পটুয়াখালীতে ঝুঁকি নিয়েই স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন কমিউনিটি প্যারামেডিকরা

প্রকাশিত: ১১:২৫ অপরাহ্ণ, মে ২, ২০২০

পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ দেশে মরনঘাতী করোনা ভাইরাস কোভিড – ১৯ সংক্রমনে সরকারী হাসপাতাল, কমপ্লেক্স সহ প্রাইভেট ক্লিনিক সমূহে চিকিৎসা সেবা বন্ধ রেখে সবাই লকডাউনে চলে যায়।সেই মূহুুর্তে বেসরকারী আস্থা প্রকল্প সুইসকন্টাক্ট এর উদ্যোগে ও সার্বিক সহযোগিতায় জেলা শহরসহ উপজেলা ও ইউনিয়নের তৃণমূল পর্যায় কমিউনিটি প্যারামেডিকরা ঝুঁকি নিয়ে তাদের স্ব স্ব চেম্বারে স্বাস্থ সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

করোনা মহামারির মধ্যেই বর্তমান সরকারের দেওয়া নির্দেশ ও জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করছেন কমিউনিটি প্যারামেডিকরা। প্রান্তিক জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন এ চিকিৎসকরা। নিরলসভাবে তৃণমূল জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে যাচ্ছেন কমিউনিটি প্যারামেডিকরা।করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা উপেক্ষা করে তাঁরা কাজ করে যাচ্ছেন।

কমিউনিটি প্যারামেডিকরা করোনার ভয়াবহতা সম্পর্কে মানুষকে বোঝানোর পাশাপাশি জনগণকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। হাতের কাছে এমন চিকিৎসাসেবা পেয়ে জনগণও বেশ খুশি। প্যারামেডিকরা শুধু তাদের চেম্বারেই চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন না। তারা বিভিন্ন সরকারী হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তারদের সাথে সহকারী হিসাবে স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে সাহসিকতার পরিচয় দিচ্ছে কমিউনিটি প্যারামেডিক স্বাস্থ্য কর্মীরা।

আজ ০২ মে শনিবার সকালে শহরের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, পুরান বাজার অগ্রনী ব্যাংক রোডস্থ কমিউনিটি প্যারামেডিক ২৫০ শয্যা বিশিস্ট পটুয়াখালী হাসপাতাল থেকে বিশেষ প্রশিক্ষন প্রাপ্ত খোকন দাস রহিতকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পিপিই পরে তার চেম্বারে সাধারন রোগীদের সেবা দিতে। খোকন দাস রহিত জানান, দেশে করোনা সংক্রমনে অনেক হাসতাল ও ক্লিনিক গুলো বন্ধ থাকলেও তার চেম্বার খোলা রেখে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাধারন রোগীদের চিকিৎসা সেবার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।

আস্থা প্রকল্প সুইস কন্টাক্ট এর প্রজেক্ট অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, কমিউনিটি প্যারামেডিক স্বাস্থ্য কর্মীরা করোনা ভাইরাস কোভিড ১৯ সংক্রমনের আতঙ্কে প্যাকটিশনার, ডাক্তাররা লকডাউনে, তখন কমিউনিটি প্যারামেডিক কর্মীরা ঝুঁকি নিয়ে তাদের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রেখে সাহসী স্বাস্থ্য যোদ্ধা হিসাবে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করে আসছেন।

তিনি জানান, ২৫০ শয্যা বিশিস্ট পটুয়াখালী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ এম মতিন কর্তৃক দেয়া চিঠির ভিত্তিতে ২৫০ শয্যা বিশিস্ট পটুয়াখালী হাসপালে চারজন প্যারামেডিক ইয়াসমিন, মামুন, সুলতান মাহমুদ হাসপাতালের ডাক্তারদের সাথে সার্বক্ষনিক রোগীদের সেবা দিয়ে আসছেন। এ ছাড়াও প্যারামেডিক আরিফ হোসেন করোনা রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে স্বাস্থ্য যোদ্ধার ভূমিকা পালন করে আসছে। এভাবে জেলা শহরসহ উপজেলা ও ইউনিয়নের তৃণমূলে প্যারামেডিকরা তাদের চেম্বারে বসে সাধারন রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

আস্থা প্রকল্প সুইস কন্টাক্ট এর প্রজেক্ট অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম আরও জানান, করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় স্বাস্থ্য কর্মী ও চিকিৎসকরা নিরাপদে সুরক্ষায় থেকে করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে পারে তার জন্য পটুয়াখালী জেলায় ১১০ জন কমিউিনিটি প্যারামেডিকসহ ২৫০ জন চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিস্ট স্বাস্থ্য কর্মীকে আস্থা প্রকল্প সুইস কন্টাক্ট এর পক্ষ থেকে পিপিই সরবরাহ করা হয়েছে। অনুরূপ আস্থা প্রকল্প সুইস কন্টাক্ট এর পক্ষ থেকে বরগুনা জেলায়ও পিপিইসহ হ্যান্ড স্যানিচাইজার সরবরাহ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

এমএম/পাবলিকভয়েস

মন্তব্য করুন