনি বলেছেন যে এটি একটা আজগুবি মন্ত্রণালয়। অথচ তিনি নিজেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সদস্য। এই মন্ত্রণালয়ের কী হয়েছে জানিনা। আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কথা বারবার বলছি যে তাকে পরিবর্তন করা যায় কিনা এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ব্যারিস্টার সুমন এর আবেদন

তিনি বলেন – আমি বলতেছি যে, দেখেন বাংলাদেশে কষ্ট করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চেষ্টা করে যাচ্ছেন বিভিন্নভাবে গরিব মানুষকে দেখার জন্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কন্ট্রোল রাখার জন্যও বিভিন্নভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কিন্তু মন্ত্রনালয়গুলোতে যা হচ্ছে তা দেখার মত নয়।

একই সাথে তিনি বলেন – অভিযোগ আছে যে এই মন্ত্রনালয়ে এখন লুটপাটের মহোৎসব চলতেছে এবং চিকিৎসা সরঞ্জামাদী কেনাকাটা থেকে শুরু করে বিভিন্ন চাকরির নতুন নিয়োগ বাণিজ্যের নামে একটি মহা উৎসব শুরু হয়েছে।

তাই মন্ত্রণালয়েকে নিয়ন্ত্রন এবং দুর্নীতি রুখে দেওয়ার জন্য সবার করে করোনা প্রতিরক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগী হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন –

‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজেই কি করোনা ভাইরাস ছড়াচ্ছেন’: প্রশ্ন ব্যারিস্টার সুমনের

এবার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ চাইলো চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাব

ডা. মঈনউদ্দিনের মৃত্যুতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি ইশা ছাত্র আন্দোলনের

হাতজোড় করে কান্না জড়িত কণ্ঠে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে শামীম ওসমানের অনুরোধ

মন্তব্য করুন