কিশোরগঞ্জে আলেম প্রজন্মের উদ্যোগে ১৫ হাজার রোজাদারের মাঝে ইফতার বিতরণ

প্রকাশিত: ৮:১১ অপরাহ্ণ, মে ২৪, ২০২০

করোনাভাইরাসের কারণে বদলে গেছে শ্রমজীবী মানুষের জীবন। শ্রমজীবী মানুষেরা এখন স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে কাজে যেতে পারছেন না। সবকিছু বন্ধ থাকায় বেকার হয়ে বসে আছেন দেশের লাখ লাখ মানুষ। এসব মানুষ এখন বেঁচে থাকার যুদ্ধ করছেন প্রতিনিয়ত।

রিকশাচালক, গাড়িচালক, দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক, দোকানদার, ফুটপাতের ছোট ব্যবসায়ী এখন ঘরবন্দী। সুদিন ফেরার আশায় দিন গুনছেন তাঁরা। এমনয় কিছু মানুষের পাশে গিয়ে ইফতার নিয়ে দাড়িয়েছে ‘তরুণ আলেম প্রজন্ম কিশোরগঞ্জ’ নামের একটি সংগঠন।

করোনার (কোভিড-১৯) সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর কিশোরগঞ্জের একঝাঁক তরুণ আলেমকে নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় সংগঠনটি। সংগঠনটি
সর্বস্তরের খেটে খাওয়া মানুষদের নগদ অর্থ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সহায়তার পাশাপাশি রমজান মাস ব্যাপী ইফতার বিতরণ করে এসেছে।

তরুণ আলেম প্রজন্ম কিশোরগঞ্জের নামের এই সংগঠনটিকে শুরু থেকেই কাফন-দাফনের আনুষঙ্গিক জিনিসপত্রসহ সার্বিক সহযোগিতা করে আসছে আল ইমদাদ ট্রাস্ট নামের আরেকটি সংগঠন।

এ পর্যন্ত তারা প্রায় পনেরো হাজার রোজাদারের মাঝে ইফতার বিতরণ করেছে। শহরের বড়বাজার, একরামপুর, বয়লা, শোলাকিয়া, গৌরাঙ্গ বাজার, বাস স্ট্যান্ড ইত্যাদি জনাকীর্ণ এলাকায় ইফতার বিতরণ করেছে। এতে দরিদ্র মানুষ ছাড়াও শহরে বিভিন্ন কাজে আগত মানুষদের আপ্যায়ন করা সম্ভব হচ্ছে।সংগঠনের পরিচালক মুফতি আব্দুল্লাহ সাদেক এতথ্য জানিয়েছেন।

সামাজিক দূরত্ব ও সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি মেনেই পরিচালিত হয়ে আসছে এই বিতরণ কর্মসূচি।

তরুণ আলেম প্রজন্ম কিশোরগঞ্জ’ ইফতার ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি লকডাউনে কিশোরগঞ্জে কাপড়ের দোকানগুলো বন্ধ থাকায় প্রয়োজন সত্ত্বেও মৃতব্যক্তির কাফনের কাপড় ও আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র কিনতে না পারা বা সামর্থ্য নেই যাদের- তাদেরকে কাফনের কাপড় ও আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র বিনামূল্যে পৌঁছে দিচ্ছে। সাথে সাথে কাফন-দাফনের ব্যবস্থাও করছে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মুঠোফোন নম্বর প্রচার করা হয়েছিল, যার মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা কল করে জানালে সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা বিনামূল্যে কাফন দাফনের আনুষঙ্গিক জিনিসপত্রসহ তাদের কাফন-দাফনের ব্যবস্থাও করছে।

এছাড়াও অসহায়-মধ্যবিত্ত ও গরিব আলেমদের ঘরে ঘরে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে সংস্থার কর্মীরা। সহায়তা গ্রহণকারীরা যাতে সংকোচ বোধ না করেন, সে জন্য সেগুলো দেওয়া হয়েছে রাতের আঁধারে।

সংগঠনের সূত্রে জানা গেছে, করোনার সংক্রমণ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ার পর সংগঠনের পক্ষ থেকে জেলার বিভিন্ন স্থানে জীবাণুনাশক ছিটানো হয়েছিল। করোনা ভাইরাস থেকে সচেতনতায় মাসনূন দোয়া সম্বলিত পকেট হ্যান্ডবিল বিতরণের পাশাপাশি শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও মসজিদ সমূহে লাগানো হয়েছিল মাসনূন দোয়া সম্বলিত শতাধিক ব্যানার।

প্রথম দিকে সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা নিজ অর্থায়নে সেবামূলক কার্যক্রম চালু করলেও পরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সুধীজন, দেশের বাইরে অবস্থান করা প্রবাসীরাও এ মহতী উদ্যোগে সার্বিক সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন।

তরুণ আলেম প্রজন্ম কিশোরগঞ্জ নামের সংগঠনটি বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে ইতিমধ্যেই ব্যপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

সংগঠনটি করোনাভাইরাস মহামারী পরবর্তী সময়েও তরুণ আলেমদের নিয়ে কিশোরগঞ্জের তেরো থানায় এই সেবা চালু রাখবে বলে জানিয়েছে।

এমএম/পাবলিকভয়েস

মন্তব্য করুন