মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ ২ শতাধিক প্রবাসী আটক

প্রকাশিত: ১:৩৫ অপরাহ্ণ, মে ২, ২০২০

মালয়েশিয়ায় দুটি লকডাউন ভবন থেকে বাংলাদেশিসহ ২শতাধিক প্রবাসীকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ।

শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে নয়টায় দেশটির ইমিগ্রেশন পুলিশ ও সেনা বাহিনীর তিন শতাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মসজিদ ইন্ডিয়া ও মেনারা সিটি ওয়ানে অভিযান চালিয়ে অভিবাসিদের আটক করে। কেনইবা তাদের আটক করা হয়েছে ,অভিবাসন বিভাগের পক্ষ থেকে এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত কিছুই জানানো হয়নি।

তবে অভিযানের সময় অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক খায়রুল দাজাইমি দাউদ খোদ নিজেই অভিযানে উপস্থিত ছিলেন।

মালয়েশিয়ার দৈনিক হারিয়ানে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, আটককৃতদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইনের ১৯৫৯/১৯৬৩ ধারায় গ্রেফতার দেখানো হতে পারে।

এদিকে, চলমান মুভমেন্ট কন্ট্রোলের মধ্যে এবং ১ লা মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে অভিবাসী কর্মীদের আটকের ঘটনায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। নিন্দা জানিয়েছেন অনেক সংগঠন।

মালয়েশিয়ার তেনেগানিতা (এনজিও) বলছে, পবিত্র রমজান মাসে অভিবাসীদের আটক অমানবিক ও নিষ্ঠুর। চলমান কোভিড -১৯ প্রাদুর্ভাব রোধ করতে, এই সময়ে আটকে রাখার জন্য পদক্ষেপগুলি প্রয়োজনীয়, কিন্তু এই প্রাদুর্ভাবকে প্রতিহত করতে অন্যদের মতো এই লোকগুলিও নিশ্চিত ভাবে সমান চ্যালেঞ্জ এর মুখোমুখি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এই গণগ্রেপ্তার অযৌক্তিক এবং এটিই একমাত্র সমাধান নয় বলে মনে করছে সংস্থাটি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মসজিদ ইন্ডিয়া ও মেনারা সিটি ওয়ানে অভিযান নিয়ে তেনাগানিতা বলছে, মালয়েশিয়ায় লক্ষ লক্ষ অনিবন্ধিত অভিবাসীদের কার্যকরভাবে মোকাবেলায় আরও স্বচ্ছ পদ্ধতির প্রয়োজন। এর জন্য সরকারী সংস্থা এবং মন্ত্রণালয় ছাড়াও বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ এবং স্টেকহোল্ডারদের অংশীদারমূলক প্রচেষ্টার মাধ্যমে এর সমাধান খুঁজতে কবে। তবে যখন মানুষের জীবন মারাত্মক মহামারীর হুমকির মুখে, তখন এটি করার সময় নয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে পবিত্র রমজান মাসের রোজা পালন করা মুসলিম সম্প্রদায়ের বহু লোক রয়েছে, এই গণহারে ক্র্যাকডাউন চালিয়ে যাওয়া নীতিগতভাবে একটি নির্মম কাজ। এর বাইরেও, এই অপারেশনের সময় অপ্রাপ্তবয়স্কদেরও গ্রেপ্তার করার বিষয়টি আরও ঘৃণ্য। যার মধ্যে ১ বছরের কম বয়সী শিশুও ছিল।

টেনাগানিতা বর্তমান সরকারের উদ্দেশ্য এবং মূল্যবোধকে প্রশ্নবিদ্ধ উল্লেখ করে। এমন কার্যক্রম প্রতিটি ব্যক্তির মৌলিক মানবাধিকারকে উপেক্ষা করছে ।

তেনাগানিতার নির্বাহী পরিচালক গ্লোরিনি এ দাস বলছেন, গত “রি-হায়ারিং প্রোগ্রাম” চলাকালীন সময়ে কয়েক হাজার অভিবাসী কর্মী যারা কেডিএনকে কয়েক লক্ষ রিঙ্গিত প্রদান করেছে তাদের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য কিনা? আজ অবধি, সরকার (যদিও সরকারগুলি পরিবর্তিত হয়েছে, তবে একই ব্যক্তিরা আজ নেতারা) প্রোগ্রামটির ব্যর্থতা এবং অভিবাসী শ্রমিকদের ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার জন্য দায়বদ্ধ হতে অস্বীকার করেছে।

যে সকল অভিবাসী শ্রমিকরা তেনাগণিতার সহায়তা চেয়েছিলেন তাদের প্রতিবেদন অনুসারে, পুরো রি-হায়ারিং প্রোগ্রামটি অদক্ষতা ও দুর্নীতির সাথে হয়েছিল। ফলস্বরূপ, এর শিকার হওয়া প্রায় অর্ধ মিলিয়ন অভিবাসী শ্রমিকের কাছ থেকে অর্থে আদায়ের জন্য সরকার-স্পনসরিত কেলেঙ্কারী হিসাবে আখ্যায়িত করা যেতে পারে । তারা কেবল তাদের অর্থ এবং পাসপোর্ট হারায় নাই, তাদের নিজের কোনও দোষ না থাকলেও তারা অবৈধ থেকে যায় এবং তাদের আটকে রাখা হয়, আদালতে অভিযুক্ত করা হয় এবং নির্বাসিত করা অব্যাহত থাকে।

তিনি বলেন, ” যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং আটক হয়েছেন তাদের মধ্যে অনেকে বৈধ হিসাবেই এই দেশে এসেছেন কিন্তু তারা অবৈধ এবং প্রশাসনিক অপরাধের জন্য ইমিগ্রেশন আইনের অধীনে অপরাধী হিসাবে বিবেচিত হবে, যার জন্য আমরা খুব সুপরিচিত। এবং একথা আবার আমাদের মনে রাখা উচিত যে “কোনও মানুষ ‘অবৈধ’ হতে পারে না।”

এদিকে, রি-হায়ারিং প্রোগ্রামের শেষের দিকে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মুহা. শহিদুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট দফতরে চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছিলেন, রি-হিয়ারিং প্রোগ্রাম চলাকালে বাংলাদেশি অবৈধ কর্মীরা সরকারের এ আহবানে সাড়া দিয়ে বৈধ হওয়ার জন্য আবেদন করেও প্রতারণার শিকার হয়েছে। তাদের বৈধ করে নেয়ার আহবান জানালে আশ্বাস দেয়া হয়েছিল। কিন্তু পটপরিবর্তনে আর কিছুই হলনা।

এছাড়া প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে চলমান মুভমেন্ট কন্ট্রোল সময়ে বৈধ অবৈধ বাংলাদেশি কর্মীদের চিকিৎসা নিশ্চিত ও অবৈধদের গ্রেফতার না করতে মালয়েশিয়া সরকারকে অনুরোধ ও জানিয়েছিলেন হাইকমিশনার।

#আরআর/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন