সরকারি অনুদান : প্রয়োজন নেই হাটহাজারীর, প্রত্যাখ্যান মেখল মাদরাসার

প্রকাশিত: ৯:২০ অপরাহ্ণ, মে ১, ২০২০

করোনাভাইরাস মহামারির এই সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে দেশের ৬,৯৫৯ টি কওমী মাদ্রাসাকে ৮ কোটি ৩১ লাখ ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের প্রধান কওমী মাদরাসা দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার পক্ষ থেকে এক ঘোষণায় জানানো হয়েছে ‘দারুল উলূম হাটহাজারী স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও স্বকীয়তার উপর বহাল, সরকারি অনুদানের প্রয়োজন নেই’।

তবে হাটহাজারী মাদরাসার পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, এটা কেবল হাটহাজারী মাদরাসা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত। সম্মিলিত কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ ও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া (বেফাক) কর্তপক্ষ অন্যান্য মাদরাসার জন্য আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানাবে।

অপরদিকে চট্টগ্রামের আর এক প্রসিদ্ধ মাদরাসা জামিয়াতুল ইসলামিয়া হামিয়ুচ্ছুন্নাহ মেখল মাদরাসার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া ২০ হাজার টাকার অনুদান প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ।

দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে এবং মেখল মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক ও সহকারী দারুল ইকামা মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়জীর ফেসবুক আইডি থেকে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের বরাতে প্রকাশ করা হয়েছে মর্মে এই তথ্য জানা যায়।

হাটহাজারী মাদরাসার ঘোষণায় বলা হয় –

কওমী মাদরাসার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও স্বকীয়তা সর্বজনবিদিত। কওমী মাদরাসা হলো, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত এবং দারুল উলূম দেওবন্দের আদর্শ, মূলনীতি ও মতপথের অনুসরণে মুসলিম জনসাধারণের আর্থিক সহায়তায় উলামায়ে কেরামের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত ইলমে ওহীর শিক্ষাকেন্দ্র।

কওমী মাদরাসা ঈমান, তাকওয়া ও তাওয়াক্কাল আলাল্লাহ এর উপর প্রতিষ্ঠিত এবং আকাবিরে দেওবন্দের চিন্তা-চেতনার অনুসরণ ও তালীম তরবিয়াতসহ জীবনের সকল ক্ষেত্রে দারুল উলূম দেওবন্দের মূলনীতি, আদর্শ ও কর্মপদ্ধতির অনুসরণকারী দীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

তাই জামেয়া দারুল উলূম হাটহাজারী ও তার (মুলহাকাহ) অনুসারী মাদরাসাসমূহ সরকার কর্তৃক ঘোষিত কোন অনুদান গ্রহণ করবে না। তাই কোন কওমী মাদরাসা কর্তৃপক্ষ যেন এই অনুদানের বিষয়ে সংশয় ও সন্দিহানের মধ্যে না থাকে। (এরপরও যদি কেউ গ্রহণ করে থাকেন এটা একান্তই তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার।)

তাছাড়া কওমী মাদরাসার সনদের স্বীকৃতির বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ঘোষিত গেজেটের ২ এর ১ নং ধারা এবং ২ এর (ঙ) এর ধারা অনুযায়ী কোন কওমী মাদরাসা সরকারি অনুদান গ্রহণ করতে পারে না।

(বি.দ্র.) সম্মিলিত কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ ও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া (বেফাক) কর্তপক্ষ অন্যান্য মাদরাসার জন্য আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানাবে। এটা জামেয়া দারুল উলূম হাটহাজারীর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত।

হাটহাজারী মাদরাসার ঘোষণা

জামিয়াতুল ইসলামিয়া হামিয়ুচ্ছুন্নাহ মেখল মাদরাসার ঘোষণায় কৈফিয়ত আকারে বলা হয় –

আজ (৩০ এপ্রিল) বিভিন্ন নিউজ মারেফত জানলাম যে হাটহাজারী ইউএনও মহোদয় বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষানিকেতন জামিয়া হামিউচ্ছুন্নাহ মেখলের জন্য হাটহাজারীর ২৪টি কওমী / আলিয়া মাদ্রাসার সাথে ২০,০০০ হাজার টাকা সরকারি সাহায্য বরাদ্দ করেছেন।

এই ক্ষেত্রে জামিয়া হামিউচ্ছুন্নাহ মেখল কতৃপক্ষের বক্তব্য হলো প্রতিষ্ঠার ৯১ বছরে জামিয়া হামিউচ্ছুন্নাহ মেখল কোন দিন কোন ধরনের সরকারি সাহায্য গ্রহন কররেনি, এমনকি বিগত ১৯৯১ ইং সাল থেকে ২০১৮ পর্যন্ত প্রায় দশবার জামেয়ার নামে বিভিন্ন সরকারি বরাদ্দ আসলে ও জামিয়া কর্তৃপক্ষ সবিনয় তা ফেরত দিয়েছে, গ্রহন করেনি। দ্বিতীয়তো মেখলে কোন এতিম খানা নেই এটা মেখলের নাম ও নয়। মেখলের পুর নাম হলো আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া হামিউচ্ছুন্নাহ মেখল, এতিম খানা নয়। তৃতীয়তো জামিয়া হামিউচ্ছুন্নাহ কতৃপক্ষ কোন ত্রানের জন্য আবেদন করেনি, তাই এই ভাবে না জানিয়ে জামিয়া হামিউচ্ছুন্নাহ মেখলের নাম ত্রান বরাদ্দের তালিকায় দেওয়াতে জামিয়া কতৃপক্ষ অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছে।

আমরা ত্রান বরাদ্দেরর জন্য উপজেলা নির্বাহি অফিসার জনাব রুহুল আমিন সাহেবকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলতে চাই, ভবিষ্যতে এই ভাবে কোন তালিকা করার আগে যেন কতৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হয় এবং ত্রান বরাদ্দের টাকা গুলো কে অন্য কোথাও দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে। বিনীত : কর্তৃপক্ষ, জামিয়া হামিউচ্ছুন্নাহ মেখল।

মেখল মাদরাসা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য :

সংশ্লিষ্ট সংবাদ :

৬,৯৫৯ কওমী মাদরাসায় ৮ কোটি ৩১ লাখ টাকা অনুদান প্রধানমন্ত্রীর

সহায়তা পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করলেন কওমী শিক্ষকরা

কওমী মাদরাসায় অনুদান দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ আল্লামা মাসউদের

কওমী মাদরাসা কোনো সরকারি অনুদান নেবে না : ৭১ আলেমের বিবৃতি

রাষ্ট্র-ব্যক্তি সম্পর্কের বোঝাপড়া ; প্রেক্ষিত কওমী মাদ্রাসায় ‘অনুদান’ বিতর্ক

এইচআরআর/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন