শ্বশুরবাড়ি-বাবার বাড়ি কোথাও ঠাঁই হলো না, দাফন করলো পুলিশ

প্রকাশিত: ৯:১১ অপরাহ্ণ, মে ২৯, ২০২০

নরসিংদীতে করোনা উপসর্গ নিয়ে ফেরদৌসী বেগম (২৭) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে জেনে শ্বশুরবাড়ি ও বাবার বাড়ির লোকজন মৃতদেহ গ্রহণ করেনি। পরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী নরসিংদী পৌর কবরস্থানে দাফন করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৯ মে) নরসিংদী পৌর কবরস্থানে কবর খোঁড়া থেকে শুরু করে ওই নারীর দাফনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) থানা পুলিশের সদস্যগণ।

বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফেরদৌসি বেগম (২৭) নামে ওই নারীর মৃত্যু হয়। ফেরদৌসী বেগম ব্রাহ্মনবাড়ীয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার খাল্লা গ্রামের মালদ্বীপ প্রবাসী আল আমিনের স্ত্রী এবং নরসিংদী শহরের শালিধা মহল্লার ভাড়াটিয়া।

পুলিশ, পরিবারের সদস্য ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, স্বামী ১০ বছর ধরে প্রবাসে থাকায় ৫ম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক সন্তানসহ শালিধা মহল্লার একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছিলেন ওই গৃহবধূ। তিনদিন ধরে তার বমি ও খাবারে অরুচিসহ বিভিন্ন লক্ষণ দেখা দেয়। পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে হঠাৎ মাথা ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট জনিত কারণে নরসিংদী সদর হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি হন ফেরদৌসি বেগম। সন্ধ্যায় শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। করোনাভাইরাসে তার মৃত্যু হয়েছে এই ভয়ে স্বামীর পরিবার ও বাবার বাড়ির লোকজন ওই গৃহবধূর লাশ গ্রহণ করতে রাজি হননি। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের অবহিত করে। বিষয়টি পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদারের নজরে এলে তিনি নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দুজ্জামানকে লাশ দাফনের নির্দেশ দেন।

শুক্রবার সকালে নরসিংদী পৌর কবরস্থানে পুলিশের সদস্যরা ওই নারীর মরদেহ দাফন করেন।

জেলা পুলিশের মিডিয়া সমন্বয়ক ও পরিদর্শক রুপণ কুমার সরকার বলেন, করোনার কারণে অতি আপনজনও লাশের পাশে আসেনি, কিন্তু মানবতার ফেরিওয়ালা পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদারের নির্দেশে পুলিশ সদস্যরা কবর খোঁড়া থেকে শুরু করে ওই নারীর মরদেহ দাফন করেন।পূর্বপশ্চিমবিডি।

এমএম/পাবলিকভয়েস

মন্তব্য করুন