সর্বশেষ যেমন অবস্থায় ডা. জাফরুল্লাহ

প্রকাশিত: ৬:৫৭ অপরাহ্ণ, জুন ১৭, ২০২০

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর শারীরিক অবস্থা এখনো ক্রিটিক্যাল বলে জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল এবং কোভিড-১৯ কিট প্রকল্পের সমন্বয়ক ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার। আজ বুধবার সকালে তিনি গণমাধ্যমকে এ কথা জানান।

ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার বলেন, অনেক সময় স্ট্রোকের ফলে মানুষ প্যারালাইজড হয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসায় হয়তো স্ট্রোকের জটিলতা কাটিয়ে উঠা যায়, কিন্তু এর ফলে হওয়া প্যারালাইসিস কবে নাগাদ সারবে সেটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। ডা. জাফরুল্লাহর ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। তিনি প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। কিন্তু এর ফলে তার শরীরে নিউমোনিয়াজনিত জটিলতা তৈরি হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, নিউমোনিয়াজনিত সমস্যা ছাড়াও তার আগে থেকে কিডনি ও ফুসফুসে কিছু সমস্যা ছিল। সব মিলিয়ে বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা কিছুটা জটিল। তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। নিউমোনিয়াজনিত সমস্যাটিও এখনো নিরাপদ পর্যায়ে আসেনি। তার শারীরিক অবস্থা এখনো ‘সংকটাপন্ন’। তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।

তবে ডা. জাফরুল্লাহ এখনো স্বজ্ঞান আছেন জানিয়ে তিনি আরো বলেন, এখন আর তাকে অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়া লাগছে না। তিনি নিজে নিজেই বাথরুমে যেতে পারছেন। নিজে নিজেই নড়াচড়া করতে পারছেন। নিজের মনোবল আর দেশবাসীর দোয়ায় তিনি বেঁচে আছেন।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের চিকিৎসক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. মামুন মুস্তাফিজ জানিয়েছিলেন, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর শারীরিক অবস্থার আজ আবার কিছুটা অবনতি হয়েছে। তিনি যে নিউমোনিয়াজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন, তা আবারও বেড়েছে। তাই তাকে নতুন করে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

গত ২৫ মে নিজেদের উদ্ভাবিত কিটে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর। পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে পিসিআর টেস্ট করালেও একই রেজাল্ট আসে। সম্প্রতি গণস্বাস্থ্যের কিটে এবং পিসিআর টেস্ট তার করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ আসে।

বর্তমানে তিনি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অধ্যাপক ডা. মামুন মুস্তাফিজ ও অধ্যাপক ডা. নজীবের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন আছেন। জাফরুল্লাহ চৌধুরীর স্ত্রী শিরীন হক ও ছেলে বারিশ চৌধুরীরও করোনাভারাসে আক্রান্ত। তারা দুজন বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এমএম/পাবলিকভয়েস

মন্তব্য করুন