ভারত নাকি ইন্ডিয়া? নাম পাল্টানোর আর্জিতে আদালতের অপারগতা

প্রকাশিত: ১১:২০ পূর্বাহ্ণ, জুন ৪, ২০২০

ঔপনিবেশিক যুগের অবসান ঘটলেও, ব্রিটিশদের দেওয়া ‘ইন্ডিয়া’ নাম এখনও রয়ে গিয়েছে। গোটা বিশ্ব ভারতকে এই নামেই চেনে। কিন্তু এই নামের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দাসত্বের ইতিহাস।

এই যুক্তি দেখিয়ে সুপ্রিম কোর্টে দেশের নাম পাল্টানোর আর্জি জানিয়েছিলেন এক ব্যক্তি। ‘ইন্ডিয়া’র বদলে স্থায়ী ভাবে দেশের নাম ভারত বা হিন্দুস্তান কী ভাবে করা যায়, সে ব্যাপারে আদালতকে পথ দেখানোর আর্জি জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করতে রাজি হল না শীর্ষ আদালত। খবর ভারতীয় গণমাধ্যম।

দেশের নাম বদলের আর্জি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন জমা দিয়েছিলেন নমহ্ নামের দিল্লির এক ব্যবসায়ী। তাঁর যুক্তি ছিল, ‘ইন্ডিয়া’ শব্দটি এ দেশের নয়। গ্রিক শব্দ ‘ইন্ডিকা’ থেকে এর উৎপত্তি। এর সঙ্গে দাসত্বের ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে। তা পাল্টে দেশের নাম ভারত বা হিন্দুস্তানের মধ্যে যে কোনও একটি রাখলে, এ দেশের নাগরিক হিসাবে গর্ববোধ করবে মানুষ। বহু কাল ধরে দেশে ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান প্রচলিত রয়েছে। তাই দেশের নাম ভারত রাখলে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের লড়াই সার্থক হবে বলেও দাবি করেন তিনি।

১৯৪৮ সালের সংসদ বিতর্ককে উল্লেখ করে ওই আবেদনে আরও বলা হয়, ‘‘সংবিধান তৈরির সময়ও ১ নম্বর অনুচ্ছেদ নিয়ে মতবিরোধ ছিল। দেশের নাম ভারত অথবা হিন্দুস্তান রাখার পক্ষে একটা বড় অংশের সমর্থন ছিল। তখন তা হয়নি। তবে এখন সময় বদলেছে। ভারতীয় সংস্কৃতি ও নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেশ কিছু শহরের নাম বদল করা হয়েছে। তাই এই সময়ই আসল নামে দেশের পরিচিতি গড়ে তোলা উচিত।’’

দেশের সংবিধানে ‘ইন্ডিয়া’ এবং ‘ভারত’, দুটো শব্দই রয়েছে। তা সত্ত্বেও এই আবেদন নিয়ে আদালতে আসার প্রয়োজন কেন পড়ল, আবেদনকারীর আইনজীবীর কাছে তা জানতে চান প্রধান বিচাপতি এস এ বোবডে, বিচারপতি এ এস বোপান্না এবং বিচারপতি ঋষিকেশ রায়ের ডিভিশন বেঞ্চ।

জবাবে আবেদনকারীর আইনজীবী জানান, সংবিধানের ১ নম্বর অনুচ্ছেদে ইন্ডিয়া অর্থাৎ ভারতকে একটি যুক্তরাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই অনুচ্ছেদটি সংশোধন করা প্রয়োজন। ইন্ডিয়ার পরিবর্তে সেখানে ভারত অথবা হিন্দুস্তান যে কোনও একটি নাম থাকা উচিত।

কিন্তু প্রধান বিচারপতি বোবডে বলেন, ‘আমরা এটা করতে পারব না। সংবিধানে ইন্ডিয়াকে ভারত বলাই রয়েছে’। তাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এ নিয়ে আবেদন জানানোর অনুমতি চান আবেদনকারীর আইনজীবী। জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এটাকে আবেদন হিসাবে দেখতে পারে।’

দেশের নাম বদলের দাবি নিয়ে এমন আর্জি অবশ্য এই প্রথম নয়। এর আগে ২০১৬ সালে এমনই একটি আবেদন খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট।

তবে বহু কাল ধরেই এই বিতর্ক চলে আসছে। ব্রিটিশ আমলেও দেশ হিন্দুস্তান নামে পরিচিত ছিল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সংবিধানে ইন্ডিয়া এবং ভারত, দু’টি নামই রাখা হয়। সেই সময় তা নিয়ে আপত্তি তোলেন অনেকে। তা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক চলাকালীন বি আর অম্বেডকর সাফ জানিয়ে দেন, গোটা বিশ্বে ভারত ইন্ডিয়া নামে পরিচিত, যা ভবিষ্যতেও ধরে রাখা প্রয়োজন।

/এসএস

মন্তব্য করুন