মঙ্গলবার:আজকেও মৃত্যু ২১জনের, আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়ালো ২৫ হাজার

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি

প্রকাশিত: ২:৪৫ অপরাহ্ণ, মে ১৯, ২০২০

পেছনের সব রেকর্ড ভেঙে দেশে মহামারী করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সর্বোচ্চ রেকর্ড হয়েছিলো গতকাল সোমবার। আজ মঙ্গলবারেও সেটা অব্যহত রয়েছে। বিগত ২৪ ঘন্টায় দ্বিতীয়বারের মতো সর্বোচ্চ ২১জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট মৃত্যু হলো ৩৭০জনের।

এছাড়া গত ২৪ ঘন্টায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ১২৫১ জনের, এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা হলো ২৫ হাজার ১২১জন।

এছাড়া গত ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হয়েছে ৪০৮ জন এবং এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৪ হাজার ৯৯৩জন।

আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বুলেটিনের ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন আইইডিসিআর এর মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ৯০৯১টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এরমধ্যে পরীক্ষা করা হয় ৮ হাজার ৪৪৯টি নমুনা। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো ১ লাখ ৯৩ হাজার ৬৪৫টি।

ব্রিফিংয়ে গত ২৪ ঘন্টায় ঢাকা ও ঢাকার বাইরে মোট ৪২ ল্যাবের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। গত রোববার সর্বশেষ নতুন করে যুক্ত হয়েছিলো সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

উল্লেখ্য : বাংলাদেশে গত ৮ ই মার্চ করোনাভাইরাস প্রথম ধরা পড়ে। এরপর হুহু করে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। গত (১৫ মে) দেশে সর্বোচ্চ আক্রান্ত এবং সর্বোচ্চ মৃতের রেকর্ড হয়। আজ সোমবার (১৮ মে) সেটাও ছাড়িয়ে গেলো।

করোনাভাইরাসে বিশ্বব্যাপী মৃতের সংখ্যা এই মূহুর্তে তিন লাখ পার হয়ে গেছে। প্রতিমূহুর্ত বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। ১৬ মে দুপুর ২ টা পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী করোনায় মৃতের সংখ্যা ৩ লক্ষ ১৬ হাজারেরও বেশি। এরমধ্যে শুধুমাত্র আমেরিকাতেই প্রায় ৯১ হাজার মানুষ মারা গেছে

বাংলাদেশেও প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। বিশেষ করে পরীক্ষা যতো বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে হু হু করে। বাড়ছে ঝুঁকি।

উল্লেখ্য, আইইডিসিআর এর মহাপরিচালক এর অবর্তমানে নাসিমা সুলতানা বর্তমানে মহাপরিচালক এর দায়িত্বে রয়েছেন। তবে ডা. মীরজাদী সেব্রিনার ব্যাপারে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

তবে তিনি সুস্থ, স্বাভাবিক আছেন বলে জানা গেছে। এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে কোয়ারেন্টাইনে গেলেও তার মধ্যে করোনার কোনো লক্ষণ-উপসর্গ ছিল না। ২২ এপ্রিল থেকে আবারো নিয়মিত অফিস করা শুরু করেন।

এ বিষয়ে আইইডিসিআর’র প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ এইচ এম আলমগীর বলেন, ফ্লোরা ম্যাডাম ভালো আছেন, সুস্থ আছেন। তার পরিবারের সবাই সুস্থ আছেন। তিনি নিয়মিত অফিসও করছেন।

  • এদিকে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সংক্রমণরোধে সতর্কতার অংশ হিসেবে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের জামাত ঈদগাহ বা খোলা জায়গার পরিবর্তে স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্থানীয় মসজিদে আদায় করার জন্য অনুরোধ করেছে সরকার।

গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ধর্মমন্ত্রণালয় থেকে এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে একই মসজিদে একাধিক জামায়াত আয়োজনের কথাও বলা হয়েছে।

ধর্মমন্ত্রণালয়ের জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে সারা দেশে জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সম্প্রতি সরকার সার্বিক বিবেচনায় কিছু ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে।

এ সময় দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামারা পবিত্র রমজান মাসের গুরুত্ব বিবেচনা করে মসজিদে নামাজ আদায়ের শর্ত শিথিল করার জন্য প্রধানমন্ত্রী বরাবর দাবি জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৭ মে থেকে কিছু শর্তে মসজিদে সুস্থ মুসল্লিদের উপস্থিতিতে জামাতে নামাজের অনুমতি দেওয়া হয়।

ইতিমধ্যে (বৃহস্পতিবার ১৪) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে উন্মুক্ত স্থানে বড় পরিসরে ঈদের জামায়াত পরিহারের নির্দেশনা দিয়ে বিদ্যমান বিধিবিধান অনুযায়ী ঈদের জামাত আয়োজনের বিষয়ে নির্দেশনা দেয়। ইসলামি শরিয়তে ঈদগাহ বা খোলা জায়গায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের জামাত আদায়ের ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়েছে।

কিন্তু বর্তমানে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে মুসল্লিদের জীবনের ঝুঁকি বিবেচনা করে এ বছর ঈদগাহ বা খোলা জায়গার পরিবর্তে ঈদের নামাজের জামাত নিকটস্থ মসজিদে আদায় করার জন্য অনুরোধ করা হলো।

সংশ্লিষ্ট খবর:

খোলা মাঠের পরিবর্তে মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় ও দোয়ার অনুরোধ

২০০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম শোলাকিয়ায় হবে না ঈদের জামাত

কেমন আছেন করোনা ফাইটার ডা. মীরজাদী সেব্রিনা?

মন্তব্য করুন