হে আলেমগণ : নির্দ্বিধায় ব্যবসায় আসুন !

যে কোন হালাল উপার্জন ইসলামের জরুরী বিধান

প্রকাশিত: ১:০৭ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৬, ২০২০

মঈনুদ্দীন খান তানভীর

-অমুক আলেম ব্যবসা করেন।

-বোধহয় ভালো ভাবে লেখাপড়া করেনি। পড়ানোর মুরোদ নেই। তাই ব্যবসায়।

-না ভাই, তিনি তো ভালো ছাত্র ছিলেন। বোর্ড পরীক্ষায় স্ট্যান্ড করেছেন।

-তাই নাকি! খবর নিয়ে দেখ, বোধহয় কোন উস্তাদের বদদোয়া লেগেছে। না হয় আলেম মানুষ ব্যবসা করবে কেন?

-না, না। তিনি বেশ মুআদ্দাব। উস্তাদেরা এখনো তার পড়ালেখা, আদব, আখলাকের প্রশংসা করেন।

-বাবারে, শুধু বাহ্যিক যোগ্যতা ও বেশভূষা ধারণ করলেই দ্বীনের খেদমতে লাগা যায় না। বোধহয় তার ইলম কবুল হয়নি। সেজন্য মসজিদ মাদ্রাসায় লাগতে পারেনি।

(………..)

এভাবেই কোন আলেম যদি ব্যবসা করেন তাহলে কতোরকম তীর্যক বাক্য যে ব্যবহৃত হতো! আর বাঁকা চাহনী? সেদিকে না যাওয়াই ভালো। আলেম, সাল ওয়ালা মুরব্বী, এলাকার মাতবর সবাই যেন এ ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ।

আলেম হয়েছে তো তাকে মসজিদ মাদ্রাসার খেদমতই করতে হবে। অন্যথায় ইলমের ইহানত হয়, কবুলিয়্যাতের আলামত মিলে না, দুনিয়ালোভের প্রমাণ পাওয়া যায়!

  • হালাল জীবিকা উপার্জন নফল নয়, ফরজ। কেউ খিদমতের পাশাপাশি ভিন্ন পেশায় গেলে কেন তা ইলমের ইহানত হয়, আমার ক্ষুদ্র মাথায় ধরে না।

ইলমের আসল মাকসাদ ছিল আমল। তা না করে যদি তাকে বানিয়ে নেয়া হয় জীবিকা উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম।ছাত্র যদি পড়ালেখাই করে ভালো আলেম হয়ে, বড় মুহাদ্দিস হয়ে, বক্তা হয়ে কাড়ি কাড়ি অর্থ কামাবে, তা মাথায় রেখে! অনন্যোপায় হয়ে নয়, একে উত্তম মনে করে গ্রহণ করা হয়। বিপরীতে জায়েজ ও বরকতের সুসংবাদপ্রাপ্ত পেশাকে (ব্যবসা) দেখা হয় তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে। তবে বলতেই হয়। আমাদের আরও ভাবা দরকার।

প্রমাণিত অপ্রমাণিত নানা ধরণের খতম, পর্দা পুশিদার তোয়াক্কা না করে তাবিজ তদবির প্রদান, জালেম সুদখোর ঘুষখোরের বাড়িতে সন্দেহমিশ্রিত খাবার গ্রহণের চাইতে নিজে উপার্জন করে হালাল খাবার খাওয়া, ইলম অনুযায়ী আমল করা, ফি সাবিলিল্লাহ খিদমত করা কেন উত্তম নয় – তা বুঝে আসে না!

আকাবীর আসলাফের উদাহরণ টানি।
ইমাম আবু হানীফা রহ. সাইয়েদ হুসাইন মাদানী রহ. ও সদ্যপ্রয়াত পালনপুরী রহ. কি আমাদের আকাবীর নন?

চলুন, তাদের জীবনপদ্ধতি থেকে সবক গ্রহণ করি। তারা প্রত্যেকেই ছিলেন এক একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এবং সমৃদ্ধশালী ব্যক্তি।

করোনাকালের এই মহাসংকটে শত নেতিবাচকতার মধ্যে যে কয়টি ইতিবাচক ব্যাপার আমার মনে ধরেছে – তন্মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ; মান-মানসিকতায় পরিবর্তন।

আলহামদুলিল্লাহ, হালাল জীবিকা উপার্জনকে অনেকেই এখন ইতিবাচক হিসেবেই গ্রহণ করতে শিখেছে।

প্রতিষ্ঠান বন্ধের এই দীর্ঘ অবসরকে হেলায় না হারিয়ে চলুন পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগাই। পরনির্ভরশীল নয়, সমাজে নিজেদেরকে দাঁড় করাই আত্মনির্ভরশীল পরোপকারী জনদরদী আলেমরূপে।

কিভাবে কাজে লাগাবেন?

তা সম্পূর্ণই নির্ভর করছে আপনার নিজের উপরে। সাধ ও সাধ্যের সমন্বয় ঘটিয়ে যে কাজে আপনি স্বাচ্ছন্দবোধ করেন।তাই শুরু করেন নির্দ্বিধায়।

ফল ফসলের চাষ, মাছ চাষ, ক্ষুদ্র ব্যবসা, অনলাইনে মধু, কালোজিরা, হলুদ মরিচের গুড়াসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি বিশ্বস্ততার সাথে সাপ্লাইকরণ। কম্পিউটার ইন্টারনেটে দক্ষতা অর্জনপূর্বক ফ্রিল্যান্সিংয়ের সুযোগ গ্রহণ ইত্যাদি।

কে কি ভাবলো,বললো দেখার দরকার নেই। আপনার কাজ আপনি করে যান। মনে রাখুন, নবী-সাহাবীদের চেয়ে বড় আকাবীর আর কেউ নেই।

লেখক : বিশ্লেষক, আলোচক ও তাত্বিক চিন্তাবীদ।

#আরআর/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন