বরিশালে সন্ত্রাসী ‘আলমগীর বাহিনীর’ নৃশংসতা : ইমামসহ ৫ জন আহত

প্রকাশিত: ১০:০২ অপরাহ্ণ, মে ১৬, ২০২০

বরিশালের কাজিরহাট এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কারনে আতঙ্কিত দলে পরিণত হয়েছে কথিত ‘আলমগীর বাহিনী’। এ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি নৃশংস হামলা করে তারা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। আলমগীর ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়মিতই তাদের দুস্কর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।

গতকাল ১৫-ই মে এই বাহিনীর হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে স্থানীয় এক মসজিদের ইমামসহ প্রায় পাঁচজন। যাদেরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে যখম করেছে এই বাহিনী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায় – গতকাল (১৫ই মে) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের দিকে কাজিরহাট থানার জয়নগর ইউনিয়নের শরীফের চর এলাকায় সন্ত্রাসী আলমগীর বাহিনী পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ধারালো অস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে একই এলাকার মোঃ আব্দুস সালাম বয়াতীর বাড়িতে। হামলায় কুপিয়ে ও খুঁচিয়ে ভয়ানকভাবে ৫ জনকে আহত করা হয়েছে। আহতদের বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে ২জনের অবস্থা আশংকাজনক। ১জন লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

স্থানীয় ও বিভিন্ন সূত্রে এলাকাাবাসীর সাথে কথা বলে আরও জানা যায়, নৃশংস এই হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছে সন্ত্রাসী আলমগীর সরদার (যিনি ডাকাত সরদার নামেও পরিচিত) ও সঙ্গে ছিলো তার বাহিনীর সদস্যরা। যাদের মধ্যে- ১. আঃ রশিদ হাওলাদার (৫৫) পিতা-মৃত আঃ রহিম হাওলাদার, ২. তানভীর (২৩) পিতা-আঃ রশীদ হাওলাদার, ৩. মোঃ হেলাল সরদার (৫০) পিতা-মৃত শাজাহান সরদার, ৪. মোঃ শাহিদ সরদার (৫৫) পিতা-মৃত মতু সরদার, ৫. মোঃ তারেক সরদার (২২) পিতা-কবীর সরদারসহ আরো ৮/১০ জনের দল হাতে রামদা, হকস্টিক, চাইনিজ কুড়াল, বল্লম, লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্রসহ আব্দুস সালাম বয়াতীর বাড়িতে হামলা করে।

ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনায় এলাকাবাসী আরও বলেন, আব্দুস সালামকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছিলো আলমগীর বাহিনী। আব্দুস সালাম জীবন বাঁচাতে দৌঁড়ে তার বসত ঘরে প্রবেশ করার চেষ্টা করে। কিন্তু ধারালো অস্ত্রের কোপে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের একপর্যায়ে আব্দুস সালাম মাটিতে লুটিয়ে পরেন। তখন সন্ত্রাসীর সালামকে বল্লম দিয়ে কুপিয়ে তার শরীরের মাংস উঠিয়ে নিয়ে উল্লাস করতে থাকে।

এ সময় সালামকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন তার ভাইয়ের ছেলে মসজিদের ইমাম মোঃ মিরাজ বয়াতী (২৮), মোঃ শামিম (২৮), মোঃ আনোয়ার হোসেন (২০), মোঃ বশীর উল্লাহ (৩০) সহ প্রতিবেশীরা। এ সময় সন্ত্রাসী আলমগীর সরদারের বাহিনী তাদের উপরও চড়াও হয় এবং অস্ত্রের আঘাতে তারাও মারাত্মকভাবে জখম হয়।

একপর্যায়ে আব্দুস সালাম বয়াতীর মৃ্ত্যু নিশ্চিত ভেবে অকথ্য ভাষায় গালী গালাজ করতে করতে আলমগীর বাহিনী স্থান ত্যাগ করে। পরে স্থানীয় গ্রামবাসী ও আহতদের আত্মীয়-স্বজনরা আব্দুস সালামকে শ্বাস নিতে দেখে তাকেসহ আহত সকলকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডেকেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান।

বর্তমানে আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এলাকাবাসী জানান অহত আব্দুস সালাম-এর ডান পা আগে থেকেই পঙ্গু ছিলো এখন বাম পা সন্ত্রাসীরা রট দিয়ে পিটিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছে তাই সে কোনভাবে বেঁচে থাকলেও অচল হয়ে ঘরে থাকতে হবে।

এদিকে ভুক্তভোগী গ্রামবাসীরা জানান, শীর্ষ সন্ত্রাসী আলমগীর বাহিনীর তান্ডবে এলাকাবাসী নাজেহাল। বিএনপি-জামাত সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে আলমগীর বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে ধর্ষণ, ডাকাতি, ভূমিদখলসহ নানাবীদ অপরাধ কাজ চালিয়ে আসছে। তাদের বিরুদ্ধে আদালতে একাধিক মামলাও চলমান আছে।

আলমগীর সরদার বর্তমানে জয়নগর ইউনিয়নের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ (সেন্টু সরদার) এর বড় ভাই । তাদের সাথে যুক্ত আছে শিবির ক্যাডার হিসেবে পরিচিত তানভীর। ২০১৮ সালে মেহেন্দিগঞ্জ জয়নগনর ইউনিয়নে তোতা গাজীকে হত্যার উদ্দেশ্যে শীর্ষ সন্ত্রাসী আলমগীর সরদার ও তানভীরের নেতৃত্বে হামলায় কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে। যে বিষয়ে এখনও তাদের বিরুদ্ধে এখনো মামলা চলমান।

এছাড়াও আলমগীর বহিনী গত কয়েক মাস আগে জয়নগরের রহমানের হাটে সরকারী জায়গা দখল করলে পুলিশের সাথে তাদের সংঘর্ষ হয় এবং এক পর্যায় পুলিশ তাদের কয়েক জনকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। এছাড়াও এই সন্ত্রাসী বাহিনীর আরও অনেক অপকর্ম রয়েছে এলাকাজুড়ে।

এলাকার সচেতন নাগরীকদের তাই একান্ত দাবি, সন্ত্রাসী আলমগীর বাহিনীর সকলকে আইনের আওতায় নিয়ে সঠিক শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে, ভবিষেৎ আরো ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে এই সন্ত্রাসী বাহিনী।

এ ব্যাপারে কাজীরহাট থানা যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে কাউকে পাওয়া পায়নি।

#আরআর/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন