করোনা লকডাউন : ভালো নেই কুয়াকাটার পর্যটন নির্ভর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা

প্রকাশিত: ৩:১৩ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৮, ২০২০

জাকারিয়া জাহিদ : মহামারি করোনা ভাইরাস ও আম্পানের প্রভাবে দিশেহারা কুয়াকাটার পর্যটন নির্ভর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখে হোটেল মোটেল, রেস্তোরাঁ, হকার, বীচ ফটোগ্রাফার, ছাতা ব্যবসায়ী, দোকানদার, কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট বোট, ট্যুরিস্ট গাইড ও ট্যুর অপাটেরসহ অন্যান্য ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।

হোটেল মোটেল সমিতির তথ্য অনুসারে প্রতিবছর অভ্যন্তরীণ পর্যটকদের সংখ্যা প্রায় চারলক্ষ। কিন্তু এ বছরের মার্চ জুন পর্যন্ত পর্যটকদের আগমন শুন্যের কোঠায়। ফলে পর্যটননির্ভর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পথে বসে গেছে।

২০১৯ সালে পর্যটন ব্যবসায়ীরা লাভের মুখ দেখলেও ২০২০ সালে এসে প্রায় ছয়শত কোটি টাকার লোকসান গুনছে তারা। করোনার কারনে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ রেখে ভিন্ন পেশায় নিয়োজিত থেকে পরিবারকে খাদ্যের যোগান দিত। কিন্তু ঘূর্নিঝড় আম্পানের কারনে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দোকান পাটগুলো ভেঙে তছনছ করে দিয়েছে। দোকানের কোন মালামাল পাওয়া যায়নি ভাসিয়ে নিয়ে গেছে সমুদ্রের পানিতে।প্রতিটি দোকান চূর্নবিচুর্ন হয়ে গেছে। ক্ষত বিক্ষত হয়েছে ব্যবসায়ীদের হৃদয়। এ যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা।

আম্পানে ক্ষতিগ্রস্থ কুয়াকাটা সৈকত।

করোনার প্রভাবে বেকার আর অলস সময় পার করে সঞ্চিত টাকা শেষ আবার নতুন করে দোকানপাট তৈরি করা। আদৌও কী তারা ফিরতে পারবে তাদের পুরোনো ব্যবসায় এমন প্রশ্ন এখন তাদের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। স্থবির হয়ে গেছে ব্যবসায়ীরা। হোটেল মোটেলগুলো মূর্তির মত দাড়িয়ে আছে।

কিছু কিছু ব্যবসায়ীরা তাদের দোকানপাট খুলে মালামালগুলো ঠিক আছে কিনা দেখে নিচ্ছে। দোকান ভাড়া, কর্মচারিদের বেতন নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। ছাটাইর পাশাপাশি কর্মচারীদের ছুটি দিয়ে দিচ্ছে কেউ কেউ। কেউ আবার ভিন্ন পেশা নিয়ে ভাবছে। দোকানে দোকানে হরেক রকমের মালামালের পশরা এখন শুধুই স্মৃতি। হকার আর বিচ ফটোগ্রাফাররা অলস সময় পার করছে। বিচ পয়েন্টে ছাতাগুলো খালি পড়ে আছে।

মাহিম ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী মো. আনোয়ার বলেন, দোকান ভাড়াসহ কর্মচারীদের বেতন দিতে হিমশিম খাচ্ছি। কবে যে শেষ হবে এমন বালা জানিনা। এমন অবস্থায় চলে কয়েকদিন পর পথে বসতে হবে।

সাগরপাড়ে চা বিক্রেতা মো. কামাল বলেন, আগে ভালো টাকার চা সিগারেট বেচতাম এহন দু বেলা ভাত জোডেনা।

চটপটি ও ফুসকা বিক্রেতা হাবিব বলেন, প্রতিদিন ৮০০ থেকে ১২০০ টাকার ফুসকা বিক্রি করতাম করোনার কারনে বেচাকিনা নাই। কোন রকম বাইচ্চা আছি। চটপটি ও ফুসকা আর বেচমুনা। বাহিরে কাজ করে সংসার চালাতে হবে।

কনফিডেন্স ট্যুরিজম ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের পরিচালক মো.সাইদুর রহমান বলেন, পর্যটকদের সেবা দিতে যারা ব্যস্ত ছিল তারাই আজ বেকার। অলস সময় পার করছে। ফলে কষ্ট দিনদিন বেড়েই চলছে।

কুয়াকাটা ট্যুরিজম এন্ড ট্রাভেলস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ বেলাল হোসেন বলেন, অনেকদিন পর্যন্ত লকডাউন থাকার কারণে ট্যুরিজমের সকল ব্যবসা বাণিজ্য একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। কাজ না থাকায় লোকজন বাড়ি চলে গেছে। এখন সবাই বেকার হয়ে ঘরে বসে আছে কি করবে কি খাবে এখন শুধু চিন্তার ব্যাপার।

ট্যুর অপারেটর এ্যসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াকের) সেক্রেটারি আনোয়ার হোসেন আনু বলেন, দির্ঘদিন কুয়াকাটা লক ডাউন থাকার ফলে ট্যুর অপারেটররা বেকার হয়ে পড়ছে। হাতে সঞ্চিত টাকা শেষ। এখন প্রতিদিন কস্ট করে দিন পার করতে হয়।

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট সেন্টার ও ইলিশ পার্কের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, প্রতি মাসেই লোকসান গুনতে হচ্ছে। বিপুল পরিমান ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অবশ্যই সরকারের সহযোগিতা প্রয়জন হবে।

কুয়াকাটা প্রেসক্লাব সভাপতি মিজানুর রহমান বুলেট আকন বলেন, এ সকল ব্যবসায়ীদের প্রতি সরকারের শুদুষ্টি দেয়া উচিত। তিনি আরো বলেন যে এই লোক গুলো যাতে সরকারি প্রণোদনা থেকে বঞ্চিত না হয় তার জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। হোটেল মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশন’র সেক্রেটারি মোতালেব শরীফ বলেন, হাজারো মানুষের জীবিকা ও অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে উপায় খোজা হচ্ছে স্থানীয় প্রশাসনসহ হোটেল মোটেলে’র মালিকরা।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন | আহমদ অ্যাডুকেশনস

আরআর/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন