ঈদে প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাসে বাড়ি ফেরার অনুমতি!

প্রকাশিত: ১২:১৭ অপরাহ্ণ, মে ২২, ২০২০

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও ঈদের দুইদিন আগে ঢাকার দুই প্রবেশ পথ প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ফলে ঈদের আগে বাড়ি ফিরতে প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসসহ ব্যক্তিগত যানবাহনে বাধা কাটল।

রাজধানীর গাবতলী এবং যাত্রাবাড়ী এলাকায় বৃহস্পতিবার (২১ মে) দিবাগত রাত থেকেই প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস চলাচলে বাধা দেয়া হচ্ছে না।

সরকারের উচ্চমহল থেকে এ ধরনের একটি মৌখিক নির্দেশনা পুলিশের প্রতিটি রেঞ্জের ডিআইডি, পুলিশ সুপার (এসপি) এবং মেট্রোপলিটন শহরের উপ-কমিশনারদের (ডিসি) জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) একটি সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রটি আরো জানায়, গণপরিবহন নয় ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে ছুটিতে জরুরি কাজের জন্য কেউ যদি গ্রামের বাড়ি ফিরতে চাইলে তাদের যেতে দিতে বলা হয়েছে। তাদের বাধা না দিতে পুলিশকে সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গাবতলীতে পুলিশের দুটি চেকপোস্ট নির্দেশনা মোতাবেক ‘ইন’ও ‘আউটে’র ক্ষেত্রে তুলে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মিরপুর ডিভিশনের দারুস সালাম জোনের এডিসি মাহফুজা আফরোজ লাকী।

পুলিশ কর্মকর্তা লাকী জানান, আমরা নির্দেশনা পেয়েছি। রাত ১০টার দিকে চেকপোস্ট উঠিয়ে নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, গণপরিবহন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। কেউ যদি মাইক্রোবাস ও প্রাইভেট কার নিয়ে ঢাকা থেকে বের হয় বা প্রবেশ করে তাতে বাধা নেই। হেঁটে গেলেও বাধা নাই।

ঢাকার আরেক প্রান্তে যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মাজহারুল ইসলামও একই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বলেন, গণপরিবহন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। তবে প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস যোগে ইন-আউট করা যাবে। তবে যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের চেকপোস্ট আছে বলে জানান ওসি মাজহারুল ইসলাম।

চীনের উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়া অচেনা কোভিড-১৯ বা করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দেশে প্রথম শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। এরপর থেকে প্রতিদিনই বাড়ছে শনাক্তের সংখ্যা। সেই সঙ্গে মৃত্যু। দেশে সবশেষ এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ২৮ হাজার ৫১১ জনের। আর মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০৮ জনে। সুস্থ হয়েছেন ৩৯৫ জন।

ভাইরাসটির সংক্রমণ ঠেকাতে দেশে সাধারণ ছুটি চলছে। সবশেষ ৩০মে পর্যন্ত এই ছুটি বর্ধিত করা হয়েছে। একইদিন পর্যন্ত সড়ক-মহাসড়কে বাস কিংবা পাবলিক পরিবহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এর আগে ২৬মার্চ থেকে গণপরিবহন বন্ধ করা হয়। পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন করলে আইনের কঠোর প্রয়োগের কথাও জানায় সড়ক পরিবহন বিভাগ।

আগামী ৩০ মে পর্যন্ত বর্ধিত ছুটি পর্যন্ত এই নির্দেশনা কার্যকর থাকবে বলে জানিয়ে সরকার বলেছিল, জরুরি সেবার বাহন ছাড়া অন্য যানবাহন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। পুলিশও জানিয়েছিল, ঢাকায় প্রবেশ ও বের হওয়া কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে।

তবে ঈদের আগে বাড়ি ফিরতে মানুষ ফেরিতে পারাপার এবং পণ্যবাহী যানবাহনে ব্যবহার করছে। পুলিশের চোখ এড়াতে রড বোঝাই ট্রাকের ওপরে ত্রিপল বেধে যাওয়ার সময় গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে বৃহস্পতিবার দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ১৩ জন।

এমএম/পাবলিকভয়েস

মন্তব্য করুন