ভোলায় ঘুর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ঘুরে দাড়ানোর চেষ্টা

প্রকাশিত: ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ, মে ২৩, ২০২০

ভোলা প্রতিনিধি: ঘুর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে উপকূলীয় দ্বীপজেলা ভোলায় ঘর বাড়ি বিধ্বস্তসহ বেড়ি বাধ, কৃষকের ফসল, পুকুরের মাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জোয়ারের পানিতে ও ঝড়ে কয়েক কোটি টাকার সম্পদের ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে। বিশেষ করে ভোলার সর্ব দক্ষিনের উপজেলা চরফ্যাসনের সাগর মোহনার ঢাল চর ইউনিয়নে বহু মানুষ আশ্রয় কেন্দ্র থেকে বাড়িতেবফিরে গিয়ে দেখে তাদের ঘর বাড়ি বিধ্বস্থ হয়েছে। তাদের থাকার মতো কোনো অবস্থা নেই।

অনেকেই খোলা আকাশের নিচে চরম সংকটের মধ্যে মানবেতর দিন পার করছে। ত্রান সহয়াতা পর্যন্ত পায়নি বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এদিকে ঢাল চরে বিধ্বস্থ পরিবার গুলো শেষ সম্বল যা আছে তা দিয়ে মেরামত করে ঘুরে দাড়ানোর চেষ্টা করছে।

ঢাল চর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সালাম হাওলাদার জানান, তার দুর্গম এই ইউনিয়নে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত কোন ত্রান পৌছেনি। শুক্রবার বিকেলে কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে ১৫০ প্যাকেট ত্রান পৌছেছে। তবে কিকি দিয়েছে তা তিনি এখনো দেখেননি।

ভোলা জেলা ত্রাণ কর্মকতা পিয়াস চন্দ্র দাস জানান, এক পরিসংখ্যানে ঘুর্ণিঝড়ে ভোলায় ৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৬৮ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে । এছাড়াও ভোলা জেলায় ৩ শত ৩২টি ঘর সম্পূর্ন বিধ্বস্ত ও ১ হাজার ৬ শত ঘর বাড়ি আংশিক ক্ষতি হয়েছে।

এছাড়ও ৩৪.৬ কিলোমিটার বেড়ি বাঁধ ও রাস্তার ক্ষতি হয়েছে। ৩ হাজার ১৭৭ হেক্টর জমির কৃষকের ফসল নষ্ট হয়েছে। ক্ষতি হয়েছে ৬৫৭টি গবাদি পশু। এছাড়া আড়াই হাজার মাছের খামারের মাছ ভেসে গেছে। ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকতা আজহারুল ইসলাম জানান, মৎস্য খাতে ঘুর্ণিঝড়ে প্রায় ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত ৩ শত মেট্রিক টন চাল, ৯ লক্ষ টাকা,১৭ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরন করা হয়। এদিকে ভোলার চরফ্যাশনের চর মানিকায় ঘূর্ণিঝড় আম্পানের ক্ষতিগ্রস্থ ৫০০ পরিবারের মাঝে শুক্রবার সকালে ত্রাণ সামগ্রী দেয়া হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন এস এম মঈন উদ্দিন। খাদ্য সামগ্রীর মধ্যে ছিল চাল, ডাল, তেল, খাবার স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সহ দশ আইটেমের সামগ্রী দেন।

/এসএস

মন্তব্য করুন