বুধবার: সর্বোচ্চ নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা : আজ আক্রান্ত ১৬১৭, মৃত ১৬জন

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি

প্রকাশিত: ২:৪৯ অপরাহ্ণ, মে ২০, ২০২০
বাংলাদেশে করোনাভাইরাস আপডেট। ছবি : পাবলিক ভয়েস।

মহামারী করোনাভাইরাসে আজ বুধবার, ২০ মে (বিগত ২৪ ঘন্টায়) দেশে ১৬জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট মৃত্যু হলো ৩৮৬জনের। মৃতদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ৭জন,  চট্টগ্রাম বিভারে ৫জন, সিলেটের ১জন ও রংপুর বিভাগের ৩জন।

এছাড়া গত ২৪ ঘন্টায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৬১৭জনের, এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা হলো ২৬ হাজার ৭৩৮জন।

  • এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হয়েছে সুস্থ ২১৪ জন এবং এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৫ হাজার ২০৭জন।

আজ বুধবার (২০ মে) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বুলেটিনের ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন আইইডিসিআর এর মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ১১ হাজার ১৩৮টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এরমধ্যে পরীক্ষা করা হয় ১০ হাজার ২০৭টি নমুনা। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো ২ লাখ ৩ হাজার ৮৫২টি।

এছাড়াও গত ২৪ ঘন্টায় আইসোলেশনে গেছে ৩০০জন, আইসোলেশন থেকে ছাড়া পেয়েছেন ১০০জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ৩৮১৮জন। আইসোলেশন থেকে এখন পর্যন্ত মোট ছাড়া পেয়েছেন ১০৮৪জন।

ব্রিফিংয়ে গত ২৪ ঘন্টায় ঢাকা ও ঢাকার বাইরে মোট ৪৩ ল্যাবের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে জানিয়েছেন ডা. নাসিমা সুলতানা। সর্বশেষ নতুন করে যুক্ত হয়েছিলে রাজধানীর ইউনাইটেড হসপিটাল লিমিটেড।

উল্লেখ্য : বাংলাদেশে গত ৮ ই মার্চ করোনাভাইরাস প্রথম ধরা পড়ে। এরপর হুহু করে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। গত (১৫ মে) দেশে সর্বোচ্চ আক্রান্ত এবং সর্বোচ্চ মৃতের রেকর্ড হয়। আজ সোমবার (১৮ মে) সেটাও ছাড়িয়ে গেলো।

করোনাভাইরাসে বিশ্বব্যাপী মৃতের সংখ্যা এই মূহুর্তে তিন লাখ পার হয়ে গেছে। প্রতিমূহুর্ত বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। ১৬ মে দুপুর ২ টা পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী করোনায় মৃতের সংখ্যা ৩ লক্ষ ১৬ হাজারেরও বেশি। এরমধ্যে শুধুমাত্র আমেরিকাতেই প্রায় ৯১ হাজার মানুষ মারা গেছে

বাংলাদেশেও প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। বিশেষ করে পরীক্ষা যতো বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে হু হু করে। বাড়ছে ঝুঁকি।

সংশ্লিষ্ট খবর:

খোলা মাঠের পরিবর্তে মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় ও দোয়ার অনুরোধ

২০০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম শোলাকিয়ায় হবে না ঈদের জামাত

এদিকে, করোনা মহামারীর মধ্যেই নতুন বিপদ হিসেবে আসছে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আম্পান। ইতোমধ্যে আজ ‍বুধবার সকালে ভারতের উড়িষ্যায় উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড় আম্পান আঘাত হেনেছে। সেখানে প্রচণ্ড ঝড়ো বাতাস বইছে এবং ভারি বর্ষণ হচ্ছে। ঝড়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র, স্থাপনা ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বুধবার সকাল থেকেই উড়িষ্যার পারাদ্বীপে সর্বোচ্চ ১০৬ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যাচ্ছে। চান্দবালিতে ঘণ্টায় ৭৫ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যায়। বেলাশোরে ৫৭ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে গেছে। আর ভুবনেশ্বরে ৫৬ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে গেছে। মুষলধারে বৃষ্টিপাতও হচ্ছে। দুপুর ও বিকালের দিকে এই ঝড় আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে আজ সন্ধ্যায় বাংলাদেশের উপকূলবর্তী এলাকায় আঘাত হানতে পারে প্রলয়ংকারী এই ঘূর্ণিঝড়। এজন্য উপকূলবর্তী এলাকায় ১০ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হচ্ছে। ১৫ মিটার উচ্চ জলোচ্ছাস বয়ে যাওয়ার আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

১০ নম্বর সংকেত থাকবে মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরে। এছাড়া সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর এবং চাঁদপুর জেলাতেও দেখানো হচ্ছে দশ নম্বর মহাবিপদ সংকেত।

বুধবার ভোর ৬টার তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় আবহাওয়া অধিদফতর।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ৬ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

ঘূর্ণিঝড় এবং দ্বিতীয় পক্ষের চাঁদের সময়ের শেষ দিনের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রাম এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

ভারতের উড়িষ্যায় আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় আম্পান

চট্টগ্রাম-কক্সবাজারেও ৯নং মহাবিপদ সংকেত

/এসএস

মন্তব্য করুন