ধর্মমন্ত্রণালয় : বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে সরকারকে

ধর্মমন্ত্রী ভাবনা

প্রকাশিত: ৩:৫৪ অপরাহ্ণ, জুন ১৪, ২০২০

ধর্মপ্রতিমন্ত্রী হাফেজ শেখ আব্দুল্লাহ জায়েদ। বাংলাদেশের মন্ত্রিত্বের ইতিহাসে অন্যতম বিতর্কমুক্ত জনপ্রিয় মন্ত্রী। সরকার ও ওলামায়ে কেরামকে একীভূত করে কাজ করেছেন তিনি। সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার পালস ধরতে পেরেছিলেন শেখ আব্দুল্লাহ। যেকোনো মানুষের সঙ্গে মিশে যেতে পারতেন অনায়াসেই। এটা তার অন্যতম এবং অনন্য একটি গুণ। সচরাচর কর্তা ব্যক্তিদের মাঝে যে গুণটা দেখা যায় না।

তিনি গতকাল ইন্তেকাল করেছেন— ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তাঁর মৃত্যুতে এমন কেউ নেই ব্যথিত হননি।

মানুষের আস্থা অর্জনের কারণে প্রিয় একটি মন্ত্রণালয় হয়ে উঠেছিল ধর্মমন্ত্রনালয়। প্রিয় মন্ত্রণালয়ের শূন্যস্থান পূরণ করতে হয়তো এজন্যই গণমানুষ আগ্রহী হয়ে উঠেছেন কে হবেন পরবর্তী ধর্মপ্রতিমন্ত্রী।

দাবি উঠেছে কওমী অঙ্গন থেকে ধর্মপ্রতিমন্ত্রী করা। এর পেছনে যৌক্তিক কারণ রয়েছে— মরহুম শেখ আব্দুল্লাহ ছিলেন গওহরডাঙ্গা মাদরাসার ছাত্র এবং তিনি তার পারফরমেন্সে এটা প্রমাণ করতে সামর্থ্য হয়েছেন, ইসলামকে অন্তর থেকে ধারণ করলে যেকোনো দায়িত্ব নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে করা যায়।

ধর্মমন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব মূলত কোনো ধর্মীয় পণ্ডিতকেই দেওয়া উচিত। শুধু পন্ডিত নয়, পাণ্ডিত্যের পাশাপাশি যিনি ধর্মকে লালন করেন ধারণ করেন এমন কোনো ব্যক্তিত্বকেই ধর্মমন্ত্রণালয়ে মানায়। হতে পারেন তিনি যেকোনো ধর্মের অনুসারী। যারা ধর্মকে লালন করেন ভেতর থেকে, তারা কোনো ধর্মকেই আঘাত করেন না। বাংলাদেশ গণতন্ত্র ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ, এদেশে যেকোনো ধর্মের ধর্মীয় ব্যক্তি ধর্মমন্ত্রণালয় আসতে পারেন।

কিন্তু বাংলাদেশ যেহেতু মুসলিমপ্রধান দেশ। শুধু মুসলিম প্রধানই নয়, বাংলাদেশে ৯৫ ভাগ মুসলিম জনগোষ্ঠী, সে দেশে একজন মুসলিম ধর্মমন্ত্রীই মানুষ আশা করবে এবং এটা যৌক্তিকও।

যিনি ধর্ম সম্পর্কে জানেন না বা নিজেও ততটা মানেন না, এমন ব্যক্তিত্বকে ধর্মমন্ত্রণালয় অর্পণ করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যতগুলো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তার মাঝে ধর্মপ্রতিমন্ত্রীর জায়গায় শেখ আব্দুল্লাহকে মন্ত্রী করা ছিল অন্যতম সঠিক সিদ্ধান্ত।

আশা করি পরবর্তী সিদ্ধান্তও বুদ্ধিদীপ্তই হবে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ইসলামের মূল স্পিরিট যেহেতু কওমী অঙ্গন ধরে রেখেছে, কওমী অঙ্গন থেকেই কাউকে মন্ত্রিত্ব দেওয়া হবে বিচক্ষণতা। আমি বলছি না শুধু কওমী অঙ্গনের কারণেই ইসলাম টিকে আছে। তবে ইসলামের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও পথপ্রদর্শনে কওমীর অবদানই মূল।

আলোচনায় আসছে চট্টগ্রামের আবু রেজা নদভী এমপি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করা মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ। দুজনই ইসলামের জন্য অসামান্য অবদান রেখেছেন অতিতে। আমি বিশ্বাস করি এই দুজনের যেকোনো একজনকে শেখ আব্দুল্লাহ’র জায়গায় বসাতে পারলে ধর্মমন্ত্রণালয় ইস্যুতে সরকারের ভাবমূর্তি যতটুকু উঁচু হয়েছে সেটার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। একথাও সত্য— ইসলামের মূল আবেদন কওমী অঙ্গনই বেশি ধারণ করে থাকে। আর তাঁরা দুজনও কওমীর সন্তান।

মন্তব্য করুন