আমার জীবনে সর্বোচ্চ নৈতিকতা শিখেছি মসজিদ থেকে : ব্যারিস্টার সুমন

প্রকাশিত: ৮:২৭ অপরাহ্ণ, মে ১, ২০২০

সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ও সমাজসেবক ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলেছেন – আমার জীবনে আমি সর্বোচ্চ নৈতিকতা শিখেছি মসজিদ থেকে এবং মসজিদের ইমামদের থেকে। আমি আমার বাড়ির পাশের মসজিদ এবং মক্তবসহ বিভিন্ন ওয়াজ-মাহফিল থেকে যে মানবিকতার শিক্ষা পেয়েছি তা এখনও আমি মনে ধারণ করি।

তিনি বলেন- আমার মা আমাকে শিখিয়েছেন- “কোন মানুষের উপকার করতে পারো না পারো কোন মানুষের ক্ষতি করবা না কখনও।” একই সাথে তিনি বলেন – আমরা যারা নিজেদেরকে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহী ওয়াসাল্লাম এর উম্মত দাবি করি আমরা কখনই মানুষের বিপদে মানুষকে ছেড়ে যেতে পারি না।

করোনাভাইরাস মহামারিতে আজ শুক্রবার নিজ এলাকা চুনারুঘাট পৌরসভার সব মসজিদের ইমাম মুয়াজ্জিনদের মধ্যে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসসহ ঈদের উপহার সামগ্রী ও নগদ অর্থ বিতরণকালে এসব কথা বলেন তিনি। নিজ বাড়ির ছাদে ইমাম মুআজ্জিনদের দাওয়াত করে উপহার সামগ্রি বিতরণ করেন তিনি।

বিতরণের আগে তিনি ধন্যবাদ জানিয়ে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের উদ্দেশ্য করে বলেন- আপনাদের প্রতি আমার দুর্বলতা কারণ হলো, আপনারা আমাকে নৈতিকতা শিখিয়েছেন। যে জায়গার উপর দাঁড়িয়ে মানুষ আমাকে ফলো করে তা হলো- তারা মনে করে আমার মধ্যে কিছু না কিছু নৈতিকতার রয়েছে এবং আমি স্পষ্টভাবে বিশ্বাস করি আমার মধ্যে এই নৈতিকতার এই শিক্ষা যতটা না আমি স্কুল-কলেজ থেকে পেয়েছি তার থেকে বেশি পেয়েছি আমার বাড়ির পাশের মসজিদের মক্তব থেকে, মসজিদের ইমামদের থেকে।

একই সাথে তিনি বলেন- আমি অসংখ্য ওয়াজ-মাহফিলে গিয়েছি যেখান থেকে আমি নৈতিকতার সর্বোচ্চ শিক্ষাগ্রহণ করতে পেরেছি। তিনি বলেন এ সব জায়গা থেকে আমি যেই মানবিক কথাগুলো শিখেছি সেগুলো এখনও আমার মনে রেখাপত করে আছে।

করোনা মহামারীর এই সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কওমী মাদ্রাসায় সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন- করোনার এই বিপর্যয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কওমী মাদ্রাসার জন্য প্রায় ৮ কোটি টাকার বরাদ্দ দিয়েছেন যারা সঠিকভাবে উপযুক্ত মানুষের হাতে পৌঁছে যাবে এবং আপনারাও জানতে পারবেন।

মানুষের বিপদে সদাসর্বদা সাহায্য করার জন্য আমি সদা প্রস্তুত আছি উল্লেখ করে ব্যারিস্টার সুমন বলেন- চুনারুঘাট এলাকার যেকোনো মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের যেকোন বিপদে এবং যারা অসহায় রয়েছেন তারা তাদের যে কোনো সমস্যায় আমার কাছে এলে আমি আমার সর্বোচ্চ সাধ্যমত সাহায্য করার চেষ্টা করব। আমার বাড়ির পাশের স্কুলের মধ্যে প্রায় ১২ টন চাল এবং দুই তিন লাখ টাকার ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় অসংখ্য জিনিসপত্র আমি রেখে দিয়েছি। ঢাকা থেকে আমি যা টাকা-পয়সা নিয়ে এসেছিলাম সব কিছু দিয়েই আমি নিত্যপ্রয়োজনীয় ত্রান কিনে রেখেছি আমার এলাকার গরিব এবং অসহায় মানুষদের জন্য।

ব্যারিস্টার সুমন বলেন- আমি মনে করি মানুষদের মধ্যে তিনিই উত্তম যিনি মানবতার পথে বের হন এবং মানুষকে বলেন যাহা সঠিক এবং নিষেধ করেন ওই সমস্ত বিষয় থেকে যাহা সঠিক নয়।

তিনি বলেন, আমি একজন মুসলমানের সন্তান এবং আমি আমার মায়ের কাছ থেকে শিখেছি তুমি কারো ভালো করতে পারো না পারো কারো ক্ষতি অন্তত করবা না। আমি একজন ব্যারিস্টার, আমি চাইলে মানুষকে অনেক ধরনের সমস্যা মামলা-মোকদ্দমা দিয়ে ফেলতে পারি। কিন্তু আমাকে যখন আল্লাহ তায়ালা যখন আমাকে ক্ষমতা দিয়েছেন তখন থেকেই আমি মনে করি আমার নৈতিকতার জায়গাটা সবসময় ঠিক থাকা উচিত।

করোনা দুর্যোগের এই সময় বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার দুরাবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন সারা বাংলাদেশে আমাদের জন্য মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট দরকার প্রায় সাড়ে ৩ লাখ কিন্তু সেখানে আছে মাত্র ৫ হাজার। এই করোনা মহামারী যেভাবে আমেরিকা এবং বিভিন্ন জায়গায় মানুষকে মারতেছে সে ভাবে যদি আমাদের দেশে ঐ করানোর প্রকোপ বৃদ্ধি পায় তাহলে হাজার হাজার মানুষ মৃত্যুর মিছিলে যোগ দেবে।

তিনি বলেন, আমি মনে করি আমরা যে পাপ করেছি এখন সেই পাপের ফল ভোগ করতেছি। আমরা গাছ কেটে নিয়েছি রাস্তা থেকে বালু উঠিয়ে নিয়েছি। এসব পাপের শাস্তি আমরা ভোগ করতেছি।

ব্যারিস্টার সুমন বলেন – আমি সবসময়ই দুর্নীতির বিরুদ্ধে সদা সোচ্চার রয়েছি। হয়তো মানুষ আমার কথা এজন্যই শুনে যেহেতু আমি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলি। আমি আওয়ামী লীগ করি এটা আপনারাও জানেন কিন্তু আওয়ামী লীগের মধ্যে যারা দুর্নীতিবাজ তাদের ব্যাপারে আমি সবসময় সোচ্চার হয়ে কথা বলেছি। আমি স্পষ্টভাবে বলেছি যে আদর্শ এবং দূর্নীতি একসাথে চলতে পারে না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দুর্নীতিবাজ ছিলেন না। যদি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করতে হয় তাহলে অবশ্যই দুর্নীতি ছাড়তে হবে।

ভিডিও দেখুন :

আরআর/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন