১৫৯ বছর আগে এই দিনে জন্মেছিলেন রবীন্দ্রনাথ

প্রকাশিত: ৪:৩০ পূর্বাহ্ণ, মে ৮, ২০২০

আজ ২৫ বৈশাখ (৮ মে), কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৯ তম জন্মবার্ষিকী। ১২৬৮ বঙ্গাব্দের এই দিনে কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

প্রতিবছর নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আবেগী বাঙালি স্মরণ করে থাকে রবি ঠাকুরকে। শুধু দুই বাংলার বাঙালিই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাংলা ভাষাভাষী মানুষ কবির জন্মবার্ষিকী পালন করে থাকে। তবে এ বছর করোনা ভাইরাস প্রকোপের কারনে কবির জন্মদিন সেভাবে পালন করা হবে না।

জন্মের ১৫৯ বছর এবং মৃত্যুর প্রায় ৭৯ বছর পরেও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেন এখনও প্রাসঙ্গিক- এ ব্যাপারে রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ‘বাঙালির এই কবি এমন এক সময় জন্মগ্রহণ করেছিলেন যখন দেশ ছিল পরাধীন, চিন্তা ছিল প্রথাগত ও অনগ্রসর, বাংলা ভাষা ছিল অপরিণত।’

তিনি বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ একাধারে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিশ্বমানে উন্নীত করেছেন। পাশাপাশি জাতির চিন্তা জগতে আধুনিকতার উন্মেষ ঘটিয়েছেন। বাঙালির মানস গঠনে পালন করেছেন অগ্রদূতের ভূমিকা। তাই ১৫৮ বছর পেরিয়েও কবি আমাদের মাঝে চিরজাগরূক হয়ে আছেন।’

তবে বাংলাদেশ গঠন ও একক মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অস্তিত্বের বিষয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। বঙ্গভঙ্গ থেকে নিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের অসংখ্য ইতিহাসের ভিত্তির সাথে রবীন্দ্রনাথের জড়িয়ে আছেন অনেকটা বিতর্কিত হয়ে। তাছাড়া পরকিয়া ও সামাজিক সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও এ মৃত্যঞ্জয়ি কবির ছিলো কিছুটা উদাসীনতা যা তার কবিতায় প্রভাব ফেলে তার ভক্তদের মধ্যেও প্রভাব তৈরি করেছে বলে দাবি অনেকের। এমনকি মহাসমারোহে যেখানে রবি ঠাকুরের জন্মদিবস বা মৃত্যুদিবস পালিত হয় সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়েও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অসমর্থন ছিলো বলেও ইতিহাসের অনেক পাঁতায় দেখা যায়। তবে এসব নিয়ে দ্বিপাক্ষিক বিতর্ক রয়েছে।

মূলার্থে রবীন্দ্রনাথ যতটা না বাংলাদেশীদের জন্য তারচেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক এবং উল্যেখযোগ্য ছিলেন বাঙালিদের জন্য। বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত চয়নে তার কবিতা গ্রহণ রবি ঠাকুরকে এদেশের জন্য প্রাসঙ্গিক বানিয়েছে কিন্তু তিনি বাঙালির জন্য অনন্য সম্পদ ছিলেন এটা সত্য বলেই মেনে নেন সবাই। কারণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম নোবেল বিজয়ী বাঙালি কবি। গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের জন্য ১৯১৩ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান।

তার লেখা ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’ বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত। এছাড়াও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও প্রেরণা যুগিয়েছিল তার অনেক গান। মুক্তিযোদ্ধাদের ক্লান্তির সঙ্গী ছিলো রবি ঠাকুরের অসংখ্য গান কবিতা।

সব মিলিয়ে নজরুল, ফররুখসহ বাঙালি জাতির আলোচনা ও আগ্রহের কেন্দ্র ধরে রাখতে পেরেছিলেন যে কয়জন কবি তার মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অন্যতম একজন তাই এ ভাষা যতোদিন রবে রবীন্দ্রনাথও ততোদিন চর্চায় থাকবেন হয়ত।

মন্তব্য করুন