ক্ষুধার্ত সন্তানকে সান্ত্বনা দিতে পাথর রান্না মায়ের!

প্রকাশিত: ১০:৪১ অপরাহ্ণ, মে ১, ২০২০

মহামারি রূপ নেওয়া করোনাভাইরাসের কারণে বিপর্যস্ত পুরো বিশ্ব। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে, মানুষের জীবন বাঁচাতে লকডাউন ঘোষণা করেছে অনেক দেশের সরকার। আর এই বিধিনিষেধের কারণে জীবিকা নির্বাহের উপায় বন্ধ হয়ে গেছে অনেক মানুষের। বিশ্ব অর্থনীতির ধ্বসের সঙ্গে সঙ্গে প্রতীয়মান হচ্ছে বিশ্বব্যাপী দুর্ভিক্ষের। এই দুর্ভিক্ষের চিত্রই যেন ফুটে উঠেছে কেনিয়ার উপকূলীয় মোম্বাসা শহরের একটি পরিবারে।

ঘরে নেই কোনো খাবার। সরকারি বিধিনিষেধের কারণে একমাত্র উপার্জনের পথটিও বন্ধ। তাই ক্ষুধার্ত সন্তানদের সান্ত্বনা দিতে উপায় না পেয়ে পাতিলে পাথর রেখে রান্নার অভিনয় করেছেন এক মা। এই আশায়, বাচ্চারা খাবারের অপেক্ষা করতে করতে এক সময় ঘুমিয়ে পড়বে!

এমনই এক মর্মস্পর্শী ঘটনা নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

পেনিনা বাহাতি কিতসাও নামের ওই নারীর স্বামী মারা গেছেন গত বছর। তারপর থেকে একটি লন্ড্রির দোকানে কাজ করে ৮ সন্তানকে নিয়ে কোনোরকমে বেঁচে আছেন তিনি। করোনাভাইরাস হানা দিলে লকডাউন ঘোষণা করা হয় ওই অঞ্চল। লন্ড্রির দোকানটিও বন্ধ হয়ে যায়। কিছুদিন পাড়াপ্রতিবেশীদের কাছ থেকে চেয়েচিন্তে খেলেও এখন আর কেউ তাকে খাবার দিতে চায় না। অসহায় হয়ে পড়েন এই জননী।

ওদিকে ক্ষুধায় চিৎকার করতে থাকে সন্তানরা। উপায় না পেয়ে তাদেরকে ধোঁকা দেওয়ার পথ বেছে নেন তিনি। হাড়িতে পাথর তুলে জ্বালাতে থাকেন আর সন্তানদের প্রবোধ দিতে থাকেন মা কিতসাও। হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি দেখতে পান এক প্রতিবেশি। তিনিই বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমকে অবহিত করেন।

এরপর মুহূর্তেই পাল্টে যায় কিতসাও-এর জীবন। পাড়া-প্রতিবেশী সবাই এগিয়ে আসে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এসে খাবার দিয়ে যান। এগিয়ে এসেছে আন্তর্জাতিক সংস্থা রেড ক্রসও। কিতসাও বলেন, আমি এতদিন বিশ্বাস করতাম না, কেনিয়ার মানুষ এভাবে অসহায়ের পাশে দাঁড়াতে পারে। আমার ভুল ভেঙে গেছে। প্রচুর সাহায্য পেয়েছি। সবাইকে ধন্যবাদ।

পূর্ব আফ্রিকার দেশ কেনিয়াতে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৪০০ জন। মারা গেছেন ১৭ জন। সুস্থ হয়েছে উঠেছেন ১৪৪ জন। ১৩ মার্চে দেশটিতে প্রথম করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। প্রথম মারা যায় ২৭ মার্চে।

এমএম/পাবলিভয়েস

মন্তব্য করুন