করোনার চিকিৎসা: নীতিমালা ‘পরিবর্তন’ করলো ডব্লিউএইচও

প্রকাশিত: ৭:৩১ অপরাহ্ণ, জুন ১৭, ২০২০

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের একটি ওষুধের জন্য রাতদিন গবেষণা করে যাচ্ছেন গবেষকরা। এই প্রচেষ্টায় গতকাল সবচেয়ে বড় সুখবরটি দিয়েছে ব্রিটেনের একদল গবেষক। তারা দাবি করেছেন, করোনাভাইরাস থেকে জীবন রক্ষাকারী প্রথম ওষুধের সন্ধান পাওয়া গেছে, যার নাম ডেক্সামেথাসন। এর ওপর ভিত্তি করে নীতিমালা পরিবর্তনের ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা যে নীতিমালা ছিল তা সংশোধন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডব্লিউএইচও। অর্থাৎ নতুন নীতমালায় তারা ডেক্সামেথাসনের বিষয়টি যোগ করতে যাচ্ছে।

গতকাল ব্রিটিশ গবেষকরা জানান, এই ওষুধ মহামারি শুরু হওয়ার আগেই রোগীদের ওপর ব্যবহৃত হয়ে আসছে। যদি সঠিক সময়ে এটি আক্রান্তদের ওপর ব্যবহার করা যেত তাহলে অন্তত ৫ হাজার লোক কম মারা যেত। অর্থনৈতিকভাবে অনুন্নত দেশগুলো করোনা চিকিৎসায় নির্দ্বিধায় এই ওষুধ ব্যবহার করতে পারে।

তারা বলেন, ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের ওপর ডেক্সামেথাসনের অল্প ডোজেই কার্যকর ফলাফল পেয়েছেন তারা। এর প্রয়োগে ভেন্টিলেশনে থাকা রোগীদের মৃত্যুহার কমেছে এক-তৃতীয়াংশ, যাদের শ্বাসকষ্টের জন্য শুধু অক্সিজেন দেয়া হয়েছে তাদের মৃত্যুহার কমেছে পাঁচ ভাগের এক ভাগ।

রয়টার্স বলছে, ডেক্সামেথাসন ওষুধ শুধু মারাত্মকভাবে আক্রান্ত রোগীদের ওপর কার্যকর ফলাফল দেখাতে পারেছে। মৃদু আক্রান্তদের ওপর এর তেমন কোনো প্রভাব লক্ষ্য করা যায়নি বলে জানিয়েছে গবেষকরা।

ডব্লিউএইচও বলছে, এই ওষুধের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল করতে আগ্রহী তারা। কারণ ডেক্সামেথাসনই প্রথম ওষুধ যা ভেন্টিলেটরে থাকা রোগীদের ওপর কার্যকর ফলাফল প্রদর্শন করেছে। এটি নিয়ে আরো বিস্তারিত গবেষণা করা হবে। সেইসঙ্গে বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের ওপর এর প্রয়োগেও কিছু নীতিমালা আনা হবে।

এমএম/পাবলিকভয়েস

মন্তব্য করুন