মহিমান্বিত কদর রজনী

প্রকাশিত: ১০:১০ অপরাহ্ণ, মে ২০, ২০২০

মূলত রমজানের শেষ দশকের বিজোর রাত্রিতে যেকোনোদিন লাইলাতুল কদর হতে পারে। রাতটি নির্দিষ্ট নয় বরং তা গোপন। ফলে এ নিয়ে রয়েছে বিস্তর গবেষণা ও মতপার্থক্য। তবে অধিকাংশ ইসলামী গবেষকদের মতে রমজানের ২৭তম রজনীতেই পবিত্র শবে কদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে এটা নিশ্চিত নয়। হতে পারে অন্য যেকোনো বেজোড় রাত্রিও।


শাহনূর শাহীন:

২৭ রমজান পবিত্র লাইলাতুল কদর তথা মহিমান্বিত কদর রজনী। কদর শব্দের অর্থ ভাগ্য। লাইলাতুল কদর অর্থ ভাগ্য রজনী। এ রাতে সৃষ্টিকুলের ভাগ্য লিপিবদ্ধ করা হয় বলে এ রাতকে ভাগ্য রজনী বলা হয়।

মূলত রমজানের শেষ দশকের বিজোর রাত্রিতে যেকোনোদিন লাইলাতুল কদর হতে পারে। রাতটি নির্দিষ্ট নয় বরং তা গোপন। ফলে এ নিয়ে রয়েছে বিস্তর গবেষণা ও মতপার্থক্য। তবে অধিকাংশ ইসলামী গবেষকদের মতে রমজানের ২৭তম রজনীতেই পবিত্র শবে কদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

তবে রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাত্রিগুলোতেও কদর হতে পারে। আজ ২১তম রমাজানের রাত্রি সেই হিসেবে আজকের রাত্র হতে পারে লাইলাতুল কদর।

যেমন হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

إني أريت ليلة القدر ،وإني نسيتها أو أنسيتها فالتمسوها في العشرالأواخر من كل وتر.

‘আমাকে লাইলাতুল ক্বদর দেখানো হয়েছিল কিন্তু পরে তা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে, তবে তোমরা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রজনীগুলোতে লাইলাতুল কদর অন্বেষণ করো’। (সহীহ মুসলিম)।

হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

ﺗَﺤَﺮَّﻭْﺍ ﻟَﻴْﻠَﺔَ ﺍﻟْﻘَﺪْﺭِ ﻓِﻰ ﺍﻟْوﺗرِ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻌَﺸْﺮِ ﺍﻷَﻭَﺍﺧِﺮِ ﻣِﻦْ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ.

‘তোমরা রামাজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে লাইলাতুল ক্বদর অনুসন্ধান করো’। (সুনানে তিরমিজী)।

তবে সাতাশতম রজনীতে কদর হওয়ার সম্ভাবন বেশি থাকে। সাতাশ তম রজনীর ব্যাপারে হযরত আবু যর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন,

قلت لأبي بن كعب أني علمت أباالمنذر! أنها ليلة سبع و عشرين قال بلي أخبرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم أنها ليلة صبيحتهاتطلع الشمس ليس لها شعاع فعددنا وحفظنا.

‘আমি উবাই ইবনে কা’ব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললাম, আবুল মুনজির! আপনি কিভাবে জানলেন যে এটা হল ( লাইলাতুল ক্বদর) সাতাশ তারিখের রাত্রি? তিনি বললেন, হ্যাঁ- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন এটি এমন একটি রাত, যার সকালে সূর্য এমন অবস্থায় উদিত হবে যে তার মধ্যে আলো থাকবে না সুতরাং আমরা সেটি গুনে সংরক্ষণ করেছি। (সুনানুত তিরমিজি)।

এ ব্যাপারে গবেষক ইমামগণ বলেছেন, আরবীতে ‘লাইলাতুল কদর’ শব্দদ্বয়ে ৯টি হরফ বা বর্ণ রয়েছে। আর সুরা কদরে ‘লাইলাতুল কদর’ শব্দদ্বয় তিনবার রয়েছে। নয়কে তিন দিয়ে গুণ করলে সাতাশ হয়, তাই সাতাশ রমজানের রাতে (ছাব্বিশতম দিবাগত রাত) শবে কদর হওয়ার সম্ভাবনা প্রবলভাবে বিদ্যমান রয়েছে। (তাফসিরে মাজহারি)।

এ রাতের ব্যাপারে হযরত উবাদা ইবনে সামিত রা. বর্ণিত হাদীসে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. শবে কদরের সংবাদ দেওয়ার জন্য বের হলেন, দেখলেন দুজন মুসলমান ঝগড়া–বিবাদে লিপ্ত। তারপর তিনি বললেন, ‘শবে কদর সম্বন্ধে খবর দেওয়ার জন্য আমি বের হয়েছিলাম, তোমাদের অমুক অমুক বিবাদে লিপ্ত হলো, আর তা আমা থেকে তুলে নেওয়া হলো। হয়তো এটাই তোমাদের জন্য মঙ্গলজনক হবে। এখন তোমরা তা রমজানের শেষ দশকে বিজোড় রাতগুলোতে তালাশ করো’ (বুখারি)।

সুতরাং শবে কদর এর রাত্র শেষ দশকের যেকোনো বেজোড় রাত্রিতেই হতে পারে। হতে পারে সেটা আজকেও। বিভিন্ন আলোচনা-পর্যালোচনা সম্ভাবনার খাতিরে আমাদেরকে শেষ দশকের সবগুলো বেজোড় রাত্রিতে পবিত্র লাইলাতুল কদর তালশ করতে হবে।

শবে কদরে নির্ধারিত ফরজ ইবাদতগুলো সযত্নে পালনপূর্বক সামর্থ্যমতো সর্বাধিক নফল ইবাদতের মাধ্যমে রাত্রি জাগরণ করা সুন্নত। রাসূল সা. বলেন, ‘যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াবের উদ্দেশ্যে আত্মমূল্যায়নসহ কদরের রাত জেগে ইবাদত করবে, তার অতীতের সকল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে’। (বুখারি শরিফ, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৩০, হাদিস: ৩৪)।

/এসএস

মন্তব্য করুন