আম্ফানের ক্ষত না কাটতেই নতুন ঘূর্ণিঝড়

প্রকাশিত: ৬:২৯ অপরাহ্ণ, জুন ১, ২০২০
ঘূর্ণিঝড়-ফাইল ছবি

ভয়াবহ সুপার সাইক্লোন আম্ফানের ক্ষত এখনো শুকায়নি। কিন্তু তার আগেই ধেয়ে আসছে আরেকটি ঘূর্ণিঝড়। আরব সাগরে অবস্থানরত বলয়টি সোমবার সকাল নাগাদ নিম্নচাপ থেকে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। আগামী ১২ ঘণ্টায় সেটি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে (সাইক্লোনিক স্টর্ম) পরিণত হবে এবং বুধবার নাগাদ ভারতের গুজরাট ও মহারাষ্ট্র উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে। এমনই পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ।

দেশটির আবহাওয়া কর্মকর্তা মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানিয়েছেন, আগামীকাল ২ জুন সকাল পর্যন্ত উত্তরের দিকে অগ্রসর হবে ঘূর্ণিঝড়টি। এর পর সেটি উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে পরের দিন বুধবার সন্ধ্যা কিংবা রাতের দিকে উত্তর মহারাষ্ট্র ও দক্ষিণ গুজরাটের উপকূলে হরিহরেশ্বর এবং দমনের মাঝে আছড়ে পড়তে পারে।

তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড়টি যখন উপকূলে আঘাত হানবে তখন ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০৫ থেকে ১১৫ কিলোমিটার হতে পারে। সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২৫ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।

ভারতের আবহাওয়া বিভাগ বলছে, আরব সাগর ও লাক্ষাদ্বীপ এলাকায় যে নিম্নচাপ বলয়ের সৃষ্টি হয়েছিল, আজ সোমবার সকালেই সেটি নিম্নচাপ থেকে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এদিন বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ সেটি পানজিম থেকে ৩৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে, মুম্বাই থেকে ৬৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং সুরাট থেকে ৯০০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

খবরে বলা হয়েছে, ঝড়ের সময় সমুদ্র ব্যাপক উত্তাল হবে। গুজরাট, মহারাষ্ট্র, গোয়া, কর্নাটক, কেরালা এবং লাক্ষাদ্বীপের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ৪ মিটার উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। সেইসঙ্গে প্রবল বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ইতোমধ্যে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

মাত্র দিন দশেক আগেই বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও উড়িষ্যা উপকূলে তাণ্ডব চালিয়ে লণ্ডভণ্ড করে দেয় আম্ফান। ভয়াবহতম ওই সুপার সাইক্লোনে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে প্রায় এক শ লোকের মৃত্যু হয়। সেইসঙ্গে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিও হয়। বাংলাদেশেও বড়সড় ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি অন্তত ২৪ জনের প্রাণ কেড়ে নেয় আম্ফান।

এমএম/পাবলিকভয়েস

মন্তব্য করুন