করোনা আমাদের অনেক কিছু শেখালো : সিজার প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার সুমন

প্রকাশিত: ৪:৪১ অপরাহ্ণ, মে ৮, ২০২০

হাসপাতালে অপ্রয়োজনীয় সিজার কমে গেছে উল্লেখ করে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ও সমাজসেবক ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলেন, করোনাভাইরাস মহামারী আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে গেলো। আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো হাসপাতালগুলোতে সিজারের নামে বেশির ভাগই অপ্রয়োজনীয় ডেলিভারি করা হতো।

ব্যারিস্টার সুমন আজ তার নিজস্ব ফেসবুক পেজের এক লাইভে এসে বলেন করোনা ভাইরাসের কারণে এখন কিন্তু হাসপাতালগুলোতে আগের মত ডেলিভারি হচ্ছে না, ব্যবসায়ী ক্লিনিকগুলোতেও চলছে না রমরসা ব্যবসা। অথচ বাংলাদেশে বাচ্চা জন্ম হওয়া কিন্তু বন্ধ নেই এবং শিশুমৃত্যু বা মা মৃত্যুর হারও কোন অংশে বাড়েনি।

তিনি উল্লেখ করে বলেন, আজকে ফেসবুকে একটি অসমর্থিত সূত্রে দেখলাম যে বাংলাদেশের লকডাউন থাকাকালীন অবস্থায় ১ লক্ষ ৭৫ হাজার বাচ্চার জন্ম হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৪% বাচ্চা সিজার হয়েছে এবং বাকি সব নরমাল ডেলিভারি বাচ্চা জন্ম হয়েছে। অথচ যখন লকডাউন ছিলো না তখন প্রায় ৩০% দেখা যেতে সিজার ডেলিভারির মাধ্যমে বাচ্চা হত।

তিনি বলেন- বাচ্চা জন্ম বিষয়ে ডাক্তার দেখাতে গেলে উনারা এমন ভাবে বোঝাতেন যে সিজার না করলে বাচ্চা বাঁচানো যাবে না। আরও অনেকভাবে ডাক্তাররা বুঝাতো যে সিজার করতে হবে নয়তো বাচ্চা বাঁচানো যাবে না। কিন্তু এখন কিন্তু পরিস্থিতি আমাদের চোখের সামনে। পুরো বিষয়টা কিন্তু আমরা নিজেরাই বুঝতে পারতেছি এখন।

তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন- আপনারা জানেন যে, আমি প্রায় ৬/৭ মাস আগেও অপ্রয়োজনীয় সিজার বন্ধে সরকার কেন ব্যবস্থা নেবে না এ বিষয়ে রিট করে আদালতের মাধ্যমে একটি রুল জারি করে এনেছিলাম। তবে সরকার কী ব্যবস্থা নিয়েছেন আমি জানি না। কিন্তু দেখেন প্রকৃতি এমন ব্যবস্থা নিয়েছে যে, এখন ইচ্ছে করলেও ক্লিনিকগুলো আগের মত ব্যবসা করতে পারছে না। কারণ কোনো সুযোগই নেই। অথচ বাংলাদেশে কিন্তু বাচ্চা জন্ম হওয়া বন্ধ হচ্ছে না এবং নরমাল ডেলিভারিতে বাচ্চা জন্মের কারণে মা মৃত্যুর হারও বাড়েনি। কিন্তু অপ্রয়োজনীয় সিজার বন্ধ হয়ে গেছে।

ব্যারিস্টার সুমন বলেন- জানি না করোনাভাইরাস পরবর্তি সময়ে আমরা বাঁচব কি না। তবে তাদের জন্য এই ভিডিওটি আমি রেখে যেতে চাই যে, আসলেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সিজার অপ্রয়োজনীয় ছিল। এখন সিজার বন্ধ হওয়ার কারণে যে মা মৃত্যুর হার বেড়ে গেছে তাও বলতে পারবেন না অর্থাৎ এর মানে হচ্ছে- প্রপারলি ঘরে থাকলে আমাদের মা-বোনদের নরমাল ডেলিভারি সম্ভব।

তিনি বলেন- সাধারনত যারা নতুন বাবা হচ্ছেন, তাদেরকে ডাক্তাররা কিছুটা ভয় দেখালেই তারা ভয় পেয়ে যান এবং সিজার করতে রাজি হয়ে যান। অথচ এটা ডাক্তারদের ব্যবসা। বেশিরভাগ দেখবেন সুস্থ মানুষের সিজার করতেও তারা দ্বিধাবোধ করেন না বিভিন্ন ভয়-ভীতি দেখিয়ে।

তিনি বলেন- আমি এই ভিডিওটা রেখে যাচ্ছি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য যদি বেঁচে না থাকি তাহলে সবাই এই স্পষ্ট প্রমান থেকে শিক্ষা নিতে পারেন যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সিজারের প্রয়োজন হয় না। মনে রাখবেন, মাত্র ৪% বাচ্চার প্রয়োজন হয় আমাদের দেশে। বিদেশে এই সংখ্যা আরও কম। তিনি বলেন- বিদেশে আপনার আত্মীয়-স্বজনের কখনোই শুনবেন না যে তাদের সিজার হয়। এজন্য আমি লাস্ট একটা কথা বলব যে প্রকৃতি বিচারেই আমরা এখন কিছুটা মানুষ হতে শিখতেছি।

ভবিষ্যতে যারা বাবা হবেন যারা মা হবেন তাদের উদ্দেশ্যে বলছি যারা যারা এসব অপ্রয়োজনীয় সিজার করেন তাদের থেকে দূরে থাকবেন। এবং সরকারকে বলছি যে এইটা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং অবশ্যই আপনারা এসব অপ্রয়োজনীয় সিজারের ব্যাপারে একটা ব্যবস্থা নিন।

মন্তব্য করুন