করোনাভাইরাসের ২’শ তম দিন : যা শিক্ষণীয় গোটা বিশ্ববাসীর

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি

প্রকাশিত: ৭:৩৬ অপরাহ্ণ, জুন ৪, ২০২০

করোনাভাইরাসের ২’শ তম দিন আজ। ইতোমধ্যে গোটা বিশ্বে ৪ লাখ ছুঁইছুঁই মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও প্রায় ৬৬ লাখ। গত বছরের নভেম্বরের ১৭ তারিখ চিনের উহান শহর থেকে কোভিড-১৯ যাত্রা শুরু করে ছড়িয়ে পড়েছে গোটা বিশ্বে।

একবার ভাবুন তো বিগত দুই হাজার বছরের মাত্র দুইশত দিনে কতটা বদলে গেছে গোটা বিশ্ব! নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে বিশ্বকে। প্রকৃতির ওপর যে নির্যাতন আমরা করেছি তার ফলস্বরুপ কি এ করোনা ভাইরাস!

সর্বশেষ সংবাদ অনুসারে, বিশ্বে এখন পর্যন্ত ৬৫ লাখ ৬৭ হাজার ৫৯২ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হওয়ার পর মারা গেছেন ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৯৩৩ জন।

এরমধ্যে আমাদের বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত শনাক্তকৃত রোগীর সংখ্যা ৫৫ হাজার ১৪০ জন এবং মারা গেছেন ৭৪৬ জন। অদৃশ্য ভাইরাসের কাছে আমরা কত অসহায়! এর আগে কোনো বিষয়ে কি মানুষ নিজেদের এতটা অসহায় মনে করেছে??

বর্তমান বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মাঝে রয়েছে রাজনৈতিক আর অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা। এ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়ার লক্ষ্যে কতরকমের নির্মম, হৃদয়বিদারক ঘটনার অবতারনা ঘটেছে। কাশ্মীর, ফিলিস্তান, আফগানিস্তান ও রোহিঙ্গা নির্যাতন তার চাক্ষুস প্রমান।

কিন্তু এক অদৃশ্য ভাইরাস চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছে আমাদের সব দাম্ভিকতাকে। এমন কোনো দেশ নেই যারা করোনার কাছে অসহায় নয়। আমাদের গর্ব আর অহংকার করার মতো কত কিছুই না আছে। বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির ছোয়ায় বিশ্ব পেয়েছিলো এক নতুন মাত্রা। কিন্তু করোনা নামক অদৃশ্য ভাইরাসের কাছে সে বিজ্ঞান আর প্রযুক্তি আজ অসহায়।

ধনী আর গরিব নয়; আবার কে উন্নত রাষ্ট্রের নাগরিক আর কে গরীব রাষ্ট্রের নাগরিক, কোনো কিছুই বাছ-বিচার করছে না কোভিড-১৯। সবার অহংকারকে সমান তালে ধসিয়ে দিয়েছে। আমাদের কাছে এর না আছে কোনো প্রতিকার, না করতে পারছি প্রতিরোধ।

এখনো প্রতিষেধক (ভ্যাকসিন) তৈরী করতে সক্ষম হয়নি বিশ্ব। যদিও চীনের দাবি তারা মানুষের শরীরে সফল ভাবে ভ্যাকসিনের প্রয়োগ ঘটিয়েছে। তবে তার গবেষণা এখনো চলমান। কবে নাগাদ করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন বাজারে আসবে তার কোনো নিশ্চয়তা কেউই দিতে পারছে না।

অথচ এই মহামারী করোনাকালেও থেমে নেই অত্যাচার। নির্যাতন, নিপীড়ন যেনো আমাদের রক্তে মিশে গেছে। যার বাস্তব প্রমাণ, যুক্তরাষ্ট্রের মিনেপোলিসে শ্বেতাঙ্গ পুলিশের হাতে জর্জ ফ্লয়েড হত্যা। আর সে হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল কথিত গনতান্ত্রিক রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র।

কারফিউ, করোনা সংক্রমণের ভয় কোনো কিছুই থামাতে পারছে না বিক্ষোভকারীদের। পুরো দেশ যেন প্রতিবাদের অগ্নিস্ফুলিঙ্গে পরিণত হয়েছে। কারফিউ থেকে শুরু করে কোনকিছুই আটকে রাখতে পারেনি জনগণকে।

‘অন্যদিকে লিবিয়ায় ২৬ জন অসহায় বাংলাদেশী প্রবাসীকে গুলি করে খুন করা হলো। প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে আনারসের ভিতরে বিস্ফোরক (বাজি) ঢুকিয়ে একটি গর্ভবতী হাতিকে মেরে ফেলা হলো। এই কি তাহলে আমাদের মানবতা?’

করোনা ভাইরাস আমাদের কী শিখেয়ে যাচ্ছে। যেখানে আপনজনকে রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যাচ্ছে তার স্বজনরা। করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির লাশ গ্রহন করছে না আত্মীয়রা। তারপরও কেনো আমাদের এত দাম্ভিকতা। আমরা আর কবে বুঝবো সৃষ্টিকর্তার লীলাখেলা।

সৃষ্টিকর্তা তার শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে আমাদের পাঠিয়েছেন। তার নেয়ামতকে আমরা অস্বীকার করছি। এমন কোনো পাপ নেই যা আমরা করছি না। তবে কি আমরা আমাদের পাপের প্রায়শ্চিত করছি!

করোনাভাইরাস বিস্তারের কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে যে আশঙ্কা আমাদের মাঝে ছিলো। করোনাকালে কিছুটা হলেও জলবায়ু পরিবর্তন হয়েছে। প্রাকৃতিক পরিবেশ ফিরে পেয়েছে তার পুরনো দিন। এর অন্যতম উদাহরন- কক্সবাজার সাগর তীরবর্তী অঞ্চলে ডলফিনের অবাধ বিচরণ।

করোনাভাইরাস থেকে হয়তো একদিন মুক্তি পাব আমরা। তবে আমরা কি সেই পুরনো দিনের মতো নতুন করে ফিরে আসতে পারবো? কতটা সম্ভব ফিরে আসা! করোনা আমাদের যা শিখিয়ে গেলো তাতে কি বিশ্ববাসীর দাম্ভিকতা কিছুটা হ্রাস পাবে? আমাদের মাঝে কি সমতা ফিরে আসবে? আসবে কি মানবতার উত্তম শিক্ষা?

লেখক: মোঃ নাজমুল হাসান
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের গ্রাজুয়েট শিক্ষার্থী
পাবলিক ভয়েসের বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগের প্রধান

আরো পড়ুন: ভালো ফলাফল নয় ভালো মানুষ হওয়া চাই!

/এসএস/পাবলিকভয়েস

মন্তব্য করুন